প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভ কামনা

মোঃ মেহেদী হাসান ।। প্রিয় সমাপনী পরীক্ষার্থীরা তোমরা নিশ্চয় মহান স্রষ্টার ইচ্ছায় ভালো আছ। এই বছরে তোমরা তোমাদের জীবনের প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছ। এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে রয়েছে অনেক কৌতূহল, স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ভালো ফলাফল পাওয়ার প্রত্যাশা। এই শিক্ষার্থীরা হাঁটি হাঁটি, পা পা করে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং প্রায় সাড়ে ১১ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তারা ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ইং (রোববার) তারিখে সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) অংশগ্রহণ করবে। সব পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য রইল শুভ কামনা। সুস্বাস্থ্য এবং আমার ছোট ভাইতুল্য পরীক্ষার্থীরা চূড়ান্ত ফলাফলে কাংক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে- এই আমার আশা ও কামনা।
সমাপনী পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ :
১. পরীক্ষার আগের রাতে বেশি রাত জেগে পড়াশোনা করবে না। কারণ বেশি রাত করে ঘুমালে, পরের দিন পরীক্ষার হলে/কক্ষে যেতে দেরি হতে পারে, মাথা ব্যথা করতে পারে অথবা পরীক্ষার হলে/কক্ষে ঘুম আসতে পারে।
২. পরীক্ষার দিন অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে (বাসা হতে পরীক্ষার কেন্দ্রের দূরত্ব হিসাব করে অভিভাবকগণ সিদ্ধান্ত নিবেন) বাসা থেকে বের হতে হবে। কারণ সচরাচর সে দিন রাস্তায় অনেক যানজট থাকে যা তোমাকে টেনশন বা বিচলিত করে তুলবে, ফলে তুমি অস্থির হয়ে যাবে।
৩. পরীক্ষার খাতায় নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইত্যাদি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করবে।
৪. উত্তরপত্রের বামে ও উপরে ১ ইঞ্চি (আনুমানিক) পরিমাণ মার্জিন করবে।
৫. বিভিন্ন রঙের কলম বা সাইনপেন ব্যবহার না করে রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় পয়েন্টগুলো নীল কালির কলম দিয়ে প্রশ্ন নম্বর ও আন্ডার লাইন করবে এবং বর্ণনা কালো কালি দিয়ে লিখবে, পয়েন্টগুলো প্যারা করে লিখবে।
৬. প্রশ্ন পাওয়ার পর সম্পূর্ণ প্রশ্নটি পড়ে বুঝে যে প্রশ্নের উত্তরগুলো ভালোভাবে পার, সেগুলোর উত্তর লিখবে প্রথমে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখার আগে অবশ্যই সেই প্রশ্নের দাগ নম্বরটি স্পষ্ট করে লিখবে।
৭. বহু নির্বাচনী প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রশ্নের উত্তরগুলো প্রায়ই কাছাকাছি (Similar) থাকে। তাই প্রতিটি প্রশ্ন অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে ৪টি উত্তর ও মনোযোগ সহকারে পড়বে। এরপর সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করবে।
৮. বহুনির্বাচনী (MCQ) প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় নিচে নিচে লিখবে। পাশাপাশি লেখা থেকে বিরত থাকা ভালো। কোনো প্রশ্নের উত্তর নির্বাচনে সন্দেহ দেখা দিলে প্রথমে নিশ্চিত ভুল উত্তরগুলো নির্দিষ্ট করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে সঠিক উত্তরটি সহজেই অনুমান করা সহজ হবে।
৯. পরীক্ষায় অতিরিক্ত কাগজ (লুজ শিট)-এর প্রয়োজন হলে, নির্ভয়ে দায়িত্বরত শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অতিরিক্ত কাগজ চেয়ে নিবে এবং স্বাক্ষর করিয়ে নিবে।
১০. কোথাও ভুল হয়ে গেলে সেটি একটানে কেটে দিয়ে পুনরায় লিখবে এবং কোনো প্রকার ঘষামাজা এবং ওভাররাইটিং করবে না।
১১. প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখার মাঝে একটু জায়গা ছেড়ে দিবে। কারণ পরিচ্ছন্ন সুন্দর উত্তরপত্র সব শিক্ষকের/পরীক্ষক-নিরীক্ষকের পছন্দ। সময়ের বিষয়ে শিক্ষার্থীর সচেতনতা থাকতে হবে।
খাতা জমা দেয়ার পূর্বে যা করবে :
১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিট আগে লেখা শেষ করতে হবে। তারপর আবার নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইত্যাদি সতর্কতার সঙ্গে নিরীক্ষণ/চেক করবে।
২. প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের প্রাথমিক লাইনগুলো সঠিক হয়েছে কিনা পড়বে। কারণ প্রথম ২/৩ লাইন পড়লে বুঝা যায় তোমার উত্তরের মান কিরূপ? এতে তোমাকে অধিক নম্বর পেতে সাহায্য করবে।
৩. সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছ কিনা নিরীক্ষণ/চেক করে নাও।
৪. পরীক্ষায় অতিরিক্ত কাগজ বা লুজ শিটের উত্তর দায়িত্বরত শিক্ষকের স্বাক্ষর আছে কিনা এবং সেলাই বা স্টাপল করা হয়েছে কিনা তা দেখে দায়িত্বরত শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হবে।
অভিভাবকদের প্রতি জরুরি পরামর্শ :
১. আপনার সন্তানরা যেন কোনো চাপে না থাকে, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম যেন নিয়মিত হয়- সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখুন। তবেই সন্তান সুস্থ থেকে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হবে।
২. পরীক্ষার আগের দিন যে স্কুলে আসন পড়েছে, সম্ভব হলে সে স্কুলে আপনার সন্তানকে নিয়ে একটু ঘুরে আসুন। এতে আপনার সন্তানের অচেনা জায়গার ভীতি কমে যায় এবং সহজেই আসন খুঁজে পাওয়া যায়।
৩. পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন- কলম ৩/৪টি, রাবার, স্কেল, পেন্সিল, প্রবেশপত্র, এক বোতল পানি- এ সব একটি বক্স বা স্বচ্ছ ব্যাগে সুন্দর করে রাতেই গুছিয়ে রাখুন।
৪. ‘প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে’ এই কথা বা গুজবে অভিভাকগণ বিভ্রান্ত না হয়ে স্বাভাবিক থাকার অনুরোধ করছি।
সব শিক্ষার্থীর জন্য শুভ কামনা রইল। তোমরা এগিয়ে যাও- সাফল্য তোমার হাতের মুঠোয়।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ