জয়তু আনিসুল হক : জীবন তাপস তন্ময়

আনিসুল হক। প্রিয় মানুষ। স্বপ্নবাজ। আত্মপ্রত্যয়ী। স্মার্ট। ব্যক্তিত্ব পরায়ণ। পরিশীলিত ও বিচক্ষণ। সুন্দর মন ও মননচারী। কখনই দেখা হয়নি। সরাসরি। তবুও এই মানুষটিকে আমি সম্মান করি। পছন্দ করি। ভালোবাসি। ঈর্ষা করি।

আনিসুল হক যখন মেয়র মনোনয়ন পান, সবাই অবাক! সম্পূর্ণ রাজনীতি বিমুখ একটা মানুষ। দল করেননি। গণমানুষের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন না। রাজনীতির মাঠে। ব্যবসায়ী। শিল্পপতি। গার্মেন্টস মালিক। ব্যবসায়ী নেতা। তাঁকে কিনা দেশরত্ন শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিলেন! মেয়র হিসেবে। দল না করেও দল মনোনীত মেয়র। দলীয় লোকজন কপালে মাথা চোখ তুলে দেন। আনিসুল হককে দিলেন মনোনয়ন? মেয়র হিসেবে? দলের নিবেদিত নেতারা মুখিয়ে থাকতে? দেশনির্বাহী যে ভুল করেন না, তা সবাই বুঝতে পারে। একটা সময়। যখন তিনি মেয়র। মেয়র প্রার্থী হিসেবে যে পোস্টার পরিকল্পনা করেন, অবাক হয়েছিলাম। অভিনবত্ব ছিল। ডিজাইন ও পরিকল্পনায়। একটা চোখ আঁটকানো ব্যপার ছিল। তিনি যখন মেয়র হিসেবে চমকপ্রদ কিছু করতে উদ্যত, চারদিকে তাঁর শত্রু হয়ে গেছিল। তবুও মাঝে কিছুটা ম্রিয়মান হয়ে গেছিলেন। মনে হচ্ছিল। তবুও আমরা হতাশ হইনি। জানি তিনি পারবেনই! চিকনগুণিয়ার ঢাকা নিয়ে এক মন্তব্যে বিতর্কিত হয়ে গেছিলেন। পরে ক্ষমা চেয়েছেন। ঢাকাবাসীর কাছে। একজন ভালো মানুষের স্বাক্ষর রাখলেন। সবাই খুশি। উপস্থাপক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী নেতা ও সফল মানুষের প্রতীক।

গত ২৯ জুলাই গিয়েছিলেন। লণ্ডনে। আনন্দ উৎসবে যোগ দিতে। নাতির জন্মদিন যাপনে। লণ্ডনে থাকা মেয়ে কানিশা হকের সন্তান। ৪ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনভিপ্রেত। সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে আক্রান্ত হন। মস্তিস্কের রক্তনালীর প্রদাহ। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিত লণ্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে আইসিওতে নেয়া হয়! অবস্থার উন্নতি হয়। ৩১ অক্টোবর তাঁকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়। সবাই আশার আলো দেখছেন। তিনি আবার পুরোদমে কাজ করবেন। প্রিয় ঢাকাকে ঢেলে সাজানোর স্বপ্নযাত্রায় গতিময় হবেন। যা কিছু সত্য সুন্দর ও ন্যায়সঙ্গত, দূর্দান্ত দাপটে তা পদচারিতায় পরিস্ফুট করবেন! অসুস্থতা মানায় না!তাই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠছেন! কিন্তু না, চোখের আলোয় আঁধার তাড়ানিয়া দিন রচিত হয়নি পরিপূর্ণতায়।

সম্প্রতি তিনি আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হয়। আবারও আইসিউ। নিবিড় পর্যবেক্ষণে। এইবার আর ফেরা হয়নি! সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি চলে গেলেন। না ফেরার দেশে! ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লণ্ডনের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই স্বপ্নবাজ কর্মীমানুষ। শুক্রবার বাদ জুমা লণ্ডনে প্রথম জানাযাশেষে শনিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। ঐদিন বাদ জুমা ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় জানাযা হবে। পরে আজন্ম স্বপ্নবাজ কর্মী-করিৎকর্মা মানুষটি চিরাকালী ঘুমে যাবেন। বনানী কবরস্থানে। বিদেহী আত্মার চিরায়ত মুক্তি কামনা। পরিবারের জন্য সমবেদনা।

 

লেখক : সাহিত্যিক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক।

 


আরও পড়ুন

২ Comments

  1. This could be the proper weblog for everyone who is really wants to find out about this topic. You know a great deal of its practically not easy to argue to you (not too I just would want…HaHa). You actually put a whole new spin over a topic thats been revealed for decades. Excellent stuff, just wonderful!

  2. I simply want to tell you that I am just new to blogs and truly liked your blog. Almost certainly I’m likely to bookmark your blog post . You amazingly have terrific articles. Thanks for sharing with us your web-site.

Comments are closed.