নৈশ বিদ্যালয় থেকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম কলেজ

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহী ।। পদ্মাপাড়ে ১৯৮৫ সালে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে স্থাপিত হয় রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গের অন্যতম বেসরকারি বিদ্যাপীঠ বরেন্দ্র কলেজ। প্রথমে এটি নৈশ বিদ্যালয় হিসেবে স্থাপিত হলেও পরে এটি কলেজে রুপান্তরিত হয়। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় কলেজটি আজ উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে  বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আলমগীর মোঃ আব্দুল মালেক।

তিনি বলেন, এখানে মহানগরী ছাড়াও নওগা, বগুড়া, জয়পুরহাট, চাপাইনবাবগন্জ থেকে শিক্ষার্থীরা আসে এবং বেসরকারি কলেজের মধ্যে তাদের প্রথম পছন্দ থাকে এই বরেন্দ্র কলেজ। তিনি ফলাফল সম্পর্কে বলেন অতীতে বাণিজ্য বিভাগে খু্ব ভালো ফলাফল হতো। আর বর্তমানে তিনটি বিভাগ মিলিয়ে একটি সাফল্যজনক রেজাল্ট হয়। যদিও আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারছিনা, এরজন্য বিভিন্ন উদোগ্য গ্রহণ করা হয়েছে যাতে তারা কলেজমুখী ও পাঠ্যপুস্তকমুখী হয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কিছু স্পেশালাইজড প্রতিষ্ঠান যেমন: আর্মি বা সেনাবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া ভালো রেজাল্ট সম্ভব হচ্ছেনা। অন্য সকল প্রতিষ্ঠান বা আমরা চাইলেও সম্ভব হচ্ছেনা কাঙ্ক্ষিত যায়গায় পৌঁছানো। এসবের অনেকরকম কারন এবং সামাজিক বাস্তবতা রয়েছে।

অবকাঠামোগত দিক দিয়ে কলেজটি বেশ উন্নত। ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে রয়েছে বিশাল প্রবেশদ্বার। উত্তর পার্শে রয়েছে সাইকেল গ্যারেজ। প্রবেশদ্বার দিয়ে পুর্বদিকে সোজা হেটে গেলে চোখে পড়ছে ৪ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন। এখানেই পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষে ক্লাস হয়। এছাড়া দক্ষিণ পার্শ্বে ৫তলা বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

পদ্মা পাড়ে ১৯৮৫ সালে ৫একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বরেন্দ্র কলেজ। প্রতিষ্ঠাকালীন ভূমিকা পালন করেছে এ্যাডভোকেট রফিকুল হাসান, নুরন্নবী চাদ, এ্যাডভোকেট মহসিন এবং মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী সহ মহানগরীর বিদ্যুতসাহী ও প্রগতিশীল ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদোগ্য নিয়েছিলেন।

বর্তমানে কলেজে দুই বর্ষ মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ণরত রয়েছে। আর প্রতিবছর প্রায় ১২শ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়। আর শিক্ষক- কর্মচারী আছেন ৭০ জন। ‘মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠের’ সাথে সাক্ষাতকারে তিনি এসব তথ্য জানান।

পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে ডিবেট ক্লাব, এবং সমৃদ্ধ একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাকে বাড়তি জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাচ্ছে।  এছাড়াও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, নবীন বরণ, বিদায় অনুষ্ঠান, তাছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝেমাঝে ধান গবেষণা, গম গবেষণা কেন্দ্র, বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম, বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা ও বধ্যভুমি পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া বছরে একবার শিক্ষাসফর অনুষ্ঠিত হয়

নিরাপত্তা শৃঙ্খলা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে শিক্ষক- কর্মচারী দ্বারা গঠিত ভিজিলেন্স টিম দিয়ে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং নির্ধারিত ইউনিফর্ম ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না। এছাড়া গেটে দুজন গার্ড থাকে এবং পুরো কলেজ ক্যাম্পাসটি সিসিটিভি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই কলেজে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তেমন প্রভাব নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ছাত্র সংগঠন গড়ে উঠেছে । কিন্তু বর্তমানে কলেজ প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক তেমন প্রভাব নেই। এজন্য স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বড় ভূমিকা  রয়েছে। তারা কলেজের পরিবেশ সুষ্ঠু ও শৃঙ্খল রাখার জন্য কলেজ প্রশাসনকে সবরকম সহযোগিতা করে থাকেন বলে জানালেন কলেজ অধ্যক্ষ।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ