নীরু আপা : জীবন তাপস তন্ময়

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
ডিসেম্বর ৮, ২০১৭ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

নীরু আপা। ড. নীরু শামসুন্নাহার। পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। সম্ভ্রান্ত পরিবার। কবি রফিক আজাদের ভাতিজি। লেখক, লোক-সংস্কৃতি গবেষক।

আমাকে তিনি স্নেহ করেন। ছোট ভাইয়ের মতো। দেখা হলেই সস্নেহে ডেকে পাঠান। জাদুঘরে যতোবার গিয়েছি, নিজ অফিসরুমে নিয়ে গেছেন। টিফিন বক্স খুলে আপ্যায়ন করিয়েছেন। নিজ হাতে বানানো খাবার। রুটি, পিঠা বা স্নেক্স জাতীয়। বাসা থেকে আনা।

আজও আম্মাকে নিয়ে গেলাম। জাদুঘরে। সাথে মৃন্ময় ও ইমন। মৃন্ময় আমার ছোট ভাই। ইমন শ্যালক হয়। মামা শ্বশুরের দিককার। বৃহস্পতিবার। সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। ফিরে আসব। গেইটে দেখি শিতলপাটি প্রদর্শনী হচ্ছে। ব্যানারে লেখা। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিতলপাটি বিশ্ব সংস্কৃতির মর্যাদা পেলো। ইউনেস্কো কর্তৃক। এই আনন্দে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অভিনব এক আয়োজন করে। সিলেটের শিতলপাটি প্রদর্শনী করে। জাতীয় জাদুঘরের মাধ্যমে। আম্মাকে নিয়ে ঢুকে গেলাম। জাদুঘরে। ঘুরে দেখি প্রদর্শনী। ঐতিহ্যবাহী শিতলপাটি প্রদর্শন। পুরো প্রদর্শনীটিই দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন নীরু’পা। দেখা হয়ে গেল। আমি ডাকলাম নীরু’পা! আম্মা থামিয়ে দিলেন। আমাকে চিনেন কিনা, দ্বিধা ছিল তাঁর। আবারও ডাকতে ফিরে তাকান। ব্যস্ততা নিয়েও। দেখেই জিজ্ঞেস করেন, ‘আরে তন্ময়! কখন এলে? ফোন দাওনি কেন?’ সাধারণত আমি ফোন দিয়েই যাই। ব্যস্ত মানুষ। সাক্ষাৎ পাওয়াও ভার! আজ আর ফোন দিইনি। ইচ্ছে করেই। পরিচয় করিয়ে দিই, আমার আম্মা। তিনি মায়ের দিকে তাকান। চোখের পাতা পড়ে না।

‘খালাম্মাকে নিয়ে এলে ফোন না দিয়ে? একদম ঠিক হয়নি। চলো বাসায় যাই। দুপুরে খেয়ে যাবে।’ অফিসের কাছেই বাসা। কোয়ার্টারে থাকেন। ব্যস্ততা দেখে আমি সায় দিইনি। বাসায় যেতে। অফিসের কক্ষেও যাইনি। ইচ্ছে করেই। বললাম, আরেকদিন আসবো। আম্মাকে নিয়ে। ঢাকায় থাকেন। আমার সাথেই। আসা যাবে ক্ষণ। মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। জড়িয়ে ধরলেন। এক পর্যায়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আম্মার পায়ে ছুঁয়ে কদমবুসি করলেন।’তোমার দুলাভাই দেখলে খুশি হবেন। খালাম্মা ঠিক আমার শাশুড়ির মত হয়েছে। অবিকল তাঁর মতো লাগছে। একদিন বাসায় এসো। খুশি হব।’ আমি তাঁকে কদমবুসি করে বিদায় নিলাম। কথা দিলাম, আবার দেখা হবে। ফেরার পথে আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলিয়ে দিলাম। সেলফোনে। স্ত্রীকেও দাওয়াত দিলেন। বাসায় আসতে বললেন।

মৃন্ময় ও ইমন অবাক! মায়ের চোখে বিস্ময়। অধ:স্থন কর্মকর্তারাও হা ক’রে আছে! এতো বড় উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা যে সম্মান দিলো আম্মাকে, সবার চোখ কপালে ! আম্মার চোখেও অপার মুগ্ধতা! আহা, সবাই যদি নীরু’পার মত হতো! সহজ আর সুন্দর, দেশটাই এগিয়ে যেতো !

 

লেখক : সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

Comments are closed.

LATEST NEWS
ময়মনসিংহ মেডিক্যালের ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের গোড়াতেই গলদ : কাদের একাদশ সংসদ নির্বাচন : প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তার পদ থেকে সরানো হচ্ছে জাকারবার্গকে ফেসবুকের চেয়ারম্যান থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব! আ.লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায় : গণপূর্ত মন্ত্রী যশোদলে মরহুম আঃ হামিদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন শোলাকিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালের থেকে লাফ দিয়ে নবজাতকসহ প্রবাসীর স্ত্রীর আত্নহত্যা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা জানুয়ারিতে অশুভ শক্তি রুখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: রাষ্ট্রপতি