দাঁড়িয়ে পানি পানের ভয়ঙ্কর কুফল

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
ডিসেম্বর ৯, ২০১৭ ৭:০৫ অপরাহ্ণ

মাওঃ এস.এম.আরিফুল কাদের।। মানুষের উপকারে আল্লাহ পাক যেসব কিছু সৃষ্টি করেছেন; তন্মধ্যে পানি হলো একটি মহান মূল্যবান সৃষ্টি। যা ছাড়া জীবন সম্পূর্ণই অচল। তাইতো বলা হয় “পানির অপর নাম জীবন”। জীবন বাঁচাতে যেমন পানির আবশ্যকতা রয়েছে, ঠিক তেমনি স্বাস্থকে সুস্থ্য রাখতে পানি পানের কিছু বিধানও রয়েছে। জমজমের পানি ব্যতীত সাধারণ পানীয় দাঁড়িয়ে পান করায় মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। মানবদেহের প্রায় ৩ ভাগের ২ ভাগই পানি। পানি ছাড়া মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকাটা অসম্ভব। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা আবশ্যক। আর সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পানি পানের বিকল্প নেই। তাই এ পানি হতে হবে বিশুদ্ধ ু ত্রুটিমুক্ত। বাংলাদেশের শতকরা ২৪ ভাগ রোগ পানিবাহিত। একজন মানুষের সুস্থভাবে জীবন যাপনের জন্য দৈনিক কমপক্ষে ২-৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা প্রয়োজন। গোটা পৃথিবীতে পানযোগ্য পানির পরিমাণ শতকরা ২ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে দেখা গিয়েছে জীবননাশী ক্যান্সার শতকরা ৭৫-৮০ ভাগই পানি এবং পরিবেশ থেকে সৃষ্ট হয়ে থাকে। সর্বশেষ সমীক্ষায় পানিতে সনাক্তকৃত জৈব পদার্থের সংখ্যা প্রায় ৭০০ টি, যার কিছু ক্যান্সার সৃষ্টিতে ভুমিকা রাখে এবং মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের জরায়ু সংক্রান্ত ও মুত্রনালীর বিভিন্ন ধরনের সংক্রমনের জন্য দায়ী। কিন্তু মনে রাখা উচিত, পানি যদি কম পান করা হয়, তাহলে কিডনি শরীরের আবর্জনাগুলো পরিষ্কার করতে পারে না। প্রতিদিন মানুষের শরীর থেকে নির্দ্দিষ্ট পরিমাণে পানি বেরিয়ে যায়। তাই পানি এমনভাবে পান করা উচিত, যাতে শরীরের যথেষ্ট পরিমাণে পানি থাকে। শীত হোক বা গ্রীষ্ম হোক, শরীরে যথেষ্ট পানি থাকা বা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা উচিৎ। এতে রক্ত সঞ্চালনে অসুবিধা হয় না। আয়ুবের্দিক বিশেষজ্ঞ ড.ধনবানত্রির মতে, শুধু বেশি পরিমাণে পানি পান করাই নয়, পানি পান করার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী দাঁড়িয়ে পানি পান করা উচিৎ নয়। এমনকি আপনি যেভাবে পানি পান করবেন, তার উপরে নির্ভর করবে আপনার শরীরের অবস্থা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, কি গতিতে পানি পান করবেন তার উপরেও নির্ভর করবে আপনার স্বাস্থ্য। দাঁড়িয়ে পানি পানে গতি অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে বিভিন্ন রোগের সূচনা ঘটে মানবদেহে। নি¤েœ দাঁড়িয়ে পানি পানের কিছু ভয়ঙ্কর কুফল আলোচনা করা হলো-

১. গেটে বাত (আর্থ্রাইটিস) আশঙ্কা : দাঁড়িয়ে পানি পান করায় পানি পানের গতি বৃদ্ধি পাওয়াতে মানবদেহের যে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো- গেটে বাত (আর্থ্রাইটিস) এর শিকার হতে হয়। কারণ শরীরে থাকা কিছু উপকারী রাসায়নিকের মাত্রা কমে যায়। যার ফলে আর্থ্রাইটিস বা গেটে বাতের রোগীরাসহ সর্বসাধারণ দাঁড়িয়ে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

২. মানসিক চাপ (মেন্টাল স্ট্রেস) বেড়ে যায় : মেডিক্যাল সাইন্সের গবেষণায় দেখা গেছে যে, দাঁড়িয়ে পানি পান করাতে একাধিক ¯œায়ুতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে মানসিক চাপসহ অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে। মানবদেহ দূর্বলতার দিকে ঝুকে পড়ে। এই মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়াতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞগণ বলেন, ভবিষ্যতে এ দেহে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় নিজেকেসহ পরিবারের নানান ক্ষতির সম্ভাবনা করতে পারে।

৩. টক্সিনের পরিমাণ বেড়ে যায় : দাঁড়িয়ে পানি পানে মানবদেহের ভিতরের ছাকনিগুলো (নেফ্রনগুলো) সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে পরিশ্রুত করার কাজে বাধাপ্রাপ্ত হয়। যার কারণে পানিতে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদানগুলো রক্তে মিশতে শুরু করে। এতে মানবদেহে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে একাধিক অঙ্গের উপর তার খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. পাকস্থলীর ক্ষত (পেপটিক আলসার) : দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করার ফলে পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ইনডাইজেশনের (বদহজম) আশঙ্কা বেড়ে তলপেটে যন্ত্রনাসহ আরও নানা সব শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

৫. কিডনি মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় : দাঁড়িয়ে পানি পান করার সময় মানবদেহের ভিতর থাকা একাধিক ফিল্টার ঠিকমত কাজ করতে না পেরে পানির মধ্যে থাকা একাধিক ক্ষতিকর উপাদান প্রথমে রক্তে গিয়ে মিশে, তারপর সেখান থেকে কিডনিতে এসে জমা হতে শুরু করে। ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে ক্রমান্বয়ে কিডনি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

৬. জি ই আর ডি (গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ) : দাঁড়িয়ে পানি পানে সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা দিতে থাকে। এমনটা হতে থাকলে একসময় গিয়ে ইসোফেগাস ও পাকস্থলীর মধ্যকার সরু নালীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে জি. ই. আর. ডি এর মত মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৭. ফুসফুসে বেঘাত ঘটে : ধীর গতিতে পানি পান না করলে খাদ্য নালীতে অক্সিজেনের পরিমান কমে যায়। এর ফলে হার্ট ডিজিজ অথবা ফুসফুসের রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়। খেলা-ধুলা, দৌড়ে এসে অথবা খুব পরিশ্রম করে সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করলে ফুসফুসের সমস্যা হতে পারে। তাই এসময় পানির তৃষ্ণা বেশি হলেও কিছুক্ষন বিশ্রাম করে পানি পানের অভ্যাস করুন।

পানি পান করার আদব…….

১. বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করা সুন্নাত।

২. ডানহাতে পান করা সুন্নাত।

৩. পান করার সময় পান পাত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলা নিষেধ।

৪. এক ঢোকে পান না করে তিন ঢোকে পানি পান করা সুন্নাত।

৫. বসে পান করা সুন্নাত।

৬. পান করার পর আল্লাহর প্রশংসা করা সুন্নাত।

৭. পাত্রের ভাঙ্গা স্থান দিয়ে পান করা নিষেধ।

৮. পান পাত্রের (কলসি, ঝগ, বোতল ইত্যাদি) মুখে মুখ লাগিয়ে পান করা নিষেধ।

লেখক : ইসলামী গবেষক ও চিন্তাবিদ, বহুগ্রন্থ প্রণেতা, জাতীয় কলামিস্ট ও আ.সি.টি সম্পাদক, বাংলাদেশ তা’লীমে হিজবুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।

 

 

Comments are closed.

LATEST NEWS