বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পুনরায় মাঠে এডিসি জেনারেল

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
ডিসেম্বর ৯, ২০১৭ ১:৩০ অপরাহ্ণ

শাহারিয়ার রহমান পাভেল, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনধি ।। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আবারো মাঠে নেমেছেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপসচিব তরফদার মোঃ আক্তার জামীল। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশ যখন এগিয়ে চলেছে তখন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

এরই মাঝে ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হলে গত বছর সারা দেশে একযোগে শুরু হয় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা এবং অভিযান। স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও যৌন হয়রাণি বন্ধে গ্রহণ করা হয় প্রকল্প এবং সরকার এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেয়। কিন্তু সারা দেশে একযোগে অভিযান শুরুর আগে যিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এগিয়ে এসে কিশোরগঞ্জে আলোচনায় আসেন তিনি হচ্ছেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বর্তমানে উপসচিব তরফদার মোঃ আক্তার জামীল।

সেই সময় তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে ও দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে একাধারে প্রায় ৫০-৬০টিরও বেশি বাল্যবিবাহ সফলভাবে প্রতিরোধ করেন। এর মধ্যে ১৭ টিতে তিনি আইনি জরিমানাও করেন। মসজিদ-মন্দিরে যেয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন; কাজী-পুরোহিত-ইমাম-খতিব-ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার-ইউপি সচিব-ইউডিসি উদ্যোক্তাদের নিয়ে করেন সচেতনতামূলক একাধিক সভা। সেই এডিসি জামীল পুনরায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছেন।

গতকাল ৮ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ সকাল ১০:০০ টায় কিশোরগঞ্জের হাওড় অধ্যুষিত নিকলী উপজেলার পূর্বগ্রামে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উঠান বৈঠকে যোগদান করেন। এসময় তিনি উপস্থিত সকলকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সকলকে শপথ পাঠ করান। উক্ত উঠান বৈঠকে কিশোরগঞ্জ জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ, ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি এর জেলা প্রতিনিধি হারুন-অর-রশিদ, পল্লী সমাজের সভানেত্রী ফেরদৌসি আক্তার রুনা, জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোস্তফা কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জলিল সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, উক্ত উঠান বৈঠকের আয়োজনে ছিল পল্লী সমাজ এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি।

Comments are closed.