ছাতকে ইতালিতে যাওয়ার পথে নিখোজ সপ্নবিলাসী এক যুবক

আরিফুর রহমান মানিক, ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা ।। সুনামগঞ্জের ছাতকে সমুদ্র পথে ইউরোপের সমৃদ্ধশালী দেশ ইতালিতে যাওয়ার পথে ৩ বছর ৪ মাস ধরে নিখোজ রয়েছে ছাতকরে আলী আহমদ (১৮) নামের এক যুবক। পরিবারের দারিদ্রতা দূর করার আশায় এবং নিজের সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় লিবিয়া হয়ে সমুদ্র পথে ইতালি যাওয়ার পথে সে নিখোঁজ হয়। এ সময় তার সাথে থাকা সঙ্গীরা সপ্নের ঠিকানা ইতালিতে পৌছিলেও আলী আহমদের খোঁজ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সে কোথায় আছে কেউ কোন সন্ধান দিতে পারছেনা। এ দিকে তার ফেরার আসায় পথপানে চেয়ে আছেন মা-সহ পরিবারের লোকজন।

পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার ভাতগাও ইউপির বাদেঝিগলী গ্রামের আব্দুল আহাদ একজন কৃষক। কৃষি কাজের মাধ্যমেই তার সংসারের জীবিকা নির্বাহ হয়। দু’পুত্র এক কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই তার দিন অতিবাহিত হচ্ছিল। বড় ছেলে শরিফ আহমদ বাবাকে কৃষি কাজে সাহায্য করলেও ছোট ছেলে আলী আহমদ বায়না ধরে ইউরোপে যাওয়ার। এক সময় কৃষক আব্দুল আহাদ সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় নিজের সহায় সম্বল বিক্রি করে ও আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে ধার দেনার মাধ্যমে আলী আহমদকে ইউরোপ পাঠাতে রাজী হন। অবশেষে ২০১৩ সালের প্রথম দিকে চাচাত ভাই ছাব্বির আহমদ (১৯) সহ আরও কিছু বাঙ্গালী যুবক অবৈধ পথে ইতালির উদ্দেশ্যে লিবিয়া যায়। সেখানে তারা ১০ মাস অবস্থান করে। এরপর অক্টোবর মাসে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে সমুদ্র পথে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দালালরা প্রায় ৭শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে একটি নৌকাযোগে সমুদ্র পথে পাঠায়। কিন্তু ইতালির সমুদ্র সীমার উপকূলিয় এলাকায় নৌকা ডুবে গেলে কোস্টগার্ডরা এসব অভিবাসীদের উদ্দার করে বিভিন্ন ক্যাম্পে পাঠায়। এসময় তার চাচাত ভাই ছাব্বির আহমদ ইতালির রিফিউজি ক্যাম্পে পৌছিলেও আলী আহমদ ক্যাম্পে পৌছেনি। সে সময় থেকে তার কোন খোঁজ কেউ দিতে পারছেনা। এদিকে সন্তানের খোঁজ খবর না পেয়ে তার মা ও পরিবারের লোকজন অজানা আশংকায় দিনযাপন করছেন। ছেলে ফিরে আসবে এই আসায় বুক বেধে আছেন মা এবং পবিবারের লোকজন।

নিখোঁজ আলী আহমদের বাবা আব্দুল আহাদ জানান, ২০১৩ সালের অক্টোবরে লিবিয়া থেকে ছেলে ফোনে জানায় সমুদ্র পথে ইতালিতে যাওয়ার কথা, এবং এসময় সে পরিবারের সাবার কাছে দোয়া চায়। তারপর হতে তার সাথে পরিবারের আর কোন যোগাযোগ নেই বলে জানান তিনি।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ