সুরের মূর্ছনায় মোহনার সংগীতানুষ্ঠান

মোঃ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধা।। বিজয়ের মাসে লাল সবুজের সাজে সাজানো স্টেজে সুরের মূর্ছনায় সংগীতানুষ্ঠান দর্শক শ্রোতা বেশ ভালভাবেই উপভোগ করলেন মোহনার ১১০তম আসরে। সুরের মাধ্যমে যদি ছবি আঁকা যায় তাহলে সেই ছবিই যেন একেঁছেন পল্লবী সরকার মালতী তার সুরের যাদুতে। শীতের আমেজে শুক্রবার মোহনার এই নিয়মিত সংগীতানুষ্ঠান হয়ে গেল সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। মোহনার উপ-পরিচালক ও বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী চুনি ইসলামের উপস্থাপনায় শুরুতে আমাদের মাঝথেকে হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে সকলে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন নিরবতা পালন করেন। আরেকজন উপস্থাপক ছিলেন তানজিনা খন্দকার তমা যার অভিষেক হলো এই মোহনায় উপস্থাপক হিসেবে। দেশের গান ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না-এই গানটি দিয়েই শুরু হলো মালতীর গান।
অতপর নজরুল সংগীত, সন্ধ্যা মূখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য শিল্পীর জনপ্রিয় আধুনিক গান, ফোক গান ও ভাওয়াইয়া গান গেয়ে বার বার দর্শকদের বাহবা পেলেন রেডিও ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত এই জনপ্রিয় শিল্পী। তিনি যে সব ধরনের গান গাইতে পারদর্শী তাও দর্শক শ্রোতা বুঝতে পারলেন খুব ভালভাবেই। মোহনার আরেকজন শিল্পী ছিলেন আরেফিন সরকার। তিনি কুমার শানু, মান্না-দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, বশির আহমেদের গান পরিবেশন করেন। খুব জনপ্রিয় গান গাইতে গেলে শ্রোতারা কিন্তু মুল গানের সুরের সাথে সুর মিলিয়ে দেখতে চান। এ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও শ্রোতারা বার বার সুরের সাথে সুর মেলাতে চেষ্টা করেছেন। তবে আরেফিনের ‘সখী চলোনা জলসা ঘরে যাই…. এবং বশির আহমেদের স্বজনী গো … গান দুটি বেশ চমৎকার গেয়েছেন কী বোর্ডের অনবদ্য মিউজিক সনম্বয়ে যা দর্শক শ্রোতা বেশ ভালভাবেই উপভোগ করলেন।
পল্লবী সরকার ও আরেফিন সরকারের সুরের মূর্ছনা সত্যিই দর্শকরা বেশ মনোযোগ দিয়েই উপভোগ করলেন। অনুষ্ঠান শেষে এই দুইজন শিল্পীকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। পল্লবী সরকার মালতীকে ক্রেস্ট দিয়েছেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ও মোহনার স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য খাজা সুজন এবং আরেফিনকে ক্রেস্ট দিয়েছেন কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার ও মোহনার সদস্য অধ্যাপক অমিতাভ দাশ হিমুন। যন্ত্র সংগীতে ছিলেন তবলায় মাহমুদ সাগর মহব্বত, কী বোর্ডে মিজানুর রহমান মিলন ও প্যাডে মানিক বর্মন।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ