ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার বাতিঘর ‘আমার স্কুল’

মোঃ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধা ।। সমাজের তৃণমূলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় এ বছর ‘জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের ৩০টি সংগঠন।
সমাজের দলিত জনগোষ্ঠীর শিশুদেরও আছে শিক্ষার অধিকার। নানা অবহেলা আর বৈষম্যের শিকার হয়ে পিছিয়ে থাকা এ সম্প্রদায়ের শিক্ষার বাতিঘর ‘আমার স্কুল’। গাইবান্ধার এক স্বপ্নচারী তরুণের এ উদ্যোগ বিশেষ অবদান রাখছে হরিজন শিশুদের ঝরে পড়া রোধে।
মানুষের মতো মানুষ হতে চায় দলিত জনগোষ্ঠীর এই শিশুরা। কিন্তু জন্মের পর থেকে জীবনের ধাপে ধাপে একেকটি বাধা ধ্বংস করে দেয় ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের স্বপ্ন।
অভিযোগ আছে, শিক্ষক ও সহপাঠীরাও তাদের স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখতে চায় না। যার ফলে প্রাথমিকের বারান্দা পার হওয়ার আগেই ঝরে পড়তে হয় তাদের। সেই চিত্র বদলে দিতে ভূমিকা রাখছে ‘আমার স্কুল’।
২০১৪ সালে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া রেলস্টেশনের পাশে ‘আমার স্কুল’ নামের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূল স্রোতে যুক্ত করতেই এমন প্রয়াস।
আমার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাজেশ বাঁসফোর বলেন, ‘দারিদ্রতা এবং শিক্ষার হার এই দুটাই হচ্ছে আমাদের অস্পৃষ্টতার বড় কারণ। এই চিন্তা করে এই প্রতিষ্ঠান গড়া। আমাদের জনগোষ্ঠী আগায় আসছে। আমরা পথচলা শুরু করেছি।’
জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সহযোগিতা পেলে পিছিয়ে পড়া এই সম্প্রদায়ের শিক্ষা আরো প্রসারিত হবে।
সাঘাটা উপজেলার চেয়ারম্যান গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেন, ‘এটি একটি সুন্দর উদ্যোগ। এই স্কুলটি আমাদের সমাজ থেকে যেন পিছিয়ে না থাকে এবং সমাজের যে বৈষম্য, তারা যেন সেই বৈষম্যর স্বীকার না হয় তাতে তাদের সহযোগীতা করা দরকার।’
স্কুলটিতে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত হরিজন সম্প্রদায়ের ২৭ জন ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করছে। এমন অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর, ‘জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষ ২০ এ স্থান পেয়েছে গাইবান্ধার আমার স্কুল।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ