পাকুন্দিয়ার দ্বিচক্রযান প্রেমী হিমেলের গল্প

সাইকেল চালিয়ে হজ্বে যেতে চান হিমেল

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ ১:২৫ অপরাহ্ণ

নূরুল জান্নাত মান্না, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ।। শুধু শখের বশে এদিক-সেদিক সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়া নয়, সাইক্লিং তারুণ্যের বিশেষ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহান্তে বাসায় গা এলিয়ে দেয়ার পরিবর্তে অনেকেই সাইকেল নিয়ে চলে যায় ঢাকা শহর কিংবা ঢাকার আশপাশের জায়গাগুলো চষে বেড়াতে।

আজ ঢাকা তো কাল ময়মনসিংহ – এভাবেই চলছে সাইকেলচারীদের প্রত্যেকটা ছুটির দিন। সাইকেলের মায়া যেন অদ্ভুত এক নেশা হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। এমনকি শুধু সমতলেই নয়, পাহাড়, নদী পেরিয়ে সাইকেলে চেপে বহুদূরের পথ পাড়ি দেয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকেন এখন অনেক দ্বিচক্রযান-প্রেমীরা।

এমনই একজন অদম্য তরুণ পাকুন্দিয়ার হিমেল। সাইকেল চালিয়ে অল্প দিনেই দেশের ১৪ টির অধিক জেলা ভ্রমণ করেছে ছেলেটি। পুরো নাম মোকাম্মেল হক হিমেল। বয়স ২০। মুখে উঠতি বয়সের ছোপ ছোপ দাড়ি। তবে চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তার ছাপ।

মো. মস্তুুফা কামাল ও পারুল ‍বেগমের ২ ছেলের মধ্যে বড় এই হিমেল। সে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা গ্রামের বাসিন্দা। শৈশব থেকেই পছন্দের বিষয় ভ্রমণ করা। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু। আর এই স্বপ্ন পথের যাত্রা শুরু হলো ২০১৬ সালে। ‍বিভিন্ন বাঁধা আসলেও পিছিয়ে যায়নি তার লক্ষ্য থেকে। স্বপ্ন দেখেন সাইকেল চালিয়ে হজ্জ করতে যাবেন। কাজটি অসম্ভব হলেও কোনভাবেই হেরে যেতে চান না হিমেল।

তারুণ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সাইক্লিং এর প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন হিমেল। তিনি বলেন, আমরা একটা অদ্ভুত সময়ে বাস করছি। সকলেই এখন মুখ গুঁজে থাকে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপে। রাতজেগে ইন্টারনেট, ফেইসবুক। তরুণরা ভুলে যাচ্ছে তাদের উচ্ছলতা, হাসি, আনন্দ।

বিকৃত আনন্দে মশগুল হয়ে যাচ্ছে তারুণ্য। কিন্তু আমি যখন সাইকেল চালাচ্ছি তখন আমার পুরো পৃথিবীকে দেখার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এই প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘোরার নেশা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তাই আমার মনে হয় সাইক্লিং আমাদের অনেকাংশে রক্ষা করতে পারে অনলাইন দুনিয়া থেকে।

Comments are closed.