ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দু’পাশের গাছ বন বিভাগ কর্তৃক অবৈধ টেন্ডারে বিক্রয়ের অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ।। ভৈরব – কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচর উপজেলাস্থ আগরপুর জগতচর আখড়ার মোড় ৪০তম কি.মি. হতে মিরারচর বাসষ্ট্যান্ড বেইলি ব্রীজ সংলগ্ন পর্যন্ত ৪৯ তম কি.মি. পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যোগ সাজসে বন বিভাগ কর্তৃক অবৈধ ভাবে টেন্ডার দিয়ে বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অবৈধ প্রক্রিয়ায় টেন্ডারের মাধ্যমে সওজ ও উপকারভোগীদের রোপিত গাছ বিক্রয় বন্ধ করার লক্ষে কুলিয়ারচর উপজেলার বাজরা গ্রামের মৃত সামসুদ্দিনের পুত্র উপকারভোগী হত দরিদ্র কৃষক মোঃ বিল্লাল মিয়া (৬৫) গত ১৯ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে গত ২৮ নভেম্বর সামাজিক বনায়ন ও নার্সারী কেন্দ্র কুলিয়ারচর ফরেষ্টার গংদের বিরোদ্ধে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মোকাদ্দমা নং ১৬৫/১৭ দায়ের করেন। গত ২৯ নভেম্বর আদালত ফরেষ্টার গংদের কারন দর্শাইবার জন্য একটি নোটিশ প্রদান করেন।

উপকারভোগী বিল্লাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তিনি ১৯৯৩ সালের ২ আগষ্ট ৪২ তম কি. মি.ও ৪৩ তম কি. মি. বনায়ন কর্মসূচীর আওতায় বিত্তহীন শ্রমিক হিসেবে খাদ্যের বিনিময়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহিত রেজিষ্ট্রিমূলে ৬ বছরের জন্য সল্পমেয়াদী চুক্তিপত্র করে রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপন করে পরিচর্জা করেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বিল্লাল মিয়ার হিস্যা মতে ৪০% গাছ তাকে বুঝিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিল্লাল মিয়া ২০০১ সালের ২৩ আগষ্ট ৬ বছরের জন্য কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কের ৪০ তম কি. মি. হতে ৪৪ তম কি. মি. পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে চারা গাছ রোপনের জন্য কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহিত কুলিয়ারচর সাবরেজিষ্ট্রার কর্তৃক রেজিষ্ট্রি করে ৬ বছরের জন্য একটি চুক্তি নামার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির সল্পমেয়াদী চারা গাছ রোপন করেন। চুক্তিনামা অনুযায়ী গত ২০০৭ সালে ২২ আগষ্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ উপকারভোগী বিল্লাল মিয়াকে তার রোপিত ১ হাজার ৮ শত ৪১ টি গাছের মধ্যে চুক্তিপত্র অনুযায়ী তার হিস্যার ৫০% গাছ বুঝিয়ে না দেওয়ায় প্রাপ্যাংশ বুঝিয়ে পাওয়ার বিলম্বের কারনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন নং-১০২০৫/১৩ দাখিল করেন। বিজ্ঞ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সরেজমিন বৃক্ষসমূহ গননা পূর্বক চিহ্নিত করণ করিয়া তার প্রাপ্যাংশ বুঝাইয়া দেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করেন। অপর দিকে ৪০ তম কি.মি. হতে ৪৪ তম কি.মি. পর্যন্ত রোপিত বৃক্ষ কর্তন সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ায় গত ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, কুলিয়ারচর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় বন বিভাগের কর্মকর্তাগণ সওজ অধিদপ্তরের সঙ্গে বৃক্ষ রোপনের কোন প্রকার চুক্তিপত্র কিংবা অনুমতি পত্র প্রদর্শন করতে পারেনি। বিল্লাল মিয়া সড়ক ও জনপথের সাথে রেজিষ্ট্রি চুক্তিপত্র উপস্থাপন করেন। উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধানত মোতাবেক বিল্লাল মিয়া চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে রোপিত বৃক্ষের হিস্যা পেতে পারে মর্মে উপজেলা প্রকৌশলী ও কমিটির সভাপতি মোঃ আশরাফুল হক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ আলম মকুল উপ-বিভাগীয় প্রোকৌশলী সওজ ভৈরব সড়ক উপ-বিভাগ, ভৈরব কে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য একটি চিঠি প্রেরণ করেন। সওজ বিল্লাল মিয়ার প্রাপ্যাংশ বুঝিয়ে না দিয়ে দিনের পর দিন কাল ক্ষ্যাপন করে রাস্তার দুপাশের শত শত গাছ স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগীতায় কেটে লুটপাট করে আসছে।

অপরদিকে উপজেলার কলাকূপা গ্রামের মৃত হাসেন আলীর পুত্র মোঃ আসাদ মিয়া (৪০) ও দক্ষিন নন্দরামপুর গ্রামের মৃত আমির চানের পুত্র মোঃ আছমত আলী (৬৫) অভিযোগ করে বলেন, তারা ১৯৯৩ সালের ১০ আগস্ট ভৈরব সড়ক উপ- বিভাগের সহিত ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আ লিক সড়কের ৪৮ তম কি.মি. হতে ৪৯ তম কি.মি. অর্থাৎ বক্তরমারা ব্রীজ হতে মিরারচর বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বেইলি ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বনায়ন কর্মসূচীর বাস্তবায়নকল্পে বিত্তহীন শ্রমিক হিসেবে ৬ বছর মেয়াদী বহুবিধ জাতের চারা গাছ রোপন করার চুক্তিপত্র করেন। আবর্তকাল পূর্ণ হওয়ার পর শর্ত মোতাবেক তাদের প্রাপ্যাংশ বুঝিয়ে না দেওয়ায় বৃক্ষসমুহ বুঝিয়ে পাওয়ার আশায় তার গত ১৭ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ)বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া উপকারভোগী মোঃ আছমত আলী গত ৩০ নভেম্বর সামাজিক বনায়ন ও নার্সারী কেন্দ্র কুলিয়ারচর ফরেষ্টার গংদের বিরোদ্ধে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মোকাদ্দমা নং ১৬৯/১৭ দায়ের করেন। ওই দিন আদালত ফরেষ্টার গংদের কারন দর্শাইবার জন্য একটি নোটিশ প্রদান করেন।

উপকারভোগী মোঃ বিল্লাল মিয়া, মোঃ আছমত আলী ও মোঃ আসাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, চুক্তি পত্র অনুযায়ী তাদের হিস্যা গাছ বুঝিয়ে না দিয়ে ও তাদের অবগত না করে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের যোগ সাজসে ময়মনসিংহ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রশিদ অবৈধভাবে গত ২২ অক্টোবর দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নং-০১ মূলে ভৈরব- কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের এস এফ এন টি সির অধীন সামাজিক বনায়নের আওতায় আবর্তকাল উত্তীর্ন বাগানের খাড়া, ঝড়ে পড়া ও মরা গাছ বিক্রয়ের দরপত্র আহবান করেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। দরপত্র অনুযায়ী সিডিউল জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৫ নভেম্বর। দরপত্র খোলার তারিখ ছিল ১৬ নভেম্বর। তারা বন বিভাগ কর্তৃক অবৈধ টেন্ডার বাতিলের দাবি করে শর্তানুযায়ী তাদের হিস্যা গাছ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সওজ (চ:দা:) মোঃ রাশেদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপকারভোগী মোঃ বিল্লাল মিয়া, মোঃ আছমত আলী ও মোঃ আসাদ মিয়ার অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, সওজ এর কোন কর্মকর্তার যোগ সাজসে বন বিভাগ অবৈধ ভাবে টেন্ডার দেয়নি। সড়কের উভয় পার্শ¦ প্রশস্থ করন করার লক্ষ্যে রাস্তার দু পাশের গাছ সমূহ অপসারন করার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান বৃক্ষপালনবিদ এর নিকট চিঠি প্রেরন করা হলে বৃক্ষপালনবিদ বন বিভাগের সাথে সমন্ময় করে এ টেন্ডার আহবান করেন।

Comments are closed.

LATEST NEWS