আনুশকা-বিরাটের বিয়ে হলো যেখানে

বিনোদন রিপোর্ট : রূপকথার মতো বিয়েটা হয়ে গেলো। রোমান্টিক দেশ হিসেবে পরিচিত ইতালিতেই মালাবদল করলেন বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা ও ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি। সবখানে এখন এই বিয়ের আলোচনা। যেখানে এক হলো তাদের চারহাত সেই রিসোর্টসহ বিয়ের খুঁটিনাটি জানতে উৎসুক অনেকে। তাদের জন্য রইলো সেসব তথ্য।

বিয়ের ভেন্যু হিসেবে আনুশকা ও বিরাট বেছে নেন তাস্কানির কেন্দ্রে সিয়েনা প্রদেশে ত্রয়োদশ শতকে গড়ে ওঠা একটি রিসোর্ট । ১৩১৮ সালে এর নাম রাখা হয় ‘বোর্গো ফিনোচ্চিয়েতো’। ফ্লোরেন্স শহর থেকে এক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে গেলেই দেখা যায় এই রিসোর্ট। ৮০০ বছরের পুরনো রিসোর্টটি কিনে সংস্কার করেন ইতালিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন ফিলিপস। এখন ২২টি শোবার ঘরে ৪৪ জন অতিথি থাকতে পারেন।
বোর্গো ফিনোচ্চিয়েতো রিসোর্টে থাকলে এক সপ্তাহে খরচ হয় ১ কোটি রুপি। প্রতি রাতের জন্য গুনতে হয় সাড়ে ৬ লাখ রুপি থেকে ১৪ লাখ রুপি। ফোর্বসের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ২০টি অবকাশযাপনের স্থানগুলোর তালিকায় দুই নম্বরে আছে এটি। এর চারপাশে পাহাড়-পর্বত, উপত্যকা।

বিয়ে উপলক্ষে আনুশকা ও বিরাটকে গুনতে হচ্ছে মোট ৩৪ কোটি ৮৭ লাখ রুপি!
বিয়ের গোটা আয়োজন ডিজাইন করেছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়ী ওয়েডিং ডিজাইনার দেবিকা নারায়ণ। ভিডিও নির্দেশনা দিয়েছেন দ্য ওয়েডিং ফিল্মার প্রতিষ্ঠানের বিশাল পাঞ্জাবি। পুরো ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল মুম্বাইয়ের ওয়েডিং প্ল্যানিং প্রতিষ্ঠান শাদি স্কোয়াড। আলোকচিত্রী ছিলেন জোসেফ রাধিক।
বর-কনের পোশাক নকশা করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়। আংটিবদল থেকে মেহেদি, সংগীত, বিয়ে, ভোজ— সবকিছুর জন্যই আলাদা পোশাক বানিয়েছেন তিনি। আংটি পরানোর আয়োজনে আনুশকা পরেন ভেলভেটের শাড়ি। এটি এমব্রয়ডারি করা হয় ছোট ছোট মুক্তো, জারদৌসি ও মারোড়ি দিয়ে। তার অলঙ্কারের মধ্যে ছিল হীরা ও মুক্তোর চোকার এবং মানানসই দুল। এ অনুষ্ঠানের পুরোটা জুড়ে বাজানো হয় ব্রিটিশ তারকা এড শেরানের ‘থিংকিং আউট লাউড’।
মেহেদিতে আনুশকা বেছে নেন উজ্জ্বল গোলাপি লেহেঙ্গা। সঙ্গে ছিল ২২ ক্যারেট সোনার ঝুমকা। তাতে যুক্ত ছিল ইরানি ফিরোজা, হীরা ও জাপানি  মুক্তো। খাদি কুর্তা চুড়িদারের সঙ্গে সিল্কে নেহরু জ্যাকেট পরেছিলেন বিরাট। আর বিয়ের দিন আনুশকা পরেছিলেন সোনালি-রূপালি হাতে কাজ করা হালকা গোলাপি লেহেঙ্গা। বিরাটের গায়ে ছিল সিল্কে শেরওয়ানি। বিয়ের খাবারে ছিল ভারতীয় ও ইতালীয় ঘরানার সংমিশ্রণ। ক্যাটারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন শেফ ঋতু ডালমিয়া। বিকানিরি রোটিতে মোড়া পোর্সিনি মাশরুম থেকে স্টাফড রাভিওলি, সঙ্গে পনির কুরচান। শেষে ছিল রাবড়ির মতো মিষ্টি।

আনুশকা ওয়েডিং ভেন্যুতে আসতেই বাজতে শুরু করে তার ‘ফিল্লাউরি’ ছবির গান ‘দিল শাজনা দা’। তাকে মণ্ডপ পর্যন্ত যেতে সহায়তা করতে হাত বাড়িয়ে দেন বিরাট। তখন আনুশকাকে নার্ভাস লাগছিল। তাই তার সঙ্গে সারাক্ষণ কথা বলে যাচ্ছিলেন বিরাট।

এরপর শুরু হয় অনুষ্ঠান। যেই না আনুশকা মালা পরাতে যাবেন, বিরাট তখন উঁচুতে উঠে যান এক বন্ধুর সহযোগিতায়। তাই তার নাগাল পাচ্ছিলেন না ‘রব নে বানা দে জোড়ি’র নায়িকা। পরে স্বজনরা তাকেও তুলে ধরলে তিনি বিরাটের গলায় মালা পরিয়ে দেন। হিন্দু রীতি মেনেই হয়েছে তাদের বিয়ে। নতুন জীবনে দু’জনই এখন ভাসছেন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে।

 

Comments are closed.