খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সম্মানে হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ

খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটের কোনো হোল্ডিং ট্যাক্স লাগবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা মওকুফ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রাজধানীতে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এ কথা বলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) যৌথভাবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘রাজধানীর বেশ কিছু রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের নামকরণ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জুরাইন কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কবরের জায়গা সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আজিমপুর কবরস্থানে জায়গা সংরক্ষণ করা হবে।’

মেয়র বলেন, ‘গত আড়াই বছরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চিত্র বদলেছে। দিন যত যাবে এই চিত্র আরো বেশি দৃশ্যমান হবে। এক সময় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাস্তাঘাট অনেকটাই ভাঙাচোরা ছিল। এই রাস্তাগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই সিটি করপোরেশনের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ রাস্তা চলাচলের উপযোগী। এক সময় এই এলাকার ১০ ভাগ রাস্তায় লাইট জ্বলতো না। এখন শতভাগ এলাকার রাস্তা এলইডি লাইটের আলোয় আলোকিত করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘শহরে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মানুষের বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এখন আবার শীতকালীন অসুখ-বিসুখে শহরের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ঘরে বসে ০৯৬১১০০০৯৯৯ এই হটলাইন নম্বরে ফোন করলেই ডাক্তার ও ওষুধ পৌঁছে যাচ্ছে।’ মেয়রের দায়িত্বে যতদিন থাকবেন ততদিন নগরীর মানুষের পাশে থেকে ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করে যাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মেয়র বলেন, ‘শহরের মানুষের বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকগুলো খেলার মাঠ ও পার্ক প্রভাবশালীদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করা হয়েছে। “জলসবুজে ঢাকা” প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠ আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে কমবেশি ১০০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে ১১টি উদ্বোধন করা হয়েছে, ৩০টি পাবলিক টয়লেট শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের শতকরা ৬৫ ভাগ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। যাদের জন্ম হয়েছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের কমপক্ষে ১০ বছর পর। তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা জানেন না। কারণ এই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বারবার অপশক্তির দখলে রেখে দেশের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করা হয়েছে। বাঙালি জাতির স্বপ্নকে দাবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’

ইতিহাসবিকৃতি, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে রুখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গনি্। এ সময় সেক্টর কমান্ডার্স ফোরোমের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ বীরোত্তম, সহসভাপতি কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী বীরোত্তম, মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী, মো. মোশাররফ হোসেন, আমীর হোসেন মোল্লা ও শফিকুল ইসলাম শহীদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.