বগুড়ায় মৃত্যু কূপের খনন শুরু, পাক বাহিনীর টর্চার সেন্টার

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া: মুক্তিযুদ্ধকালীন বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ‘এসডিও বাংলো’ পরিচিত ভবনটি ছিলো পাক-হানাদার বাহিনীর টর্চার সেন্টার। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় জুড়েই এসডিও বাংলোর টর্চার সেন্টারে প্রায় প্রতিদিনই অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিকামী নারী-পুরুষকে হত্যা করা হতো। লাশ ফেলা হতো ওই বাংলোর কূপে।

ধারণা করা হয়, প্রায় ৫শ’ মানুষকে হত্যা করে তাদের লাশ ওই মুত্যুকূপে ফেলা হয়েছে। কালের আবর্তে পরবর্তীতে ভরাট হয়ে যায় কূপটি। মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পর বগুড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এই মৃত্যুকূপের খনন কাজ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমীন, মুক্তিযোদ্ধা ডা. আরশাদ সায়ীদ, প্রকৌশলী মো. সাহাবুদ্দীন সৈকত, সাংবাদিক মাহমুদুল আলম নয়ন, আব্দুস সালাম বাবুসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এসডিও বাংলোটি বধ্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত হলে এটিই হবে বগুড়ার জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি।

মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে দাশিন জামাদার নামে তৎকালীন রেলওয়ে কর্মচারীর দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৫শ’ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলা হয়েছে এই মৃত্যুকূপে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মম বর্বরোচিত ঘটনা এতবছর আলোচনার বাইরে থাকলেও গত মার্চ মাসে প্রশাসনের নজরে আসে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রেলওয়ের কর্মচারী দাশিন জামাদারের বরাতে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় রেলওয়ের এসডিও বাংলোটি ছিলো পাকিস্থানীদের টর্চার সেল। বর্বর নিপীড়ন চালিয়ে সেই সেলে প্রতিদিন খুন করা হতো মুক্তিকামী মানুষকে। এরপর তাদের মরদেহ ফেলা হতো বাংলোর ভেতরে থাকা ওই কূপের ভেতর। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে পাওয়া যায় এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা।

Comments are closed.