মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি : অষ্টগ্রামের দুটি বধ্যভূমি আজও সংরক্ষিত হয়নি!

মন্তোষ চক্রবর্ত্তী, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) ।। স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিক্রান্ত হলেও অষ্টগ্রাম উপজেলার দুটি বধ্যভূমি সংরক্ষিত হয়নি। গড়ে উঠেনি কোন স্মৃতি চিন্হ এমনকি কোন নাম ফলক। উপজেলা দেওঘর ইউনিয়নের পাউনের কান্দি ও পূর্বঅষ্টগ্রাম ইকরদিয়ার এ দুটো বধ্যভূমির পাশে দাড়িয়ে আজও স্বজন হারা পরিবারের লোকজন কখনও কাদঁতে কখনো নীরবতাপালন করতে দেখা যায়। হাওরের এ উপজেলায় বিশেষ করে বর্তমান সরকারের আমলে প্রচুর উন্নয়নের কাজ অভ্যাহত আছে। কিন্তু এদুটি বধ্যভূমি সংরক্ষনের কোন উদ্যোগে না নেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনগনের মধ্যে চরম হতাশা আর ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকা বাসি সূত্রে জানা যায়, পাউনের কান্দি বধ্যভূমিটি এ থানায় মূল বধ্যভূমি হিসেবে পাক হানাদার বাহিনী ব্যাবহার করেছিল। অষ্টগ্রাম থানা ও পাশবর্তী এলাকার শতশত নারী পুরুষ ধরে এনে হানাদার, আলবদর, রাজাকারেরা গুলি করে ও ব্যায়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করত।

এ বধ্যভূমি থেকে ব্যায়নেটের খুচায় গুরতর আহত অবস্থায় উঠে আসা পূর্ব অষ্টগ্রামের পুকুর পাড়ের মোঃ আঃ বাছির মিয়া মৃত্যুর কিছু দিন পূর্বে প্রতিনিধিকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হঠাৎ একদিন বাছির মিয়া ও বৃদ্ধ পিতা আঃ গুনী মিয়াকে পাকবাহিনী ও রাজাকারেরা বাড়ীর সামনে থেকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের অপরাধ ছিল বাছির মিয়ার বড় ভাই আঃ সাহেদ মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং ছোট ভাই আঃ মতিন মাষ্টার ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা উক্ত পিতাপুত্রকে সারাদিন থানায় আটক রেখে রাতে ওদের সহ ২২ জনকে হত্যা করার জন্য আলবদর রাজাকারেরা পাউনের কান্দি বধ্যভূমিতে নিয়ে যায়। গুলি আর ব্যায়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে রাজাকারেরা চলে যায়। কিন্তু গুরতর আহত অবস্থায় বাছির মিয়া ও পিতা আঃ গুনী মিয়া কে ভোর বেলা উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসা সুস্থ্য হয়ে উঠেন। কিন্তু বায়োবৃদ্ধ ধর্মপ্রাণ আব্দুল গণী মিয়া এ দৃশ্য দেখার পর মানষিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় স্বাধীনতার কিছুদিন পর মৃত্যুবরন করেন। স্বাধীনতার পর এ বধ্যভূমিতে হাজার হাজার মানুষের হার কংকাল ও মাথার খুলি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

জানা যায়, ৭১ এর ৩ সেপ্টেম্বর অষ্টগ্রাম পাকসেনাদের ক্যাম্প থেকে শান্তি কমিটির নেতৃবৃন্দ হানাদার আলবদর রাজাকার নৌকা নিয়ে ভোরবেলা ইকরদিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। মানুষ প্রায় ঘুমন্ত অবস্থায় ইকরদিয়া দক্ষিণ পাড়ায় উঠেই লুটপাট শুরু করে এবং সাড়াাপাড়ায় আগুন লাগিয়ে দেয়। দক্ষিন পাড়ায় ও দুটি ধনাট্য বাড়ীতে আগুন দেয়। সাথে চলে লুটপাট ও নির্যাতন। ৪৯ জন নারী পুরুষ আটক করে ইকরদিয়া লঞ্চ ঘাটের কাছে এনে গুলি ও ব্যায়নেটে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে। সারাগ্রাম লুটপাট এমনকি আগুন নেভার পরও পুড়া টিন পর্যন্ত ওরা নিয়ে যায়।

এব্যাপারে শহীদ পরিবারের সন্তান সুধীর দাস ও হরিমোহন দাস প্রতিনিধিকে জানান স্বাধীনতার সাথে সাথে এখানে শহীদ স্মৃতিস্থম্ভ সরকারি ভাবে গড়ে উঠার কথা ছিল। কিন্তু এখনও কোন কার্য্যকর ভূমিকা দেখিনা।

এব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী আপ্তাব জানান, স্থানীয় প্রসাশন ও নেতৃবৃন্দের উদাসীনতায় বধ্যভূমি দুটি সংরক্ষিত হচ্ছে না। এব্যাপারে উপজেলা নিবাহী কর্মকতা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম জানান, সরজমিনে পরিদর্শন করে সরকারী ভাবে সংরক্ষণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন দাখিল করল।

পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমন্ডার খালেকুজ্জামান বলেন অব্যশই অষ্টগ্রামে ২টি বধ্যভুমি। এর ১টি পাউনের কান্দি ও আর একটি ইকরদিয়া।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ