যেসব সুবিধা পান মুক্তিযোদ্ধারা

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এমনকি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকেও দেওয়া হচ্ছে ভাতা। খেতাব, শারীরিক অসামর্থ্যসহ নানা বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা এবং রেশন দেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাবদ গত তিন বছরে পাঁচ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা খরচ করেছে সরকার। এ বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাবদ ২৪০ কোটি টাকা বরাদ্দা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এক লাখ ৮০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা মাসিক সম্মানী ভাতা পান। ২০১৪ সালের পর এ ভাতা তিনবারে বাড়িয়ে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

সম্মানী ভাতা বিতরণ নীতিমালা-২০১৬ অনুযায়ী, ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা দিচ্ছে সরকার। যাদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ ৩০ হাজার, বীর উত্তম ২৫ হাজার, বীর বিক্রম ২০ হাজার এবং বীর প্রতীক  খেতাবপ্রাপ্তদের ১৫ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়।

শারীরিক অসামর্থ্য অনুযায়ী ৪টি ক্যাটাগরিতে মুক্তিযোদ্ধারা এ ভাতা পান। ৯৬-১০০ শতাংশ শারীরিক অক্ষমদের ‘এ’ শ্রেণি,  ৬১-৯৫ শতাংশ অক্ষমদে ‘বি’ শ্রেণি, ২০-৬০ শতাংশ অক্ষমদের ‘সি’ শ্রেণি এবং ১-১৯ শতাংশ অক্ষমদের ‘ডি’ শ্রেণিভুক্ত করে ভাতা দেওয়া হয়। ‘এ’ শ্রেণিভুক্তরা ৪৫ হাজার, ‘বি’ শ্রেণিভুক্তরা ৩৫ হাজার, ‘সি’ শ্রেণিভুক্তরা ৩০ হাজার এবং ‘ডি’ শ্রেণিভুক্তরা ২৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পান। এছাড়াও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ পরিবারকে ২৮ হাজার টাকা করে ভাতা দেয় সরকার। তবে কোনও মুক্তিযোদ্ধা একাধিক খেতাবপ্রাপ্ত হলে তিনি সর্বোচ্চ খেতাবের জন্য নির্ধারিত হারে একটি সম্মানী ভাতা নিতে পারেন।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ফেনীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিদ আলী বলেন, ‘মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা ও দুই ঈদে বোনাসসহ বেশকিছু সুবিধা দেয় সরকার।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের ২২ হাজার সদস্যকে রেশন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। রেশন হিসেবে মাসে ৩৫ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, ৫ কেজি চিনি, ৮ লিটার ভোজ্য তেল ও ৮ কেজি ডাল দেওয়া হয়। এছাড়া, যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ২২টি সুবিধা ভোগ করেন। শিক্ষাভাতা হিসেবে দুই কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে প্রতিজন বার্ষিক এক হাজার ৬শ’ টাকা এবং বিবাহ ভাতা অনধিক দুই কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে প্রতি জনের জন্য এককালীন ১৯ হাজার দুই টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া বছরে দুটি ঈদে মূল ভাতার সমপরিমাণ অর্থ এবং ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর ৪৮০ টাকা করে প্রীতি ভোজের জন্য দেওয়া হয়। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে খরচ বহন করা হয়। আর বিদেশে চিকিৎসার সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। যা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নবায়ন করতে হয়। ওই পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি যানবাহনে বিনা ভাড়ায় যাতায়তের করতে পারেন মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ সব রুটে বছরে একবার ও আন্তর্জাতিক রুটে বছরে দুইবার বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পান। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সরবরাহ করা হয় মন্ত্রণালয় থেকে। হুইলচেয়ারে চলাচলকারী মুক্তিযোদ্ধাদের বছরে একবার ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থা, একটি মোবাইল এবং সর্বোচ্চ এক হাজার ৯শ’ টাকা পর্যন্ত মোবাইল বিল দেওয়া হয়। এছাড়াও পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সড়ক ও মহাসড়কের টোল মওকুফ, ফেরিতে বিনা ভাড়ায় পারাপার, পর্যটন করপোরেশনের হোটেলে স্বপরিবারে দুই রাত এবং তিন দিন, ডাক বাংলোতে দুই দিন অবস্থানের সুবিধা দেওয়া হয়।

সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের প্রতি সদস্য দৈনিক ১২৫ লিটার পানির বিল মওকুফ সুবিধা পান। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নিজস্ব বাড়ির ১৫ শত বর্গফুট পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স, দুই বার্নার গ্যাসের বিল, দুইশ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল মওকুফ সুবিধা পান।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। মাসিক ভাতার বাইরেও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার ও সন্তানদের  অনেক সুবিধা দিচ্ছে সরকার। মুক্তিযোদ্ধারা ভাতার পাশাপাশি রেশন, ছেলে-মেয়ের শিক্ষা খরচ, উপবৃত্তি, চিকিৎসা খরচসহ বেশ কিছু সুবিধা পান। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.