ভৈরবে শীতের পিঠা বিক্রিতে ব্যস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

সজীব আহমেদ, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।।  কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দূর্জয় মোড়, জগন্নাথপুর,লক্ষীপুর,তাতাঁর কান্দি কমলপুর, বাজারসহ ব্যস্ততম এলাকাগুলোয় এ সময় শীতের পিঠার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেক রকম পিঠার সাজিয়ে বসেছেন। শীতের জমে উঠতে শুরু করেছে শীতের পিঠার ক্ষুদ্র ব্যবসা।

শহরের আনাচে-কানাচে, মোড়ে মোড়ে এখন চোখে পড়বে ভ্যানে বা রাস্তার ফুটপাতে বসে পিঠা বিক্রির দৃশ্য। শহরবাসী এর স্বাদ নিতেও ভুল করছেন না। শুধু শহরেই নয় গ্রামে হাট-বাজারেও বিক্রির ধুম পড়েছে। ইতোমধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে।

এই ধান থেকে চাল করে সেই চাল দিয়ে গুঁড়া তৈরি করে সেগুলো দিয়ে বানানো হয় পিঠা। অগ্রহায়ণের নতুন ধানের পিঠার আয়োজন পৌষের শীতে এসে অন্যরকম মাত্রা পায়। শীতের পিঠা বললেই চলে আসে চিতই, ভাপা, পোয়া বা তেলের পিঠার নাম। বিশেষ করে বিকাল থেকেই এসব পিঠার ভাসমান দোকান বসে। বিক্রি চলে রাত ১০-১১ পর্যন্ত। ছোট চিতই পিঠা ৫ টাকা, বড় চিতই ১০ টাকা, ডিম চিতই ২০ টাকা, ছোট ভাপা পিঠা ১০ টাকা, বড় ভাপা ২০ টাকা, পোয়া ছোট ১০ টাকা, বড় ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

শহরে শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকেই আছেন যারা অন্য মৌসুমে পিঠার ব্যবসা না করলেও শীতকালে পিঠার ব্যবসা করেন। কারণ শীতের পিঠার ক্ষুদ্র ব্যবসা করতে তেমন পুঁজির দরকার হয় না। চাহিদা বেশি হওয়ায় লাভও হয় বেশি। মোটামুটি ২ হাজার টাকা হলেই এ ব্যবসা করা যায়। আবদুল রহমান (৫০) বছরের অন্য সময় চা বিক্রি করেন। কিন্তু শীত এলেই তিনি দূর্জয় মোড়ে ক্ষুদ্র পরিসরে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। দূর্জয় মোড়ে অন্য কোনো পিঠা বিক্রেতা না থাকায় একচেটিয়া ব্যবসা করেন আবদুল রহমান। পিঠা তৈরিতে তার ছেলে মনির মিয়া ও সোহেল তাকে সাহায্য করেন।

কেমন বিক্রি হয় মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ প্রতিনিধি জানতে চাইলে মুচকি হাসেন আবদুল রহমান। তার সেই হাসি দেখেই বুঝা যায় ভালোই চলছে তার ক্ষুদ্র ব্যবসা। চালের গুঁড়া, নারিকেল, জ্বালানি আর দীর্ঘদিনের পিঠা তৈরির অভিজ্ঞতাকে সম্বল করেই তিনি তৈরি করেন অনেক রকম ভাপা, চিতই, পুলি পিঠা। তাই সব শ্রেণির মানুষ তার পিঠার স্বাদ পাওয়ার আশায় এমনকি অনেক উচ্চবিত্ত ক্রেতারাও ভিড় করে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে থাকেন পিঠা ক্রয়ের জন্য।

তিনি পিঠা বিক্রি শুরু করেন বিকাল ৪টা থেকে, চলে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত। তবুও তিনি হাল ছাড়েন না একটু বেশি আয়ের আশায়। কারণ এ ক্ষুদ্র ব্যবসাটিই তার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র সম্বল। ক্ষুদ্র পরিসরে, কম পুঁজিতে কতইবা আর মুনাফা হতে পারে? তবুও এ পিঠা ব্যবসার ওপর ভর করেই তাকে পরিবারের ভরণপোষণ করতে হয়।

এ ছাড়া শহরে জগন্নাথপুরে কমলা মোড়, ঘোড়া কান্দা, কালিপুর চন্ডিবের সহ ব্যস্ততম এলাকাগুলোয় এ সময় শীতের পিঠার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেক রকম পিঠা সাজিয়ে বসেছেন।

Comments are closed.