ভালো নয় ভালোনয়

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
ডিসেম্বর ২১, ২০১৭ ৮:২৭ অপরাহ্ণ

সাহিত্য ও সংস্কৃতি ।। নাম যদি ‘ভালোবাসা’ হয়, তাহলে সেটা ‘ভালো’ হবে না কেন? এ কেমন ‘ভালোবাসা’ তাহলে? জ্বি হা। ভালোবাসা যে ক্ষেত্রবিশেষ আসলেই ভালো নয়, উদাহরণসহ তা জানাচ্ছেন শরীফ বিল্লাহ…
ভালোবাসা মানুষকে মিথ্যাবাদী বানায়
লোকে বলে, ভালোবাসা মানুষকে উদার বানায়। কিন্তু আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে ভালোবাসা মানুষকে মিথ্যাবাদী বানায়। প্রেমিকার সাথে দেখা করতে গেলেন। কোনো পার্কে ডেটিং মারছেন চিনা বাদাম নিয়ে। বিট লবণ দিয়ে কুর কুর করে চিনা বাদাম খাচ্ছেন। এমন সময় আপনার মা আপনাকে দিলো কল। শুরু করলেন আপনার মিথ্যা কথা। ‘মা আমি এখন স্যারের বাসায় যাচ্ছি। আজ গণিতের একটা পরীক্ষা আছে। বাসায় আসতে রাত হবে।’
ভালোবাসা মানুষকে পদ্য লেখায়
ছেলেটি সারা দিন সারা রাত বসে বসে অঙ্ক করত। এমনভাবে অঙ্ক করত বাসায় যদি ভূমিকম্পও হয় তার ধ্যান কিছুতেই ছুটাতে পারত না। রাত জেগে জেগে সে অঙ্ক করে। এখনো ছেলেটি রাত জেগে থাকে। তবে অঙ্ক করার জন্য নয়। রাত জেগে জেগে সে অঙ্কের পরিবর্তে পদ্য লেখে।
‘ওগো আমার ময়না
ঘরে থাকা যায় না।’
ভালোবাসা চালাক কে বেকুব বানায়
ভালোবাসা বা কারো প্রেমে পড়লে সেই লোক বেকুব হতে বাধ্য। এতদিন ধরে যেই আপনি কত চালাক সেই আপনি কিনা এখন হেবলা নাম্বার ওয়ান। প্রেমিকার কাছে কয়েক পাতাব্যাপী ম্যারাথন চিঠি লিখলেন। যাবতীয় সাহিত্য যোগ করে চিঠিখানা লিখে যেই না পকেটে করে ঘর থেকে বের হতে যাচ্ছেন অমনি মায়ের কাছে কট। আপনাকে যেই না মা জিজ্ঞাসা করল আপনার হাতে ওটা কিসের প্যাকেট অমনি আপনি বলে বসলেন, ‘কই আমার হাতে কোনো কিছু নাই তো।’ সাথে সাথে আপনার বেকুবত্ব ফুটে উঠল। কারণ তখন আপনার হাতে চিঠি ছিল।
ভালোবাসা মানুষকে বাবা-মার অবাধ্য করে দেয়
ভালোবাসা মানুষকে বাবা-মার অবাধ্য করে দেয়। যে বাবা-মাকে সবসময় মানতেন সেই বাবা-মাকে এখন আর মানতে চান না। একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে আপনি একেবারে বখে গেছেন। এ সময় কোনো মেয়ের সাথে যদি বাবা-মা আপনার বিয়ে ঠিক করে তাহলে আপনি মুখের ওপর বলে বসেন, ‘আমি তো অন্য মেয়েকে ভালোবাসি। আমার জরিনাকে ভালো লাগে। ওকে আমি বিয়ে করব। তোমরা কী সব মেয়ে পছন্দ করেছ মডার্ন না।’
ভালোবাসা মানুষকে অপব্যয়ী করে তোলে
বন্ধু-বান্ধবকে আপনি এক কাপ চা খাওয়াতে চান না। চায়ের কথা বললে তেড়ে আসেন মারতে। সেই আপনি কোনো মেয়ের প্রেমে পড়ার পর একেবারে দরিয়ার পানির মতো টাকা ঢালেন। প্রেমিকার জন্মদিনে বিরাট দামি নেকলেস গিফট করেন। সেই নেকলেস পেয়ে প্রেমিকা তো একেবারে বাকবাকুম বাকবাকুম করতে থাকে। বাকবাকুম করতে করতে বলে, ‘ওয়াও… তুমি আমাকে এত দামি নেকলেস দিলে।’ জবাবে আপনি বলে ফেলেন, ‘না, এত দামি কোথায় দেখলে? এটা তো কোনো দামই না। আগামী বার এর চেয়ে দামি নেকলেস গিফট করব তোমায়।’
ভালোবাসা মানুষকে বাচাল বানায়
আপনার পেটে বোমা মারলেও কথা বের হতো না এতদিন। কোনো কথা বললে মে… মে… করে কী সব বলেন, মাইক্রোফোন লাগিয়েও তা বোঝা যায় না। এখন কোনো এক ললনার প্রেমে পড়ে আপনি কিয়ার শুদ্ধ করে কথা বলেন। মাঝে মাঝে ইয়েস… নো… ভেরি গুডের মতো ইংলিশও মারেন। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে আপনি আপনার কথাকে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে নিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলেন। আপনার কথার আগা মাথা কোনো বাপের বেটা উদ্ধার করতে পারে না। উদ্ধার করতে না পেরে আপনার কাছ থেকে নিজ উদ্যোগে কেটে পড়ে। ভাবতে থাকে, না জানি আবার কোন প্যাঁচে পড়ে তারা।

Comments are closed.

LATEST NEWS