পাকুন্দিয়ায় ধর্ষিত ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী এখন “মা”

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ধর্ষনের স্বীকার ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী তাসলিমা আক্তার (১৪) নামের মেয়েটিকে প্রসব বেদনা নিয়ে ১৪ ই ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। গত ১৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সেখানে সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্মদেয় সে।

তাসলিমা আক্তার পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা মইসাকান্দা গ্রামের মোঃ খোকন মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় চরকাওনা জনকল্যান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী।

এই ঘটনায় গত ৩ আগস্ট ২০১৭ তারিখে ধর্ষক প্রতিবেশী ৪  সন্তানের জনক মোঃ বকুল (৫৫) কে অভিযুক্ত করে কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছেন তার বাবা। মামলা করার পর থেকে মেয়েটির পরিবারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলো অভিযুক্তের পরিবার।

মেয়েটির পরিবার সুত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী প্রভাবশালী মৃত খাদেম আলীর ছেলে ৪ সন্তানের জনক মোঃ বকুল (৫৫) তাসলিমা আক্তারকে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করলে সে অন্তসত্তা হয়ে পরে। এই সময় তার শারিরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ডাক্তার দেখাতে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষার পর তার পেটে বাচ্চা আছে বলে ডাক্তার জানান। তখন পরিবারটি তাসলিমার কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, মোঃ বকুল মিয়া তাকে ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ধর্ষন করে আসছিল।

বাবা মোঃ খোকন মিয়া বলেন, আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাজারে সবজি বিক্রি করে সংসার চালাই। আমি এই ব্যবসার কাজে বাহিরে ছিলাম। আর বকুল মিয়া (৫৫) প্রায়ই ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে আমার ঘরে আসা যাওয়া করত। ঐদিন আমার স্ত্রী বাড়িতে ছিলনা ও ছোট মেয়ে পাশের মরিচ জমিতে মরিচ আনতে যায়। ঐদিন তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে সে। তার পর থেকে প্রায়ই মেয়েটিকে ধর্ষন করতো বকুল মিয়া। কিন্তু ভয়ে কারও কাছে কিছু বলত না।

মেয়েটির মা মোছাঃ রহিমা বেগম জানান.হঠাৎ শারিরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নেওয়া হলে সেখানে ধরা পরে তার পেটে বাচ্চা আছে। এক পর্যায়ে শিশুটিকে মেরে ফেলতেও প্রস্তাব দিয়েছিলো আসামীর পক্ষ। এখন যেহেতু ছেলে হয়েছে সেহেতু দায় ভার সব বকুল মিয়ারই নিতে হবে।

এলাকায় জানাজানি হলে সমাধানের চেষ্টায় এগিয়ে আসে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা। কিন্তু ঐসময় আসামীপক্ষ সমাধানে কোন রাজি হয় নি।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত বকুল মিয়ার (৫৫) এর সাথে দেখা করতে গেলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায় নি। তিনি এই ঘটনার পর প্রায় ৪ মাস ধরে গা ডাকা দিয়েছেন।

এই বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার এস আই রিয়াজ বলেন, কোর্ট অর্ডার আসার পর তদন্ত পূর্বক ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় এবং তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

 

 

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ