নিরাপত্তার মালিক আল্লাহ

মাওলানা এসএম আরিফুল কাদের।। রাত বাজে ১১টা। পরিহিত জুতা হঠাৎ নষ্ট হওয়াতে মতিঝিল আরামবাগের ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে লাগলাম নতুন জুতা কিনতে। নজর গেল জনতা ব্যাংকের এক শাখার দিকে। পুরোটা দিন সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অফিস শেষে বাসায় হয়ত বিশ্রাম নিচ্ছেন। কিন্তু এত বড় শাখা অফিস রাতে দেখা-শুনার দায়িত্ব একজনের। তাও আবার এক নিরিবিলি-নিঃস্তব্ধ পরিবেশ। কোন হামলা আসলে হয়ত নিজের শক্তিতে প্রতিহত করবে, অথবা এখানেই তার স্বপ্নীল জীবন শেষ। কিছু করার থাকেনা। একমুঠো ডাল-ভাত পরিবারের মুখে তুলে দেয়ার লক্ষ্যে বেচে নিল নৈশপ্রহরীর কাজ। যার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বিভিন্ন ঝড়ঝাপটা। ইসলাম চোর বা অবৈধ ব্যবসা ব্যতীত সব ধরণের কাজ হালাল করেছেন। কিন্তু সেই হালাল ব্যবসা বা কাজ কি জীবন বিনিময়ে করার ব্যাপারে ইসলাম বা মানবাধিকার সংস্থা হুকুম দিয়েছে? জীবন বিনিময় নয় বরং কষ্টার্জিত পয়সায় জীবন চালনার একমাত্র মাধ্যম। যার কথা পবিত্র কোরআনেও পাওয়া যায়। যেমন ইরশাদ হচ্ছেÑ “হে মানবম-লী! পৃথিবীর হালাল ও বস্তু সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না। (সূরা আল বাকারা ১৬৮)

অন্য আয়াতে আছে, “হে ঈমানদারগণ! আমিও তোমাদেরকে যে সকল বস্তু জীবিকারুপে দান করেছি, তা হতে ভক্ষন কর এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা একান্তভাবে তাঁর ইবাদত কর। (সূরা আল বাকারা ১৭২) হালাল উপার্জনে জীবিকা আহরণের প্রশংসা করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) ইরশাদ করেন- “যে ব্যক্তি হালাল উপার্জিত খাবার খায় ও সুন্নাতের উপর আমল করে এবং মানুষ তার অনিষ্ট হতে নিরাপদ থাকে। তাহলে সে জান্নাতী! (ইমাম তিরমিজি, আল-সুনান ৪:৬৬৯)

এজন্য হালাল মাল উপার্জনে নৈশপ্রহরীর পরিশ্রম বৃথা হতে পারে না। তাই তাকে মানবতার দৃষ্টিতে অবহেলিত না হয়ে সম্মাননা পাওয়া উচিত। যা ইসলাম প্রায় ১৫০০বৎসর পূর্বে দিয়েছে। এই নৈশপ্রহরীগণ নিজের জীবন ঝুকি নিয়ে কাজ করায় মহান আল্লাহই তাকে রক্ষা করার ছাড়া আর কে আছে? সত্য হলেও দুঃখের সাথে বলতে হয়, পত্রিকা খুললেই প্রায় সময় দেখা যায় কোথাও নৈশপ্রহরীকে খুন ও কোথাও আহত হওয়ার ঘটনা। তা জাতির জন্য লজ্জা ছাড়া আর কি হতে পারে। মানবতার সেবায় যে অসহায় ব্যক্তিটি সারারাত পাহারার পরও যদি খুন, হতাহত হয়, তা কি মানবতা বিরোধী নয়?

অপরদিকে দেখা যায়, কিছু কিছু অসাধু ও সমাজদ্রোহী ব্যক্তিবর্গের সাথে সম্পর্ক রেখে; ব্যাংক, অফিস লুট এবং স্কুল-কলেজ এবং মাদ্রাসার ছাত্রী ধর্ষণসহ নানা অনৈতিক খবর। তাও লজ্জাজনক, বিশ্বাসঘাতকতা এবং বড় গোনাহের কাজ। যা আমানত ছিল নৈশপ্রহরীর নিকট। তাই নৈশপ্রহরীর কোন শেষ নাই। ঠিক তেমনি বিশ্বাসঘাতকতা ও তিব্র নিন্দা এবং প্রহারতাও এনে দেয়।

সুতরাং এদের দিকে ভাল দৃষ্টি কামনার পাশাপাশি বিশ্বাসঘাতক ও আমানত খিয়ানতকারী হতেও আমরা (বেসরকারী) এবং সরকারী রক্ষা রাখা আবশ্যক বলে মনে করি।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পানাহার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা(প্রাঃ), করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ। আইসিটি সম্পাদক, বাংলাদেশ তা’লিমে হিজবুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ