রামসাগরের একদিন!

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

অর্জুন রায়, দিনাজপুর প্রতিনিধি।। বাংলার ঋতু পরিক্রমায় এখন শীতকাল। হিসেব কষলে দেখা যায় এখন রাতের চেয়ে দিন অনেকাংশে ছোট। শীতের রাত হওয়ার কারনে আলসেমীতে সকালে ঘুম ভাঙ্গতে চায় না অারেকটু ঘুমাই এমন করতে করতে ঢের সময় চলে যায়।

ডিপার্টম্যান্টের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ রাতে হঠাং করে বন্ধু মিহির ফোন করে জানালো দিনাজপুর এইতিহাসিক রামসাগর দিঘী ঘুতে যাবে যেই ভাবা সেই কাজ রাজি হয়ে গেলাম। আমাদের সাথে আরো যোগ দিল দিনাজপুর সরকারী কলেজের ইংরেজী বিভাগের ছাত্র অনন্ত, দিনাজপুর আদর্শ কলেজের চিরঞ্জিৎ ও চম্পক।
আমরা মোটে ৫ জন ঘড়িতে তখন সকাল ৮ টা ৫ জন একত্রিত হয়ে হাটতে শুরু করলাম দিনাজপুর সরকারী কলেজ মোড় হতে হাটা শুরু করে দিনাজপুর গরা-শহীদ-বড়ময়দানে অটো রিক্রাতে উঠলাম উদ্দেশ্য মানুষ নির্মিত বাংরাদেশের সবচেয়ে বড় দিঘী রামসাগর। দিনাজপুর জেলা শহর হতে ৮ কিমি দক্ষিনে হওয়ায় রামসাগরে পেীছতে বেশি সময় লাগলো না আমাদের। জনপ্রতি ১০ টাকা করে টিকিট কেটে আমারা রামসাগর দিঘীর মূল প্রবেশ পথ দিয়ে প্রবেশ করলাম দিঘীর অভ্যন্তরে। দিঘীর চারপাশে ইট বসানো প্রস্থ রাস্থা রাস্তার দু পাশে হরেক রকমের গাছ সবচেয়ে বেশি নজড় কেড়েছে দেবদারু ও বটবৃক্ষ। নাম না জানা হাজারো বৃক্ষ যেনো দিঘীর সৌন্দর্যকে আরো শত গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে।
রামসাগর দিঘীর ইতিহাস-
রামসাগর দিঘী দিনাজপুর জেলার তাজপুর গ্রামে অবস্থিত একটি মানবসৃষ্ট সুবিশাল দিঘী। এটি বাংলাদেশের মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় দিঘী। তটভূমি সহ রামসাগরের আয়তন ৪,৩৪,৪৯২ বর্গ কিমি, দৈঘ্য ১,০৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গবীরতা প্রায় ১০ মিটার । দিঘীর পারের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার।

দিনাজপুরর এইতিহাসিক রাজ রামনাথের রাজত্বকালে ১৭২২ থেকে ১৭৬০ খৃষ্টাব্দে পলাশী যুদ্ধের আগে ১৭৫০-১৭৫৫খৃষ্টাব্দে মধ্যে এই সুবিশাল দিঘীটি খনন করা হয়। তারই নাম অনুসারে দিগীটির নাম রাখা হয় রামসাগর দিঘী। দিঘীটি খনন করতে তখনকার সময়ে ৩০,০০০ টাকা ও ১৫,০০,০০ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল।
লোকমুখে প্রচলিত আছে-

কথিত আছে, ১৭৫০ সালে দেশে এক প্রচন্ড খড়া দেখা দিলে  পনির জন্য মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে হাজারো মানুষ । তখন দয়ালু রাজা স্বপ্নেদেশে পানির অভাব মেটানোর জন্য একটি পুকুর খনন করেন।মাত্র ১৫ দিনে এর খনন কাজ শেষ হয়।  কিন্তু খনন কাজ সম্পন্য হলেও দিঘী দিয়ে পানি উঠলো না তখন রজা স্বপ্নে এক দৈব বানী পেলেন তার একমাত্র ছেলে রামকে পুকুরে বলি দিলে পুকুরে পানি উঠবে। স্বপ্ন দ্রষ্টা রাজা দীর্ঘদিন ধরে দিঘীর মাঝে একটি মন্দির নির্মান করেন । তারপর এক ভোরে যুবরাজ সাদা পোশাক পরে হাতির পিঠে চরে দিগীর দিকে রওয়ানা হলেন । যুবরাজ দিঘীর পারে পৌঠে সিড়ি দিয়ে দিঘীর মাঝে নির্মিত  মন্দিরের কাছে গেলেন সঙ্গে সঙ্গে পাতাল থেকে পানি উঠে দিঘী ভরে গেল।

দিঘী সম্পর্কীত ম্যুরল পড়তে পড়তে হঠাত করে অনন্ত সাড়া দিয়ে জানালো পাশে রামসাগর দিঘীর মিনি চিরিয়াখান চললাম চিড়িয়াখানার পানে। চিরিয়াখানায় আছে অজোগর, হরিন, বানর সহ বিভিন্ন প্রানী । কিন্তু চিরিয়াখানার পরিবেশ পর্যটকের অত্যাচারে বিরক্তি চিরিয়াখান জীবজন্তু।

এদিকে রামসাগর দিঘী ঘুড়ে দেখা যায় রামসাগর কতৃপক্ষের অবহলে অযত্নে পরে আছে অনেক মূল্যবান স্থাপনা। দিঘীর দিক্ষিনে সিমানা প্রাচীর অনেকাংশ ভাঙ্গা। ভাঙ্গা অংশ দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে অপরাধীরা। নেশার আখড়ায় পরিনত হয়েছে রামসাগর।

দেখতে দেখতে সূর্য পূর্ব অাকাশ হতে পশ্চিমের দিকে অস্ত যায় এবার ফেরার পালা। দিঘীর ভিতরে একটি দোকানে বিকেলের নাস্তা ও ৩ টাকার পা খেয়ে রওয়ানা দিলাম বাড়ির পানে।

Comments are closed.

LATEST NEWS