পাকুন্দিয়ার বাহাদিয়া ব্রম্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি বিলীন

শফিক কবীর, স্টাফ রিপোর্টার ।। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার বাহাদিয়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী গর্ভে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে এলাকাবাসী।

জানাযায়, পাকুন্দিয়া উপজেলার পুরাতন ব্রম্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলনের জন্য সরকারের কাছ থেকে মনিরাকান্দি বালু মহাল ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বালু ব্যবসা করে আসছে স্থানীয় জহিরুল হক। মনিরাকান্দি বালু মহাল ইজারা নিয়ে কুটকৌশলে ইজারাদার মনিরাকান্দি থেকে প্রায় ৮ কিঃমিঃ দক্ষিণে বাহাদিয়া এলাকায় তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করে ড্রেজার দিয়ে পুরাতন ব্রম্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে নির্বিঘ্নে। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করে কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা।তাদের অভিযোগ ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষায় পাকুন্দিয়া উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে জানালে মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের ড্রেজারসহ ট্রাকভর্তি বালু জব্দ করলেও ইজারাদারের বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছেনা। তারা জানতে চায়, ইজারাদারের খুঁটির জোর কোথায়?

গ্রামের কয়েকজন ভূক্তভোগী জানান,ফসলি জমি হারিয়ে আমরা দিন দিন নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। ইজারাদার জহিরুল হকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান ব্রম্মপুত্র নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য আমার অনুমতি আছে,আপনার জানার দরকার হলে উপজেলায় ও ডিসি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। এর কিছুক্ষন পর ০১৭৬৬ ৪৩২১৯৯ মোবাইল্ নাম্বার থেকে পাকুন্দিয়ার নায়েব পরিচয় দিয়ে বলেন বাহাদিয়ায় বালু তোলার অনুমতি আছে।

আর এদিগে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধরের সাথে অফিসে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পাকুন্দিয়ার মনিরাকান্দি এলাকায় একটি বালু মহালের অনুমোদন আছে, চরকাওনা থেকে চরলক্ষিয়া পর্যন্ত মোট পাঁছটি আর এস দাগে ৭৬ দশমিক ১১ একরের বালু মহালটি ২০১৭ সালের ২৯ মে জনাব জহিরুল হককে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাকুন্দিয়ায় আর কোন বালু মহাল নাই। লিজ দেওয়া বালু মহাল ছাড়া পাকুন্দিয়া এলাকায় ব্রম্মপুত্র নদের যে কোন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ