শুভ জন্মদিন মহামান্য : জীবন তাপস তন্ময়

মুক্তকলাম ।। মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলায় কামালপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে ১৯৪৪ সালের ১জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী তায়েব উদ্দিন আর মায়ের নাম তমিজা খাতুন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার জ্যেষ্ঠ। বোন ও ভাইয়েরা সমাজ-সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। মা-বাবা ও এক ভাই আজ পরলোকগত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তাঁর স্ত্রী শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক। সন্তানেরা সবাই বিবাহিত ও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে লদ্ধপ্রতিষ্ঠ সম্মানিত।

বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন শেষে তিনি আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষাজীবনেই তিনি রাজনীতিতে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ফেলেন। আইয়ুব বিরুধী আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। জেলা ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ নীতিনির্ধারক নেতা, গুরুদয়াল কলেজ ছাত্রসংসদ জিএস ও ভিপি , জেলা আইনজীবী সমিতি সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নীতিনির্ধারক, এমএনএ, এমপি, বিরোধী দলীয় উপনেতা, ডেপুটি স্পীকার, স্পীকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সুনাম খ্যাতি ও যশস্বী হয়ে আজ তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতায় দায়িত্বপালন করছেন।

বাংলাদেশে তিনি তৃণমূল রাজনীতির প্রধান পুরুধা মহান ব্যক্তিত্ব। কিশোরগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী মতাদর্শী বিভিন্ন সংগঠনের যে সকল নেতৃবৃন্দ সুনামের সাথে দায়িত্বপালন করছেন,সবাই তাঁর অনুসারী ও তিনি সকলের রাজনীতিক শিক্ষাগুরু। সবাইকেই তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শের দীক্ষা দিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক হিসেবে। তিনি এমন রাজনীতিক যাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম মেম্বার জননেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও তাঁকে ‘আমার নেতা’ সম্বোধন করতে এতটুকুন দ্বিধা করেন না! সবার কাছে তিনি আদর্শ ব্যক্তিত্ব। ভাটিবাংলাকে তিনি সামগ্রিক সম্ভাবনায় শান্তি ও উন্নয়নের মানদণ্ডে ঈর্ষনীয় সফলতায় বিন্যস্ত করেছেন। আগামী দিনেও এর ধারাবাহিতা অক্ষুণ্ণ অটুট ও গতিশীল করতে তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান জননেতা রেজওয়ান আহাম্মদ এমপি’কে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে কিশোরগঞ্জের মানুষ তাঁর সন্তানকে অকাতরে আপন ক’রে নিয়েছে। বাবার যথার্থ উত্তরসূরি হিসেবে সবার কাছে তাঁর সন্তান নিজেকে একাত্ম ক’রে নিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হিসেবে সবাই আজ তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তানকে অলিখিতভাবে গ্রহণ ক’রে নিয়েছেন। সেই একই সুর একই কণ্ঠ একই একাত্মতা গণমানুষের প্রতি! এ যেন এক অন্য হামিদ!

কিশোরগঞ্জের কৃতিসন্তান বিদগ্ধ রাজনীতিক মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মৃত্যুবরণ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নীরিখে মাননীয় স্পীকার আবদুল হামিদকেই নির্বাচন করেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। শুধু আওয়ামী লীগই নয় সব রাজনীতি দলই তাঁকে দ্বীধাহীনতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে গ্রহণ ক’রে। ভাটিবাংলার অভিভাবক থেকে তিনি আজ বাংলাদেশ অভিভাবক হিসেবে দেশ-আদর্শ মহান ব্যক্তিত্ব। মাহিয়ান মহিরুহ!

মহামান্য আবদুল হামিদ। একটি নাম। একটি প্রতিষ্ঠান। সতত সাধনা সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এক ঘুরে দাঁড়ানো অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। আজ ১ জানুয়ারি। আজকের এই দিনে তিনি পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন প্রথম। যে আলোয় আলোকিত হয়ে ভাটিবাংলা তথা প্রিয় বাংলাদেশকে আলোকিত করছেন স্বকীয় স্বত্তা আর মহিমায়। এই দিনে আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও খ্যাতিদীর্ঘ মর্যাদাবান উন্নত উচ্চকিত সুফলা সফল জীবনের আজীবন ধারাবাহিকতা কামনা করি। মানুষের প্রার্থনার আলো নিয়ে তিনি বেঁচে থাকুন মহাকালের মহানায়ক হয়ে, ঐকান্তিক কামনা।

 

লেখক : সাহিত্যিক, কলামিস্ট, সাংবাদিক।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ