ছাতকে হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের টাকা কোটিপতির পকেটে

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ।। ছাতকে অসহায় ও হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোটিপতিরা। আইন-বিধি লংঘন অবৈধভাবে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনা নিয়ে উপজেলা জুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে দেশের সরকারি হাট-বাজার সমূহের ইজারালভ্য শতকরা ৪% ব্যয় সংক্রান্ত নীতিমালা ২০১৫ইং অনুযায়ি হতদরিদ্র ও গরিব মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণ, সংস্কার, চিকিৎসা, শিক্ষাও প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ এবং কন্যা সন্তানের বিবাহ বিষয়ে যাচাই-বাছাইক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে ২০১৭সালে ৭৬জন গরিব মুক্তিযোদ্ধাকে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরআগে ২০১৫সালে রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা গরিবদের মধ্যে সমবন্টনর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব টাকা বন্টনের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সহকারি ইউনিট কমান্ডার জিতু মিয়ার প্রতিনিধি, ছাতক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধি আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া, সহকারি ইউনিট কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, সদস্য সচিব উপজেলা সমাজসেবা অফিসার অসীম সরকার ও সংসদ সদসের মনোনীত প্রতিনিধি সাবেক কমান্ডার নূরুল আমিনসহ ৫সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। একমিটি উপজেলার সব মুক্তিযোদ্ধাদের  যাচাই-বাছাই করে অসহায় ও হতদরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত করে একাধিক কোটিপতির নাম। তারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় হতদরিদ্রদের ৩০হাজার টাকা উপজেলা কমান্ডার ভাতগাঁও ইউনিয়নের হায়দরপুর গ্রামের মৃত আলতাব আলীর পুত্র আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া, নোয়ারাই ইউনিয়নের সিঙ্গেরকাছ গ্রামের মৃত সুনাহর আলীর পুত্র গোলাম মোস্তফা ২৫হাজার, কুপিয়া মৃত আব্দুল গফুরের স্ত্রী আনেছা বেগমকে আর্থিক সাহায্য ১৪হাজার, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের পুত্র সিরাজ উদ্দিন ২৫হাজার, পৌরসভার বাগবাড়ি গ্রামের হাজি আব্দুল গণির পুত্র নিজাম উদ্দিন বুলি ২৫হাজার, বাগবাড়ি গ্রামের ফজলুর রহমানের পুত্র পিয়ারা মিয়া ১০হাজার, মন্ডলীভোগ গ্রামের নরেশ ঘোষের পুত্র অজয় ঘোষ ১০হাজার, তাতিকোনা গ্রামের সচিন্দ্র কুমার দাসের পুত্র স্বরাজ কুমার দাস ১০হাজার, লেবারপাড়া গ্রামের আব্দুল হাসিমের পুত্র আব্দুর রহিম ১০হাজার, ইসলামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের ইসকন্দর আলীর পুত্র লাল মিয়া ২৫হাজার, নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের মছদ্দর আলীর পুত্র আব্দুল কাইয়ূম ২৫হাজার, জাউয়া ইউনিয়নের কাইস্তকোনা গ্রামের ব্রজেন্দ্র কুমার দাসের পুত্র মহেন্দ্র কুমার দাস ২৫হাজার, কৈতক গ্রামের উমেদ দস্তিদারের পুত্র রমাকান্ত দস্তিদার ১০হাজার, চরমহল্লা ইউনিয়নের জালালীচর গ্রামের ফজলুর রহমানের পুত্র জিতু মিয়াসহ সর্বমোট ৭৬জন দরিদ্রকে চিকিৎসার জন্যে ৫লক্ষ ৮৪হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এ বিতরণের মধ্যেই রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও লুঠপাটের অভিযোগ। খোদ উপজেলা কমান্ডার ও তার সহযোগিরা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করে নিজেদের নামেই তালিকা তৈরি করে বরাদ্ধের টাকা উত্তোলন করে নেয়। এছাড়া নিয়ম-নীতি লংঘন করে ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭সালে একই ব্যক্তিকে দরিদ্র দেখিয়ে ৫হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। যদিও অনেক হতদরিদ্র টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এরপরেও ২০১৭সালের ১৬ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েই ওইদিন সবাই ব্যস্ত সময় কাটান।

এব্যাপারে উপজেলা কমান্ডার আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া জানান, আইন মোতাবেক অসুস্থ্য, বিয়ে-শাদি, অসহায় ও সিরিয়াস রোগিদের মধ্যে এসব টাকা বন্টনে অগ্রাধকার দেয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি তিনি এড়িয়ে যান।

Comments are closed.