কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা!

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ ।। কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এক কোটি সাতাশ লক্ষ ছত্রিশ হাজার চারশত একাত্তর টাকা জমা পড়েছে। এছাড়াও সোনা, রূপাও বৈদেশিক মুদ্রাও জমা পড়েছে এ দান বাক্সে। তবে এসবের হিসাব এখনো করা হয়নি। চার মাস ১০দিন পর শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটির দান বাক্সগুলো খোলা হয়। সর্বশেষ গতবছরের ২৬শে আগস্ট মসজিদের ৮টি দানবাক্স খুলে গণনা করে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে এই মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের সঙ্গে একটি মাদ্রাসাও রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে, এখানে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। আর এ কারণেই মূলত দূর-দূরান্তের মানুষও এখানে মানত করতে আসেন। এছাড়াও এখানে জুমার দিন প্রচুর লোক সমাগম হয়। মসজিদে নারীরা আলাদা নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদটি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি (পদাধিকারবলে) জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌরমেয়র মাজহারুল ইসলাম ভুঁইয়া কাঞ্চন। দানবাক্সগুলো খোলার সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার ( ৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠকে জানান, সাধারণত তিন মাস পর পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। শনিবার দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। টাকাগুলো গুণে এতে নগদ এক কোটি সাতাশ লক্ষ ছত্রিশ হাজার চারশত একাত্তর টাকা পাওয়া গিয়েছে। টাকাগুলো পুলিশ এস্কর্ট সহকারে রুপালী ব্যাংকে জমা রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সোনা,রুপার পরিমাণ এখনো মাপা হয়নি। যে স্বর্নালংকার পাওয়া গিয়েছে তা গতবারের স্বর্নালংকারের সাথে যোগ করে সিন্ধুকে রেখে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু মার্কিন ডলার, সিঙ্গাপুরি ডলার, সৌদি রিয়াল ও  মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত পাওয়া গেছে। সেগুলো এখনো ভাঙানো হয়নি।


এই মসজিদের দানবাক্সগুলো যখনই খোলা হয়, তখনই সাধারণত এক কোটি টাকার কাছাকাছি পাওয়া যায়। এবার সর্বোচ্চ টাকা পাওয়া গেছে।দানবাক্সে পাওয়া এই টাকা মসজিদ কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের পরামর্শক্রমে বিভিন্ন মসজিদে দান-খয়রাত, মাদ্রাসার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ