প্রচন্ড শীত ও হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে পাকুন্দিয়াবাসী

নূরুল জান্নাত মান্না, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ।। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মত স্মরনকালের ভয়াবহ শৈত্য প্রবাহের কবলে পড়েছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়াবাসী। তারমাত্রা কমে গেছে রেকর্ড পরিমাণ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জীবন যাত্রা। পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষেরা বলছেন, এধরনের শীত গত ৪০/৫০ বছরে দেখে নাই। অন্য যে কোন সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বেশি শীত পড়লেও পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষ কখনো এধরনের শীতের কবলে পড়েনি। অতিরিক্ত শীতের কারণে বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের পেশাগত কাজে যোগ দিতে হচ্ছে দেরিতে। এমনকি প্রচন্ড শীত ও কুয়াশার কারণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদেরও স্কুলে যেতে দেরি হয়।

পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ও খবর নিয়ে জানা গেছে, তীব্র শীতের প্রকোপে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ। ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া রোগে ভুগছে বেশির ভাগ শিশুরা। ঘণ কুয়াশার কারণে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকার শাক-সব্জি ও বীজতলাগুলো। আবার এদিকে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি, হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা। প্রচন্ড শীতে তাদের বেড়ে গেছে চরম দুঃখ দুর্দশা। কারণ, তারা সময় মত কাজে বের হতে পারে না। অনেক রিক্সা চালক শীতের ভয়ে রিক্সাও চালাতে চায় না। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে কিছু কিছু শিশু শিক্ষার্থী সময় মত স্কুলে আসলেও অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা অনুপস্থিত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকের সাথে আলাপ করে দেখা গেছে, প্রচন্ড শীতের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে চায় না, আবার কোন কোন অভিভাবক প্রচন্ড শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের বাচাঁতে স্কুলে শিশুদের পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতের সংখ্যা একটু বেশি।

এদিকে পাকুন্দিয়ার মার্কেটগুলোতে শীতের কাপড় কেনার জন্য ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এসুযোগে দোকানদাররা শীত বস্ত্রগুলো দ্বিগুন বিক্রি করছে।

অন্যদিকে শীতের তীব্রতার মাঝে শীত নিয়ে সুখবর নেই মানুষের জন্য। দেশের গণমাধ্যমগুলো বলছে শীতের তীব্রতা থাকবে আরো কয়েকদিন।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ