রাতকে ভোরের দিকে নেয়া হাত চাই : জীবন তাপস তন্ময়

মুক্তকলাম ।। অন্ধ হয়ে নয়, আমি বিশ্বাস করি সব দেখে-শুনে। যৌক্তিকতা নীরিখে। কার্যকারণ ছাড়া কিছুই ঘটে না। সব কিছুতেই অন্তর্গত কিছু হেতু নীহিত। সংশ্লিষ্টতা থাকে। যারা মানতে চায় না, বোকার স্বর্গে বাস করে। ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল’ প্রকৃতির লোকই বেশি দেখি। জোর করে ভালোবাসা আদায় করা যায় না। হৃদয় দাসত্ব মানে না।’জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিহীনতাকে আর প্রশ্রয় দান নয়।’মানুষকে হত্যা করা যায়, পরাজিত করা যায় না!’ কোন কোন পরাজয়ে গৌরব আছে, এ জন-বিদিত।

এখন একাই একশো হওয়া সহজ, একশো জনে এক হওয়া যায় না। দিন-দিন মূল্যবোধের অবক্ষয় কাল বাড়ছে। কেউ কাউকে মানতে চাই না। সমগ্র মানুষটাকেই আমরা ছুঁড়ে ফেলে দিই। অস্বীকার করি। এ এক ভয়াবহ দীনতা চলছে। সর্বত্র, সবখানেই।

প্রতিযোগিতা থাকবে, প্রতিহিংসা নয়। কেউ যখন অন্য কাউকে হিংসা করে, তখন সে তার যোগ্যতাকে স্বীকার করে নেয়। পক্ষান্তরে। নিজেকে তার মতো যোগ্য ও সক্ষম দেখতে চায়। এদের প্রতি মায়া হয়। অনুকম্পা জাগে। নিজের কাজটা নিজের যোগ্যতা অনুসারে করে ফেলা উচিত। কারুর দয়ার প্রতি তাকিয়ে না থেকে। ভালো কাজে শত্রু বেশি। শত্রুভিত না হয়ে কাউকে না ক্ষেপিয়ে নিজের মতো করে আপন কর্ম সম্পাদন করাই মোক্ষম। কৌশলী হয়ে। কথা কম কাজ বেশি,দেশকে ভালোবাসি প্রকৃতি যাদের, তারাই সফলতা পায় সহজিয়া। কম সময়ে।

যারা কাজ করে না, তারাই অন্যের সমালোচনা করে বেড়ায়। কাউকে খাটো করে দেখা সমীচীন নয়। প্রত্যেকের মধ্যেই কিছু না কিছু ভালোত্ব-আলোত্ব থাকে, গোপনে লুকিয়ে। মানুষের সেই ভালোত্ব টুকুন অকৃপণ হাতে লুফে নিতে হবে। চরিত্রের নেতিবাচকতার দায় ব্যক্তি নিজের। আর কারুরই নয়। বিভাজন হলে দোষের না, যদি আলাদা-আলাদা অভিন্ন আদর্শ, যা সমাজবদল দিনবদলে সহায়ক হয়। যদি তা দেশপ্রেমের মোহনায় এসে মিলিত হয়।

ধর্ম ও রাজনীতি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরিহার্যতায় এসে ঠেকছে। এ অস্বীকার করা যায় না। ধর্ম আস্তিকতা ও নাস্তিকতা বিভাজনে প্রযুক্ত। এখানেও গণতান্ত্রিক উপায় বজায় রাখা অপরিহার্য। সভ্যতার সৌন্দর্যে। আস্তিকতা ও নাস্তিকতা দুইই সমান পদবাচ্যে বিবেচ্য। ব্যক্তির নিজস্ব। সার্বজনীন নয়। ধৃ ধাতু থেকে নিসৃত ধর্ম। ধৃ মানে ধারণ করা। ব্যক্তি যা তার চরিতাভিধানে লালন করে তা-ই তার ধর্ম। ধর্মীয় সংস্কৃতিকে উদার-উদাত্ত হওয়া চাই। মুক্তবোধি পরায়ণ হওয়া দূর্মরাকাঙ্ক্ষা।

রাজনীতি সব নীতির রাজা। সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে। রাজনীতির বাইরে কেউ না। রাষ্ট্র পরিচালনার যে সব নীতিমালা, তা-ই রাজনীতি বলে বিবেচ্য। তাই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে উদার সহানুভূতিশীল হওয়া সভ্যতার আলো প্রজ্জ্বলিত করার পূর্বশর্ত। গণতন্ত্র সুরক্ষা ও অনুশীলন রাজনীতির সহজাত চারিত্র্য হওয়া উচিত। তবেই এই দেশ এই সমাজ সুন্দর হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে, নিকষ-কালো রাত নেমে আসবে। যে রাতকে ভোরের দিকে নিয়ে যাওয়া হাত পাওয়া যাবে না।

 

লেখক : সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কলামিস্ট।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ