এবার আমরণ অনশনে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা

জাতীয় ।। এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী এবং জাতীয়করণের দাবিতে ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের আমরণ অনশনের পর এবার আমরণ অনশনে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে তারা বুধবার থেকে আন্দোলনে নেমেছেন। এ দাবিতে বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলন শুরু করলেও বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে তারা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। দাবি আদায় না হলে ১৪ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারাও।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্যদূরীকরণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। সারাদেশের প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তারা বলেন, দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা নামে মাত্র বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তা দিয়েই মানবেতন জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অথচ ৩ শতাংশ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উচ্চমানের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতে হবে। এ দাবিতে আমরা রাজপথে নেমেছি।

সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচটি সংগঠন এক জোট হয়ে ‘বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের’ উদ্যোগে এ আন্দোলন শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার ছিল অবস্থান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিন যে শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, তারা সারারাত কনকনে শীতের মধ্যেও প্রেসক্লাবের সামনে রাত কাটিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা পাটি বিছিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বসে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, জাতীয়করণ ছাড়া আমরা ঘরে ফিরে যাব না। ১৩ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে ১৪ জানুয়ারি দেশের ২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা আমরণ অনশনে বসবেন।

তিনি বলেন, সরকারের নীতি-নির্ধারক প্রায় সব পর্যায়ে লিখিতভাবে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি। গত দুদিন ধরে শীতের মধ্যে রাস্তায় বসে কষ্ট করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও আমাদের দিকে মুখ তুলে দেখা হচ্ছে না। এ কারণে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ