নিশিভোরের কবি ।।মাসুদ রানা মাসুদ

সাহিত্য ও সংস্কৃতি।।

নিশিভোরের কবি

মাসুদ রানা মাসুদ

আমি এক গভীর রাতের নিদ্রাহীন আঁখি,
সবাই যখন বিভোর ঘুমে,
আমি তখন নিশিকাব্যের বাসনা আঁকি,
জ্যোতিময় চাঁদের হাসি দেখি,
ঝিঝি পোকার শক্ত সুর শুনি,
সাদাকালো ছাঁয়া পথে হাঁটি,
ছন্দের তালাশে এদিক ওদিক ছুটি,
আমি নিশিরাতের দুর্দান্ত কবি,
ছন্দ লয় তান খুঁজে আনবো সবি,
আমি কবি,
একটি কবিতা রচিতে রয়েছি জাগি,
চারদিক নীরব নিস্তব্ধ,
স্রষ্টার সৃষ্টি মনে হয় সবাই ঘুমিয়ে আছে,
আমি একা জেগে আছি,
আমি তোমার গোলাম চরণ দাসী,
আমার চোখে ঘুম নেই,
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি!
কিন্ত কেন?
আমার অনুভূতি নেই,
কারণ,
নিশি প্রকৃতি চ্যুতচিহ্ন বিবর্ণ কর্মশালা,
চাই না আর জ্বালাতন করুক বিমলা,
আমি কবিতা রচিবো,
তোমাকে কবিতা শুনাবো,
সমস্ত শরীরে কবিতার বর্ণমালা ঝুলছে,
একটি কাতারো সাজাতে পারছি না?
মনের উচ্ছ্বাসোক্তি কেমন নিস্তেজ!
তোমার কোনো করুণা কৃপা পাচ্ছি না!?
ধ্যানঠুটা নিশিভোর,
আঁখি কোণে বিন্দুবিন্দু জল,
মনের আকাশে দীপ্তকারীর আভাস নেই,
তাই বলে কি?
আমার কবিতা রচিত হবে না?
শুদ্ধচিত্ত মনোবৃত্তিসম্পন্ন তো ঠিক আছে,
তবে কবিতার রূপ কোথায় প্রভূ?
আমি পঞ্চদিক খুঁজে পাচ্ছি না,
কবিতার স্বরবৃত্ত হারিয়ে ফেলেছি কি?
না না-আমি কবি,
প্রতিটি জ্যোতিময় নিশি জেগেছি,
তোমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনাতে,
আজ বুঝি কবিতা রচিত হলো না,
হৃদয় হতে কলম ছিটকে পড়েছে!
কারণ,
নিজেকে কবি বলে অহংকার করেছি,
আমি কবি নই প্রভু,
নতশিরে ক্ষমা মেগেছি তোমার দরবারে,
তুমি আমার কালবের মহাকবি,
ফুটন্ত অফুটন্ত ফুল ফল তোমার সৃষ্টি সবি।
আমি হতে চাই নিশিভোরের কবি।

Comments are closed.