রাজশাহীতে তাপমাত্রা বাড়লেও কমেনি ঠান্ডা

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহী।। রাজশাহীতে কিছুটা তাপমাত্রা বাড়লেও ঠান্ডা কমেনি। গেলো দু’দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও( বৃহস্পতিবার শুক্রবার ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি) শনিবার  নেমেছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রিতে। রবিবার সকালেও অপরিবর্তিত থাকে।ফলে যেমন বাতাস বেড়েছে তেমন ঠাণ্ডা বেড়েছে।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, বাতাস বেশি না থাকলেও একটু আছে এবং বেশী শীত অনুভূত হওয়ার অন্যতম কারণ ঘন কুয়াশা।

রবিবার তেমনভাবে সূর্যের দেখা মেলেনি। যার কারণে স্বাভাবিকভাবে ঠাণ্ডা বেড়েছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে এমন পরিস্থিতি কেটে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রায় দেড় সপ্তাহ থেকে রাজশাহীতে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। মাঝে দু’দিন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ৬ ডিগ্রির নীচে। মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও কনকনে ঠাণ্ডা কমেনি। এরই মাঝে আবারো শুক্রবার তাপমাত্রা নিচে নেমেছে। সাপ্তাহিক ছুটি হবার কারণে অনেকে কেবল জুম্মার নামাজের সময় বের হয়েছেন। তাছাড়া তীব্র শীত অনুভূত হবার কারণে বাড়ি ছেড়ে কেউ বের হননি।

প্রতিদিন দুপুরের দিকে সামান্য কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার কারণে তেমনভাবে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। যার কারণে শীতের কামড় মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। কোনো ভাবেই দুর্ভোগ কাটছে না নিম্ন আয়ের মানুষদের। কনকনে শীতের ধারাবাহিকতায় বেশি কষ্ট পাচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। এর মধ্যে ছিন্নমূল ও কর্মজীবী মানুষগুলো পড়েছেন বেশি বেকায়দায়। শীত থেকে রক্ষা পেতে তারা খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা কম দামে গরম কাপড় কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট,
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন আলু, টমেটো ও বোরো চাষিরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় আলু ও টমেটোতে লেটব্লাইট এবং বোরোর বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিবার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা বিভিন্ন বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করতে চাষিরা বীজতলা রাতে পলিথিন বা পানি দিয়ে ঢেকে রাখছেন। সূর্য উঠলে তা সরিয়ে ফেলছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, গত দু’দিনের তুলনায় রাজশাহীতে তাপমাত্রা আবারো কিছুটা কমেছে।  আগামী দু’একদিন এমনাবস্থা থাকবে।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ