দুই মাস ধরে ভূতের বাড়ি কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ক্যাম্পাস

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
জানুয়ারি ১৭, ২০১৮ ১:২৪ অপরাহ্ণ

শাহরিয়া হৃদয়, নিজস্ব প্রতিবেদক ।। আজব মনে হলেও সত্যি। প্রায় দুই মাস ধরে কিশোরগঞ্জ জেলার একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সরকারি প্রতিষ্ঠান কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে নেই কোনো বিদ্যুৎ।

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর এ ক্যাম্পাসে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের ১৬ তারিখে ঘটনাচক্রে জ্বলে যায় ট্রান্সফর্মারগুলো। এরপর থেকেই ভেঙে যায় বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা। সমগ্র ক্যাম্পাসের একাডেমিক, প্রশাসনিক,ছাত্রে হোস্টেল,কোয়ার্টারসহ পুরো কম্পাউন্ডে যদি কাউকে সন্ধার পরপরই ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে সে নিশ্চই ভয়ে পালাতে চাইবে।

গত ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত পর্ব সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্ররা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে মোমবাতির আলোতে পড়ে। হোস্টেল সুপার সৈয়দ কামরুল ইসলাম পরীক্ষা উপলক্ষে ছাত্রদের হোস্টেলের মাসিক বেতন থেকে কিছু টাকা নিয়ে প্রতি রাতে দুই ঘন্টা করে জেনারেটর সুবিধা দিয়েছিল ছাত্রদের। যা সময়ের তুলনায় অপ্রতুল বলে ছাত্ররা দাবী করে।

প্রকৌশল বিদ্যা পড়ূয়া এসব ছাত্ররা আরও দাবী করে ,তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে ল্যাবে হাতে কলমে কাজ করে অভিজ্ঞতা নেয়া। কিন্তু ২ মাস ধরে তা করতে পারছে না বলে তারা তাদের ১ সেমিস্টারের ব্যাবহারিক কাজ শিখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্টানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মনির উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার ব্যাপারে তিনি কিশোরগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতিকে বেশ কয়েকবার জানিয়েছেন। কিন্ত্যু কোনো কাজ হচ্ছেনা।

ছাত্ররা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে বলেন ” স্যারের ( অধ্যক্ষ মনির উদ্দিন) মত বড় মাপের অফিসারের কথায় যেখানে ২ মাস ধরে প্রযুক্তি নির্ভর একটা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধান হয়না সেখানে স্যারের অভিযোগ করার ধরন এবং পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
ছাত্ররা আরও বলেন ” বারবার স্যারের কাছে যাওয়ার পর স্যার আমাদের বলেন উনি কথা বলেছেন । এখনও ব্যাবস্থা হচ্ছে না। আমরা ছাত্ররা যেন চেষ্টা করি।এখন আমরা কি আর করব? লাগাতার আন্দোলনে গেলে আমাদের নিজেদেরই পড়াশোনার ক্ষতি হবে”।

বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে দেশ গড়ার হাতিয়ার তৈরীর কারখানা বলে বিবেচিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস দেখতে যদি কবরস্থান মনে হয় তাহলে এ লজ্জা আমরা রাখি কোথায়?

Comments are closed.