আমাদের সমাজে গালির ব্যবহার!

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
জানুয়ারি ২০, ২০১৮ ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : গালির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এ বিষয়টা যে মন্দ সেটা আমরা সবাই জানি। তবুও সেটা অনেক সময় অনিচ্ছা থাকা স্বত্তেও চলে আসে। এটা সব মানুষই জীবনের কোন এক সময় অন্তত একবার হলেও ব্যবহার করেছে। তবে সেটা ভাল বা মন্দ কাজের মধ্যেই হোকনা কেন। গালিটা আমরা ভাল-মন্দ উভয় সময় ব্যবহার করে থাকি।

এ গালি ব্যবহারের কিছু সময় বা পরিস্থিত আছে। কোন কারণে মানুষ ক্ষিপ্ত হলে এ গালি প্রকাশ করে। গালি প্রকাশের কিছু মাধ্যম আছে। সেটা হলো মুখের ভাষার মাধ্যমে আবার অঙ্গ ভঙ্গির দ্বারা।

কোন কাজ বা কোন কিছু করার পর যদি কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি রাগান্বিত হয় আর কিছুই বলতে না পারে তবে তখন কিছু এমন অঙ্গ ভঙ্গি প্রকাশ করে যার মাধ্যমে গালি প্রকাশ পায়। মুখের দ্বারা গালি দিতে না পারলেও অঙ্গের দ্বারা তা প্রকাশ করে।

পৃথিবীর সব গালিইযে খারাপ কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে তা কিন্তু নয়। ভাল কাজের সময় কিন্তু ব্যবহার করে থাকে। যেমন ধরুন, কোন একজন লোক একটা ভাল কাজ করল তখন আমরা একটা গালি দিয়ে বলি সে (…) কাজ করছে। সেটা হিংসাবসত করে থাকি।

আমরা বন্ধু-বান্ধব একসাথে হলে যেন একদল গালিও সমাবেত হয়। গালিও যেন তারি সাথে তাল মিলিয়ে চলে। উঠতে বসতে গালি। তবে সেটা আক্রোশের গালি না ভালবাসার গালি।

বতর্মান আধুনিক যুগের তরুন সমাজের ভদ্র ছেলে বা মেয়েরা কিন্তু গালি দিতে কম আগ্রহ বোধ করে না। তারাও গালি দিয়ে থাকেন। তবে সেটা পুরাতন বা গ্রাম্য ভাষায় নয়। আধুনিক ভাষা বা ইংরেজি ভাষায় গালি দিতে সাচ্ছন্দ বোধ করে। বতর্মান সময়ে আমরা অনেক বিষয় নিয়ে মন্তব্যের ঝড় তুলি। তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। তবে সেখানেও দেখা যায় বিভিন্ন বিষয়ে নানা ধরনের মন্তব্য। তার মাঝে একদল লোক গালির মাধ্যমে মন্তব্য করতে ব্যস্ত থাকেন। কিছু দিন পূর্বে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিষয় ভাইরাল হয়। সেটা হলো, নোয়াখালী বিভাগ চাই? এখানে অনেকই বিষয়টাকে ইতিবাচক চোখে দেখেছেন। তবে আরেক দল নোয়াখালীকে গালি দিয়ে যেন নোয়াখালীর চোদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করে ফেলেছে।

এই গালি থেকেও নিস্তার পায়নি ক্রিকেট দল বা ক্রিকেটাররাও। কোন দল খেলায় জয় লাভ করার পর তাদের বাহবা দিলে হারা দলকে গালি না দিয়ে যেন মুখটা বন্ধ করতে চান না, এক প্রকার লোক। আবার কোন প্লেয়ার বাজে খেললতো আর কোন কথাই নেই। আবার তার মাঝে যদি ম্যাচ হারে তবে তাকে গালি দিয়ে যেন ঢেকে ফেলে।

আবার সেই গালি শুধু সোশ্যাল মিডিয়া বা খেলার মাঠের ভিতরে বন্দি নয়। মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে দেখা মিলে। সেখানে বিচার বিশ্লেষণ করা হয় না। অবাধে চলে গালি। ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, শিক্ষিত-অশিক্ষিতদের মাঝে। যেমন ধরুন, চা দোকানে কোন একজন মালিক শ্রমিককে বলল, পানি আনতে এত দেড়ি হয়(….)। সেখানে গালি না দিয়ে যদি তাকে বুঝিয়ে বলে দিত তা হলেই হয়।

আমাদের সমাজের অনেক বিষয় নিয়ে গালি দেয়া হয়। সে সব বিষয় আর নাই বললাম, এবার ইতি টানার পালা।

আমরা আমাদের সমাজকে সুন্দর করতে এবং সুষ্ঠু সমাজ গড়ে তুলতে সবার সাথে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সুন্দর আচরন করি। একে অপরকে সম্মান করি। সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।

 

মোঃ আবু নোমান ভূইয়া

বার্তা সম্পাদক

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম

Comments are closed.

LATEST NEWS