খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই : মওদুদ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট ।। বিএনপি নেতা ও প্রবীন আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দুর্নীতির মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হলেও ‘আপিলের চুড়ান্ত নিষ্পত্তি না পর্যন্ত’ তার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য হচ্ছেন বলে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘উনি (খালোদ জিয়া) নির্বাচন করতে পারবেন কী পারবেন না- এটা কি আইনমন্ত্রী ঠিক করবেন? যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে বিষয়টা আদালতে গড়াবে। তখন সুপ্রিম কোর্টই সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কী পারবেন না।’

আপিলের চুড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মতে তিনি পারেন। কারণ, এটার বিরুদ্ধে আপিল হবে। সুতরাং সর্বোচ্চ আদালতে চুড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটা বলা যাবে না যে, তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন।’

‘আমরা মনে করি যতদিন পর্যন্ত চুড়ান্ত নিস্পত্তি না হবে ততদিন পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। জামিন এবং নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।”

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যায়িত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নিম্ন আদালত যেহেতু সরকারের নিয়ন্ত্রণে, সেই জন্য একটার পর একটা রায় দেওয়া হচ্ছে সংবিধান লঙ্ঘন করে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হলো তা আইনসম্মনত হয়নি। সাক্ষ্য-প্রমাণ ভিত্তিক হয়নি। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন।’

রায়ের কপি হাতে পেলে রোববার আপিল করা হবে জানিয়ে প্রবীন এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা আজকে চেষ্টা করছি রায়ের কপি পেতে। যে কোনোভাবে আমাদের আইনজীবীরা অপেক্ষা করছেন। যতক্ষণ লাগে, রাত হলেও থাকবে সেখানে। আমরা সেটি পেলে রোববার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ফাইল করে জামিন চাওয়া হবে।’

জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘তারপরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাকে রায় দিয়ে সাজা দেওয়া হলো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে আছে বিচার হতে হবে ইন পাবলিক বা উন্মুক্ত। কিন্তু এই বিচার উন্মুক্ত হয়নি। কারণ অনেক আইনজীবীকে ট্রায়ালে যেতে দেওয়া হয়নি। সুতরাং কখনো আমরা এটিকে পাবলিক ট্রায়াল বলে স্বীকার করবো না। এটি সংবিধানের একটি লঙ্ঘন। মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করেছে। আজকে তো গণমাধ্যমকেও সেখানে যেতে দেয়নি। কেন? এটি প্রমান করে মামলাটি নট অ্যা পাবলিক ট্রায়াল।’

‘এই মামলায় ভুয়া কতগুলো কাগজ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কোনো সই নাই, ঘষামাজা করা হয়েছে। এই নথিগুলো রাষ্ট্রপতির লেটার হেডে দিয়েছে তারা। রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা তো ১৯৮১ সালে আমাদের দেশে শেষ হয়ে গেছে। তারা এতো নিচে মেনে গেছে যে, ভুয়া-জাল কাগজ দিয়ে তার ওপর ভিত্তি করে এই রায় দেওয়া হয়েছে’, বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.

LATEST NEWS