সেলফি ও তার কিছু কথা!

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মোঃ আবু নোমান ভূঁইয়া।।  সেলফি জিনিসটাই অদ্ভুত। যা নিয়ে মেতে উঠেছে পুরো দুনিয়া। তবে এটা আমরা সবাই জানি সেলফি তোলার প্রধান বাহন হচ্ছে মোবাইল। মোবাইল দিয়ে নিজের প্রতিকৃতি নিজে তুলা। কার সেলফি কত জনপ্রিয় করতে পারে তা নিয়ে চলছে প্রতিযোগীতার মহড়া। বিশ্বের সব সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে সেলফি ঝড়। কে কত বেগে ছুটতে পারে এই জগতে। একজন আরেক জনের সাথে পাল্লা দিয়েই চলেছে।

প্রথমেই সেলফি সম্পর্কে কিছু ধারনা নেয়া যাক, সেলফি শব্দটি ইংরেজী শব্দ সেলফিস থেকে এসেছে। যার অর্থ প্রতিকৃতি, আত্ম-প্রতিকৃতি বা দল আলোকচিত্র।

বলা যায়, ডিজিটাল ক্যামেরা বা ক্যামেরা ফোন ব্যবহার করে নিজের প্রতিকৃতি নিজে তোলাকে বলা হয়ে থাকে সেলফি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর দিকে তাকালে বলা যায়, নিজের প্রতিকৃতি তোলার সময় মুখটাকে বাকা করে মাথাটা হালকা নিচের দিকে ঝুলে কপালটা ভাজ করে মোবাইলের বাটনে ক্লিক করার নাম সেলফি।

১৮৩৯ সালে একজন মার্কিন অগ্রণী আলোকচিত্রী রবার্ট কর্ণিলিয়াস প্রথম নিজের একটি আত্ম-প্রতিকৃতি ধারণ করেন। এর পর ১৯০০ সালে এটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তবে সেলফি শব্দটি ২০০২ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ান এক অনলাইন ফোরামে (এবিসি অনলাইন) প্রথম ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে এটা অন্যান্য অনলাইনে ছড়িয়ে পরে।

বতর্মানে যে যত বেশি বিপদজনক সেলফি তোলতে পারে সে বেশি জন প্রিয়। কিছু সেলফির কথা তুলে ধরা যাক। যেমন, সাধারন সেলফি- কিছু বন্ধু নিয়ে আড্ডা হচ্ছে সেখানে সেলফি, কোন ধরনের অনুষ্টান সেখানে সেলফি, কোন বিশেষ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত সেখানেও সেলফি, কিছু হোক আর নাই হোক একটা সেলফি তুলতে হবে।

আবার কিছু বিপদজনক সেলফি- বহুতলা ভবনের উপর উঠে, চলন্ত ট্রেনের সামনে, বিষাক্ত সাপকে নিয়ে, পাহাড়ের চূরায় দাঁড়িয়ে ইত্যাদি।

কিছু অভূত সেলফি- যার দেখা মিলে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে, পেইজে অথবা কারো টিমলাইনে। তা হলে- কাউকে রক্তদান কালে, কোন রোগী দেখতে গিয়ে, করব খনন কালে, কোরবানির পশু জবাই কালে, আবার এই পশুর উপরে বসেও, মৃত ব্যক্তিকে করব দেয়ার পূর্বে ইত্যাদি। সেলফি তোলতে বেশি আগ্রহী মেয়েরা তবে ছেলেরাও পিছিয়ে নয়।

এই সেলফি তোলে কেউ হচ্ছে জনপ্রিয় আবার কেউ পরছেন সমালোচনার মুখে-

২০১৬ সালে অক্টোবর মাসে সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা মোঃ বদরুল আলমের চাপাতির কোপে আহত কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে দেখতে গিয়ে সেলফি তুলেছিলেন তিন নেত্রী। পরে ছবিটি ফেসবুকে ছাড়েন তারা। তখনই সেই সেলফি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে ফেসবুকে।

আরেকটি মজার ঘটনা হলো আসামি ছিনতাই করতে এসেও সেলফি। কিছু দিন আগের ঘটনা গত জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ জাতীয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন কদম ফোয়ার মোড়ে পুলিশভ্যানে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে মজার ব্যাপার হলো আসামি ছিনতাই শেষে সেলফি তোলার হিড়িক জমিয়েছিল হামলাকারীরা।

সেলফি যে শুধু সমালোচনা, ভাইরাল হচ্ছে তা কিন্তু নয়। এ সেলফি ডেকে আনছে মৃত্যু। তবে এ মৃত্যু হওয়ার পিছনে কারণ হলো ঝুঁকিপূর্ণ আচরন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে এমনি একটি ঘটনা ঘটে যুক্তরাজ্যের পর্ব সাসেক্সের একটি দর্শনীয় স্থান কুকমিয়ের হ্যাভেন। সেই স্থানটা বেশ খাড়া এবং ঢাল। দক্ষিন কোরিয়ান এক পর্যটক সেখানে ঢালের খুব কিনারে গিয়ে ছবি তোলতে গিয়ে পা পিছলে নিচে পড়ে মৃত্যু হয়।

এ ধরনের অনেক ঘটনাই ঘটছে প্রায় সময় যা অপ্রত্যাশিত। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মার্চ থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত সেলফি তোলতে গিয়ে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়ছে।

বার্তা সম্পাদক 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া