কালাজ্বর নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮ ৭:৩০ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য ।। কালাজ্বর বাংলাদেশে একটি শতাব্দীরও পুরোনো একটি রোগ হলেও এটি নিয়ে মানুষের মাঝে প্রত্যাশিত মাত্রায় সচেতনতা নেই। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার অধীনে প্রায় সকল ধরণের বাহক বাহিত রোগ নিয়ে কর্মসূচি রয়েছে। তন্মধ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, চিকনগুনিয়া এবং কালাজ্বর অন্যতম। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে কালাজ্বর নির্মূল করার লক্ষ্যে জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচী (এনকেইপি) বাংলাদেশের সকল কালাজ্বরপ্রবণ অঞ্চলে কাজ করছে।

এখনো বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ বা সাধারণ মানুষ কালাজ্বর সম্পর্কে জানেন না, এটির কারণ হলো এটি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বা মহামারী আকারে নেই বললেই চলে। তবে এটি নির্মূলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি বড় বাঁধা।

কালাজ্বর নিয়ে অধিকাংশ চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে বিস্তর যে অভিজ্ঞতাটি বিরাজমান সেটি হলো, সোডিয়াম স্টিবুগ্লুকোনেট (এসএসজি) ইনজেকশনের মাধ্যমে কালাজ্বরের চিকিৎসা। প্রায় মাসব্যাপী এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ইনজেকশনের ব্যাথায় রোগীর হাসপাতাল থেকে পালানোর ইতিহাসও অনেকের জানা। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উদ্ভাবনী গবেষণার মাধ্যমে আবিস্কার করা সম্ভব হয়েছে যে, একদিনের চিকিৎসায় কালাজ্বর নির্মূল করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এর  পরজীবি ও কালাজ্বর বিজ্ঞানীগণ কালাজ্বরের চিকিৎসায় বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়েও মাত্র দশ মিনিটের একটি আরডিটি আরকে৩৯ স্ট্রিপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে একক মাত্রার লাইপোসোমাল এম্ফোটেরিসিন বি (এ্যাম্বিসম) ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসার সফল উপযোগিতা ও সাধ্যায়ত্ত অবস্থা গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে।

যেটির অভাব এখনো বিদ্যমান, সেটি হলো কালাজ্বরের মতো প্রাণঘাতী রোগের সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা যে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  বিনামূল্যে পাওয়া সেটি অনেকাংশে অজানা, সেই সাথে নেই কালাজ্বরের বাহক বেলেমাছি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যক্তিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ, আরও অবগত নয় যে, দ্রুত সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনার মাধ্যমে যে মৃত্যু ঝুঁকি পর্যন্ত রোধ করা যায়।

তবে বিশেষত কালাজ্বরপ্রবণ এলাকার ক্ষেত্রে ‘দুই সপ্তাহের বেশী জ্বর, সম্ভবত কালাজ্বর’ বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণের করার মাধ্যমেও এ ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

 

লেখক : সুমিত বণিক, জনস্বাস্থ্যকর্মী, ঢাকা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া