উন্নয়নের জন্য নৌকায় ভোট দিতে হবে : রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী

এবং উদ্বোধন করলেন ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহী প্রতিনিধি ।। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলার মানুষ কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। যে উন্নয়ন করছি তা অব্যাহত থাকতে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আপনারা হাত উচিয়ে ওয়াদা করুন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক সরকারি মাদ্রাসা মাঠে  আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

এর আগে বিকেল ৩টা ৫০মিনিটে জনসভায় যোগ দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নাম ফলকের ভিত্তিপ্রস্তরের উন্মোচন ও উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের উদ্বোধন করে তিনি জনসভা মঞ্চে যোগ দিয়েছেন। ৩টা ৫৫ মিনিটে জনসভা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন তিনি এবং মঞ্চে ওঠে জনতাকে হাত উচিয়ে অভিবাদন জানান।

বৃহস্পতিবার পৌনে ৪টার দিকে জনসভাস্থলে পৌঁছে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধান করেন। প্রধানমন্ত্রী যে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেছেন তার মধ্যে রয়েছে– ১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পুঠিয়ায় বারনই নদীতে রাবারড্যাম নির্মাণ, ২ কোটি ৮৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে রাজশাহী (নর্থ) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ, ১ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নওহাটা ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউট নির্মাণ। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের ৫ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, শহীদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজের ৫ তলা একডেমিক ভবন নির্মাণ, দামকুড়া হাট কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আড়ানী ডিগ্রি কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, তানোর আব্দুল করিম সরকার ডিগ্রি কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, বাগমারা কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, বিড়ালদহ কলেজের ৪ তলা
একাডেমিক ভবন নির্মাণ, রাজশাহী মহানগরীর নবনির্মিত ৮টি থানা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী যে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তার মধ্যে রয়েছে- ১ হাজার ৫০০ কোটির টাকা
ব্যয়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, প্রায় ৯১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাশিয়াডাঙ্গা ও মেহেরচণ্ডীতে জিআইএস বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ, প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি মহিলা কলেজের ৬তলা ভিত বিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস নির্মাণ, বড়াল নদীর ওপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, গোদাগাড়ী ও চারঘাটে ভূমি অফিস নির্মাণ, মাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ।

উদ্বোধন শেষে মঞ্চে উঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার আমলে তাদের ক্যাডাররা আওয়ামী
লীগের অনেক নেতাকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। শিবির ক্যাডাররা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাত- পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিভাবে মানুষ কষ্ট করেছে আমরা দেখেছি। এই রাজশাহীতে তারা আপনাদের দিয়েছিলো লাশের উপহার।

তিনি বলেন, আমরা জনগনের স্বার্থে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করেছি তারা সেটিকে পুড়িয়েছে। পুলিশ সদস্যকে রাস্তায় পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আন্দোলনের নামে বাসে পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে। এভাবে মানুষ হত্যা করে কোন রাজনীতি করছে বিএনপি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে মানুষ অভয়ে চলতে পারতো না, ঘর থেকে বের হতে পারতো না। রাজশাহীকে তারা ত্রাসের নগরীতে পরিণত করেছিল। তাদেরই সৃষ্টি বাংলা ভাই। তারা দেশের উন্নয়ন করতে পারেনি, করেছে বোমাবাজি। বিএনপি-জামায়াত যেখানে সন্ত্রাস কায়েম করে, আওয়ামী লীগ সেখানে জনগণের জন্য উপহার নিয়ে আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামীলীগ জনগনের উন্নয়নের কথা ভাবে। জনগনের উন্নতির জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমুলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে বাংলার মানুষকে উপহার দিয়েছে। বিএনপি জামায়াত সরকার দেশবাসীকে লাশ উপহার দিয়েছে। এই রাজশাহীর ছাত্র শিক্ষক থেকে শুরু করে আমার দলের নেতা কর্মিদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। শুধু তাইনা বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই এলাকার ছোট্ট শিশুকেও গণধর্ষণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেছেন। তার জন্য তাকে কারাদন্ড দিয়েছে। এতিমের উপর অন্যায়কারীকে মুক্তি দেবার জন্য বিএনপি নেতারা এখন নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছে। অন্যায়ের পক্ষে এ আন্দোলন দিয়ে বিএনপি কি বোঝাতে চায়।

বিকাল সাড়ে চারটার সময় আজান শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য বন্ধ রাখেন। তিনি বলেন, এখন আজান হচ্ছে, আজান শেষ হলে আমি শুরু করবো। এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই একবার জিজ্ঞেস করেন, ‘আজান দিচ্ছে?’ তখন প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে নেতাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে আবারও বক্তব্য শুরু করে

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য দেন- আওয়ামী
লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক,প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুজ্জামান শেখর, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আকতার জাহান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নূরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

জনসভা শেষে বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরবেন।

Comments are closed.