মুক্তকলাম - মার্চ ২, ২০১৮ ৭:১৭ অপরাহ্ণ

তরুণ সমাজ অবক্ষয়ের দিকে যাওয়ার কারণ কি ইন্টারনেট?

নুরুচ্ছালাম গালিব।।  আজকের তরুণরাই আগামী দেশ ও জাতির কর্নধার। তরুণরাই পারে শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে দেশকে স্বপ্নের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। তাইতো সুকান্ত ভট্রাচার্য বলেন,  “পথ চলতে এ বয়স যায়না থেমে এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে” আজ এই তরুণরা নিজের পথ নিজে বেচে নেয়। যাদের মাতা-পিতা সচেতন ছেলে-মেয়ের খেয়াল রাখে। সেই তরুণরাই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে।

বর্তমান যুগে ছেলে-মেয়েদের খারাপের কারণ আমরা শুধু ইন্টারনেটকে দোষারোপ করলে চলবেনা। পাশাপাশি পরিবার, আর্থিক, সামাজিক কারণে ক্ষতির দিকে যাচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করলে যে শুধু অবক্ষয় হয়না তা সহজে লক্ষণীয়। এর মাধ্যমে বই পড়া, পত্রিকা পড়া এবং নানা ধরনের প্রশ্নউত্তর জানা যায়। তরুণরা এখন বাবা-মায়ের অসতর্কতার কারণে বন্ধুদের কাছথেকে শিখে নেয় কিভাবে ইন্টারনেট চালাবে, কিভাবে মাদক গ্রহণ করবে, কিভাবে গেইমস খেলবে? তাই আমরা ধরতে পারি তরুণদের অবক্ষয়ের দিকে যাওয়ার কারণ ইন্টারনেট দায়ী নয়।

ইন্টারনেট ব্যবহারে লাভ ও ক্ষতি ঃ বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সাড়া জাগানো আলোচিত বিষয় হলো ইন্টারনেট। সরকারি-বেসরকারি , অফিস-আদালতে, ব্যবসা-বানিজ্যে, পড়ালেখা, গবেষণা, ছবি, ভিডিও, ফেসবুক, টুইটার, ই-মেইল সহ নানা কাজে এর ব্যবহার অতি প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দিয়েছে। এটা নিজে কোনা মন্দ বস্তু নয়। যেভাবে চালানো যায়, সেভাবে চলে। নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনায়াসেই বা অজান্তেই এর এমন সাইটগুলোতে প্রবেশের পথ জানতে পারে, আবার কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রবৃত্তির তাড়নায় এর অপব্যবহার করতে পারে, যা তার জন্য নৈতিকতা বিরোধী ও ক্ষতিকর।

পারিবারিক কারণে অবক্ষয় ঃ  পিতা-মাতা দুজনেই চাকুরী করে। তারা বাসা থেকে স্কুলে বা মাদ্রাসায় চলে যায়। সেই ফাকে ছেলে বন্ধুর সাথে মাদকগ্রহণ করে, বিভিন্ন ধরনের নেশা করে। ফলে সে অবক্ষয়ের দিকে যায়।

আর্থিকতার কারণে অবক্ষয় ঃ  বাবা-মা নিয়মিত ছেলেকে টাকা না দিতে পারলে সে আর পিতা-মাতার কথা শুনেনা। যেমন, সুন্দর কিছু দেখলে মন চাহিলো কিনবে। কিন্তু পিতাকে বললে আর্থিক অনটনের কারনে দিতে পারেনা। ফলে সে খারাপের দিকটি বেচে নেই। ছুরি করে হলেও এটি কিনবে। বা পিতা-মাতা গরিব। ছেলে সহপাঠীদের সঙ্গে চললে তারা টাকা দিয়ে একটি বই কিনল। সে দেখে আপসোস কিরে, যে আমার টাকা থাকলে আমিও কিনতাম। এ কারণে পিতা-মাতা ত্যাগ করে খারাপের দিক বেচে নেই। যার মাধ্যেমে টাকা কামানো যায়।

আমাদের দেশে কিছু সাংস্কৃতিক ও নাটক, চালচিত্র রয়েছে। বিশেষ করে এখন টিভিতে যে সিরিয়ালেত নাটক দেওয়া হয়। তা ছেলে-মেয়েদের মানসিক দিক দিয়ে ক্ষতির সৃষ্টি হয়। এজন্য আজকাল তরুণ প্রজন্ম দিন দিন বেরে যাচ্ছে। তাই, ইন্টারনেট ব্যবহারে তরুণরা ক্ষতির দিকে যায়না। বরং পিতা-মাতার সচেতন না থাকার কারনে ক্ষতির দিকে যাচ্ছে।

উপরে উল্লেখিত বিষয় লক্ষ্য করে আমরা পাই, তরুণরা ইন্টারনেটের কারণে অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছেনা। পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিক, মৌলিক চাহিদা, বন্ধু বান্ধবের সাথে চলাফেরার কারণে অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, পিতা-মাতার উচিত সন্তানকে তাদের হাত থেকে ছেড়ে না দেওয়া। এবং যেভাবে লালন-পালন করলে অবক্ষয়ের দিকে যাবেনা, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হিবে।এভাবে পারে একটা সন্তানকে তার মা-বাবা দেশও জাতির ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তুলতে।

লেখকঃ- শিক্ষার্থী (নবম শ্রেণি) হয়বতনগর কামিল মাদরাসা, কিশোরগঞ্জ।