বগুড়া-১ আসনে তৎপর আ’লীগ-জাপা, কৌশলে বিএনপি

এম নজরুল ইসলাম (বগুড়া) ও শিবলী সরকার (সারিয়াকান্দি) ।। সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসন। এ আসনে আওয়ামী লীগের একমাত্র সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান সাংসদ ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান। তিনি পরপর দুইবার এই আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ফলে তার বিকল্প কোনো দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীও নেই এই আসনে, এমনটাই দাবি করেছেন দলের দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে জিতে হ্যাটট্রিক করতে চান আব্দুল মান্নান এমপি।

এই আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সম্ভাব্য প্রার্থী দুইজনই দলটির কেন্দ্রীয় নেতা। তারা দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণসংযোগে তৎপর। সাংগঠনিকভাবে ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনে নতুন করে তৎপরতা দেখা গেছে। বগুড়া-১ আসনে অস্তিত্ব বিপর্যয়ে থাকা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম বেড়েছে। এই আসনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জিএম বাবু মন্ডল।

তবে এই আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। আসনটি পুনরুদ্ধারে কৌশলে প্রচারণায় নেমেছে প্রার্থীরা। লিফলেট, পোষ্টার, ফেস্টুনসহ উঠান বৈঠক, কর্মীসভা, গনসংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইন পত্রিকায় ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি নেতারা। ধর্মীও প্রতিষ্ঠানে অনুদান, সামাজিক সংগঠনে সহায়তা ও অসহায় ছিন্নমুল মানুষের পাশে দাড়িয়ে আলোচনায় এসেছেন বগুড়া জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকাস্থ জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী রফিকুল ইসলাম, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শোকরানা ও সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আহসানুল তৈয়ব জাকির।

সরেজমিনে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা ঘুরে সাধারন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা যোগ্য প্রার্থী চান। সেটি যে দলেরই হোক। দল প্রার্থী মনোনয়নে ভুল করলেও ভোটাররা প্রতীক বিবেচনা করবে না। এই আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

ভোটাররা বলছেন, আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংসদ আব্দুল মান্নান তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যেকারণে এই আসনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও নির্বাচিত হয়ে হ্যাটট্রিক করতে পারেন বলে সম্ভাবনা মন্তব্য করেন ভোটাররা। তবে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৃনমুলে যোগাযোগ বৃদ্ধি করায় দলটির নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। আওয়ামীলীগের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে চান জাপার প্রার্থীরা। এছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা আসনটি পনরুদ্ধারে কৌশলে মাঠ গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

Comments are closed.