রকিবুলের সেলফি এখন শুধুই স্মৃতি

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
মার্চ ১৩, ২০১৮ ৮:২২ অপরাহ্ণ
ইমরান হোসেন আপন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ।। বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনদের নেপালে বেড়াতে যাওয়ার খবর আগেই জানিয়েছিলেন রকিবুল হাসান ঝন্টু ও ইমরানা কবির হাসি দম্পত্তি । বাসা থেকে বের হয়ে বিমানবন্দরের দিকে রওনা হওয়ার পথে তুলে ফেললেন এক সেলফি, বিমানে উঠার আগে আরও গোটা কয়েক সেলফি তুলে আপলোড দিলেন ফেসবুকে। কিন্তু কে জানতো কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে তাদের সেই ছবিগুলো সব স্মৃতি হয়ে যাবে!
নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উরোজাহাজের যাত্রী ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসি ও তার স্বামী সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিনানই গ্রামের মৃত রবিউল ইসলাম মাষ্টারের ছেলে রকিবুল হাসান।
রকিবুল ঢাকায় অবস্থিত শিফালো বাংলাদেশ লিমিটেড নামক একটি প্রাইভেট কোম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরি জীবনের নানা কর্মব্যাস্ততা দূরে রেখে ১৫ দিনের জন্য নেপালে বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এ দম্পতি। কিন্তু তার আগেই তাদেরকে বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হলে গুরত্বর আহত হন ইমরানা কবির হাসি, তিনি এখন নেপালের কাঠমুন্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি অবস্থান করছেন বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাদের স্বজনেরা। হাসির বেচে থাকার ক্ষীন সম্ভাবনা থাকলেও না ফেরার দেশে চলে গেছেন তার জীবন সঙ্গী রকিবুল হাসান ঝন্টু। দুর্ঘটনার পর পরই তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দূর্ঘটনার খবর শোনার পর থেকে কান্নায় জর্জরিত হয়ে ভেঙ্গে পড়েছে রকিবুলের বৃদ্ধা মা ঝর্না বেগম (৫০) ও তার আত্মীয়-স্বজনেরা। শোকের মাতম চলছে পুরো এলাকা জুরে।
খবর পেয়ে চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম নিহত রকিবুলের গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া