প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে পৃথিবী ছাড়লেন ফাহিম!

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
মার্চ ২৮, ২০১৮ ৫:২৫ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ ।। প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে পৃথিবী ছেড়েছেন ফাহিম শাহারিয়ার সৌরভ। আত্মবিশ্বাসী আর হাসিখুশি ফাহিম মানুষকে খুব সহজেই বিশ্বাস করতেন। আবার ঠকতেনও মানুষের কাছেই। সেই বিশ্বাসই ফাহিমকে নিয়ে গেছে মৃত্যুর কাছে। মা মারা গেছেন দেড় মাসও হয়নি। এরই মধ্যে প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে পৃথিবী ছাড়লেন তিনি।

ফাহিম শাহরিয়ার সৌরভ কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ছড়াকার, শিশু সাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক জাহাঙ্গীর আলম জাহানের ছেলে। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে তার নিজের বিষয়ে লেখা আছে ‘মানুষকে অল্পতেই বিশ্বাস করি ধোঁকা খাই, তারপর বোকার মতো আবার মানুষকে বিশ্বাস করি।’

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেডের ৩ নাম্বার সড়কের নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন ফাহিম। রাজধানীতে মৃত্যুর পর মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) নিজের বাড়ি কিশোরগঞ্জে তার লাশ নিয়ে আসা হয়। এশার নামাজের পর কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকার শামছু ভূঞা মসজিদে জানাজার নামাজ শেষ করে মসজিদের পাশেই মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ফাহিম শাহরিয়ার সৌরভ পেশায় একজন প্রকৌশলী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটিতে যোগ দেন। এছাড়া মডেলিংও করতেন তিনি। এর সুবাদেই নওরিনের সঙ্গে পরিচয়। নওরিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল তার। নওরিন মডেলিংয়ের পাশাপাশি একুশে টেলিভিশনে নিয়মিত অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ফাহিমের মা রাশেদা আক্তারের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আম্মু মারা যাওয়ার পর থেকে আমার দুনিয়াটা অনেক ছোট হয়ে গিয়েছিল। আমার ভবিষ্যৎ চাওয়া-পাওয়া বলতে যা ছিল, আজ তাও আমাকে ছেড়ে চলে গেলো। স্বপ্ন দেখার মতো কিছু নেই। আমার জন্য এতদিন যিনি মিডিয়াতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, আজ থেকে তার পথের কাঁটা সরে গেলো। দোয়া রইলো তার জন্য, উনি যেন সুপারস্টার হন, তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক চারিদিকে –এই কামনাই করি।’

নিহত ফাহিম শাহরিয়ার সৌরভ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ‘যদি কখনও কাউকে কোনও প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকি তার জন্য স্যরি, ক্ষমা করে দিবেন সবাই। শেষ কথা হচ্ছে আমার জন্য কেউ যেন কাউকে দোষারোপ না করে, আমি যা করেছি আমি আমার নিজের চিন্তা ভাবনায় করেছি। আল্লাহ হাফেজ। ভালো থেকো দুনিয়ার মানুষেরা।’

এর আগে ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৪৩ মিনিটে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ছোট স্ট্যাটাস দেয় ফাহিম। এতে লেখা ছিল- ‘প্রিয় কষ্ট, চল আমরা দু’জনে মিলে আত্মহত্যা করি।’

এদিকে ফাহিমের মৃত্যুতে শোকে কাতর তার পরিবার ও এলাকাবাসী। জাহাঙ্গীর আলম জাহানের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ফাহিম ছিল বড়। স্ত্রী বিয়োগের দেড় মাসেরও কম সময়ের বড় একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ফাহিমের বাবা। পরিবারে কান্না থামছে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া