“ধর্ষণ ও লিঙ্গ নিরপেক্ষতা “

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
এপ্রিল ৬, ২০১৮ ৭:৩০ অপরাহ্ণ
মুক্তকলাম ।। “ছেলেরা মেয়েদের ধর্ষণ করে শারীরিকভাবে, আর মেয়েরা ছেলেদের ধর্ষণ করে মানসিক ভাবে উভয় ক্ষেত্রেই ধর্ষিত/ধর্ষিতা নিঃশেষিত হয় চরমভাবে। এই জগতে হয়তো শারীরিক ধর্ষণে বিচার পাওয়া যায়, কিন্তু মানসিক ধর্ষণের কোন বিচার নেই। এই ধর্ষণ রয়ে যায় নিরবে নিভৃতে।”
কি আজব! ধর্ষণ বলতে শুধু মেয়েদের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াকেই বুঝি।আমরা কি কখনো বোঝার চেষ্টা করেছি কোন ব্যাক্তির শারীরিক, মানসিক কিংবা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াকে ধর্ষণ বলা হয়?
সে ক্ষেত্রে নারী আর পুরুষে তফাৎ কোথায়?
এজন্য মূলত বেছে নেয়া হয় অনেকটা নম্র,ভদ্র,মার্জিত স্বভাবের নিরীহ প্রকৃতির মানুষদের যারা ইচ্ছের বিরুদ্ধে করা অসামাজিক কাজের জোরাল প্রতিবাদ করতে পারেনা। বিভিন্নভাবে মায়ার জালে ফেলে তাদের ঋণী করা হয়। তখন সুযোগ বোঝে কৌশলে চরিতার্থ করে মনের কালো বাসনা।
ধর্ষণের শিকার ছেলেটি বিষয়টিকে সযত্নে লুকিয়ে রাখে।প্রেমের নামে দিনের পর দিন ধর্ষণের শিকার  হয়ে আসা ছেলেটি সে কথা লজ্জা, ঘৃণা আর অপমানে কারো কাছে প্রকাশ করতে পারে না। যে সমাজ মনে করে ধর্ষণ একটি মেয়ে সম্পর্কিত ব্যাপার সে সমাজে ধর্ষনের ধর্ষণের শিকার হওয়া ছেলেটি নিজেকে ছেলে হিসেবে ভাবতে কষ্ট হয়। লিঙ্গভেদে হতে পারে তার বিপরীত চিত্র, সেটি ঘটতে পারে কোন মেয়ের ক্ষেত্রে ও।
এভাবে ধর্ষণের শিকার হওয়া ছেলেটি তিলে তিলে মানসিক ভাবে নিঃশেষ হয়ে যায়।মা-বাবা কিংবা সমাজ হয়তো কেউ বিষয়টি বোঝতে পারে না, না হয় বোঝার চেষ্টা করেনা। সমাজ হয়তো সেদিন  বোঝতে পারে যে দিন প্রিয়জন নিরুপায় হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। হ্যাঁ,আমি আমি অতিসম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে অাদনানের অাত্নহত্যার কথা বলছি। কয়েক মাস আগে আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়া একজন ফটোগ্রাফারের কথা বলছি। রাজনৈতিক নেতার পুত্র হওয়ায় দেশের সব পত্র পত্রিকায় খবরটি ছাপা হলে ও আত্মহত্যার কারণটি ছাঁপা হয়নি আত্বসম্মানের ভয়ে । এভাবে গ্রামে, শহরে, পাড়া মহল্লায় হাজারো আদনান ধর্ষণের শিকার হয়ে অাত্নহত্যার পথবেছে নিচ্ছে।প্রতিনিয়ত চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয় মুখ গুলো।২০০৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ টির আত্বহত্যার মধ্যে অন্তত ১০ টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে মানসিক ধর্ষণের শিকার হয়ে।
তবুও আমাদের ঘুম ভাঙ্গে না। আমরা নিরব থাকি। আর নিরবে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ কে সমর্থন দিয়ে যাই।

 

লেখক: অভিজিৎ সরকার
অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments are closed.