ছাতকে ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষকরা

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
এপ্রিল ১২, ২০১৮ ৮:০৬ অপরাহ্ণ

আরিফুর রহমান মানিক, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ।। ছাতকের সর্বত্র এখন বোরো ধান কাটার ধুম পড়েছে। কৃষকরা এখন ক্ষেত থেকে পাকা ধান সংগ্রহ করতে ধান কাটা আর মাড়াই-ঝাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে চলতি মৌসুমে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে গিয়ে শ্রমিক সংকটের কারণে অধিকাংশ কৃষককেই সীমাহিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একেতো গত বোরোর মৌসুমে অকাল বন্যায় ধান তুলতে না পারা তারওপর এ মৌসেুমে ধানের ভাল ফলন হলেও শ্রমিক সংকটের কারনে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে বিলম্ব হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে এখানকার কৃষকদের।

সরজমিনে উপজেলার ১৩ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার মধ্যে জাউয়াবাজার, দোলারবাজার, ভাতগাঁও, দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড়সহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ধানের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সেখানকার কৃষক এবং শ্রমিকরা মিলে বেশ প্রফুল্লিতভাবে মাটে ধান কাটছেন। কেউ কেউ মাড়াই-ঝাড়াই সেই সঙ্গে হাওর থেকে নিরাপদ স্থানে ধান আনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই আবার ধান কেটে ফেলেছেন। কারও কারও ধান আধপাকা থাকায় এখনো কাটা শুরু হয়নি। এখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও মাড়াই-ঝাড়াইসহ বিভিন্নকাজে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। সিংচাপইড় ইউপির সিংচাপইড় গ্রামের সোনারতাল হাওরের কৃষক আবদুল হান্নান জানান, এ মৌসুমে আমি ৪বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ধানে পোকামাকড়ে তেমন আক্রমণ না করায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে মাঝে মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হলেও শিলা বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। আরেক কৃষক আবদুস শহিদ (লাদু মিয়া) জানান, চলতি মৌসুমে আমি ৪বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে ২ বিঘা জমির ধান কাটাতে শুরু করেছি। বাকি ২ বিঘাতে পাকতে শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর ৫ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়ে আগাম বন্যার কারণে ১ বিঘা জমির ধানও তুলতে পারিনি। একারণে এ মৌসুমে ধান কাটতে গিয়ে মনে দেরি সইছে না। গত ক’দিন ধরে ধান কাটার শ্রমিক খোঁজে না পেয়ে তিনি একাই ২ বিঘা জমির ধান কাটছেন বলে জানান। জয়নাল আবেদীন, মো. আবদুল্লাহ ও আবদুল হান্নান নামের অপর একাধিক কৃষক জানান, এখানে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট রয়েছে। অতিরিক্ত মজুরী দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তারা অধিক পরিমাণে মজুরী চাইছে। এতেকরে এখানের অনেকেই সঠিক সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক জানান, চলতি বোরোর মৌসুমে উপজেলায় ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে। এবারে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো উপজেলার কৃষকরা আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া