চিরিরবন্দরে ইরি-বোরো ধানের শীষ দেখে মহাখুশি কৃষক

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
এপ্রিল ২২, ২০১৮ ৮:১০ অপরাহ্ণ

এস.এম.নুর আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ।। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি- বোরো ধানের শীষ ইতিমধ্যে বের হতে শুরু করেছে। জমিতে শীষ দেখে কৃষকের এক চোখে যেমন ভাল ফলন হবে এমন বুকভরা সোনালী স্বপ্ন, ঠিক তেমনি অন্য চোখে ফুটে উঠছে আতংকের ছাপ। মৌসুমের শুরুতে চারদিকে বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে শীল বৃষ্টির কারণে কৃষকদের চোখে-মুখে আতংক দেখা দিয়েছে। তবে সামনে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চাইতে ধানের অনেক বেশি ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষিবিদরা।

কৃষকরা ইরি-বোরো ধান রোপন করেছেন সঠিক সময়ে চারা লাগানো, নিবিড় পরিচর্যা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় এবং মাঠ পর্যায়ে থাকা উপজেলা কৃষি অফিসার সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে ফলন ভালো হবে বলে মনে করেছেন এলাকার কৃষকরা।

কিন্তু মৌসুমের শুরুতে কয়েক দিন ধরে কালবৈশাখীর ছোবল, বাতাস ও বৃষ্টিপাতের সাথে পাল্লা দিয়ে শীল পড়ার কারণে চরম আতংক রয়েছেন কৃষকরা।

যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধু ধানের শীষের অপরুপ সমাহার। ইরি বোরো ফসলের মাঠে যেমন বাতাসের দোলা খাচ্ছে তেমনি ধানের শীষ। ধান শীষের দৃশ্য তা দেখে মহাখুশিতে কৃষকের মনে দোলা দিচ্ছে এ যেন ভিন্ন আমেজ। কিন্তু কৃষকরা দুশ্চিন্তা আছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করলেও তাদের মনে ভয় জাগছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি।

কিন্তু এবার ইরি বোরো আবাদে তেমন কোনো রোগবালাই আক্রান্ত হয়নি। কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরিচর্যা করায় এখন ধান গাছে বড় বড় শীষ বের হয়ে যাচ্ছে আর বাতাসের দোলা। আর কৃষকদের মন আনন্দে দুলছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা।

চিরিরবন্দর সরকারপাড়ার কৃষক ওসমান গনি বলেন, ব্যাহে ধান দ্যাখাই মনটা মোর খুশিতে ভরিয়া গেইছে। তবে তাদের মনে দুর্যোগ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আতংক বিরাজ করছে। পলাশবাড়ী বোর্ডস্কুলের কৃষক শহীদুল্লাহ বলেন, এবার ধানের শীষ দেখে মনত হ্যামার হেলে দুলে ন্যাচা শুরু হয়ে গেছে, বন্যায় হয়াতে ভাল ধান হইছে এতো খুশি ক্যোন্না থোমো ব্যাহে। আব্দুল ইউনিয়নে চৌধুরীপাড়া গ্রামের কৃষক আবুতাহের বলেন, আমি চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছি। বর্তমানে ধানের অবস্থা দেখে খুব ভাল লাগলেও শিলা বৃষ্টির কারণে চরম আতংকে রয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ১৭ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে উফশী এবং ১ হাজার ৬৮৪ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার গড় লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমি। কৃষকরা কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী আবাদ করায় ইরি বোরো খেতে রোগবালাই কম থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: মাহমুদুল হাসান জানান, কৃষি অফিসের জোরালো তদারকি, কৃষকদের সঠিক পরিচর্যা এবং রোগ বালাইয়ের তেমন প্রকোপ না থাকায়, জমিতে আলোক ফাঁদ এবং বোরোতে ক.ি… ও গাছের ডাল পুঁতে পাখি দিয়ে পোকা-মাঁকড় দমনে কৃষকদের উৎসাহিত করার কারণে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে অনেক বেশি ফলনের আশা করেছেন তিনি। তিনি আরোও জানান, ইতি মধ্যেই প্রায় ৫০% জমির ধানের শীষ বের হয়েছে। যদি আগামীতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তাহলে ব্যাপক লাভবান হবেন এ উপজেলা কৃষকরা।

Comments are closed.

LATEST NEWS