অষ্টগ্রাম ১ মন ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
এপ্রিল ২৯, ২০১৮ ৯:২৩ অপরাহ্ণ

মন্তোষ চক্রবর্তী (অষ্টগ্রাম) কিশোরগঞ্জ ।।  কিশোরগঞ্জ হাওড় উপজেলা অষ্টগ্রাম পাশ্ববর্তী অঞ্চলে বোর ধান কাটার পূরো মৌসুমে মজুর সংকট মারাত্মক আকার ধারন করেছে। বারছে মজুরী মুজরের অভাব। এ কারনে অঞ্চলের শত শত কৃষক তাদের হ্রাস পাঁকা ধান কেটে বাড়িতে আনতে পারবে কি না এ ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্ষন শীলা বৃষ্টি বজ্রপাত ইত্যাদি ভয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে আগত হাজার হাজার ধান কাটার মজুর কাজ ফেলে বাড়িতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারি বর্ষন ও শীলা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাব না মাইকে ঘোষনার পর আতংক উৎকণ্ঠার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হাওড় গুলিতে পাঁকা ও কাঁচা ধান রেখে বহিরা গত মজুরেরা বাড়ি যাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। একমাত্র বোর ফসল উৎপাদনের উপরেই এ অঞ্চলের ৮৫ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জীবকা নির্বাহ করে। উৎপাদিত বোর ধানে স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরন করে প্রায়ই ৮০ভাগ ধান জাতীয় খাদ্য বান্ডারে সঞ্চিত হয়ে থাকে। এ ধানে চাঁরা রোপন ও ধান কেটে এনে কৃষকদের বাড়িতে গোলা জাত করতে স্থানীয় কৃষি মজুরের সংকুলান হয় না। ফলে রংপুর, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, ঠাকুর গাঁও ইত্যাদি অঞ্চল থেকে হাজার মজুর এসে মজুরি নিয়ে কাজ করেন। ধান মৌসুমেই বহিরাগত মজুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। গত বছর এ অঞ্চলে বিভিন্ন উপজেলা ৫০থেকে৯০ বরো ফসল অকাল বন্যায় বিনিষ্ট করে। তার পর সারা বছর সরকারি ভাবে খাদ্য হিসাবে চাল নগদ টাকা এবং কৃষি পুর্নবাসনে বীজ সার টাকা ইত্যাদি দেওয়ার ফলে কৃষকেরা কোন ভাবে জীবন রক্ষা করে এ বারের ফসল ফলায় অন্যান্য বছরে তুলনায় হাওড় গুলোতে দেড় দ্বিগুন ফসল হয়েছে। মাঠ গুলো যেমনি ছিল সুবজের সমারুহ তেমনি সোনালীতে পূর্ন হয়ে গেছে স্থানীয় ও বহিরা মজুরা ধান কাটতে শুরু করে। ইতি মধ্যে মাঝে মধ্যে ঘুড়ি ঘুড়ি বৃষ্টি বজ্রপাত হলেও বিপুল উদ্যমে ধান কাটতে থাকে। অনেক কাঁচা ও পাঁকা রাস্তা ট্রাক, মিনি ট্রাক ধান বুঝাই করে বারি যানবাহন চলাচলের ফলে বহু রাস্তা ও সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে কৃষকেরা জমি ধানে স্তোপ সৃষ্টি করেছে। ইতি মধ্যে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে কৃষকদের মধ্যে আলাপ করে জানা গেছে কোন কৃষক অর্ধেক আবার কোন কোন স্থানে তার থেকে কম বেশী ধান কাটা হয়ে গেছে। এই মুর্হুতে উপজেলা প্রশাসন কৃষি অফিস এলাকার মাইকে কৃষক উদ্দেশ্যে ঘোষনা করে মে মাসের প্রথমেই বারি বর্ষন শীলা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তাই সবাই ধান কেটে ফেলুন। এই ঘোষনার সাথে সাথে সর্বত্র আতংক উৎকন্ঠা মারাত্মক ভাবে বারতে থাকে। প্রতিদিন শত শত বহিরা গত মজুর এলাকা ছেরে বাড়ি যেতে শুর করে। এবং মজুর সংকট মারাত্মক আকার ধারন করে। কৃষকেরা মাঠ থেকে ধান বাড়িতে এনে ঘোলা জাত করতে প্রতিনিয়ত হিম সীম খাচ্ছে। মজুরি অস্বাবিক ভাবে বারছে। আদমপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান এই মুর্হুতে উপজেলা প্রশাসন কৃষি অফিস এলাকার মাইকে কৃষক উদ্দেশ্যে ঘোষনা করে মে মাসের প্রথমেই ভারি বর্ষন শীলা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তাই সবাই ধান কেটে ফেলুন। এর পর থেকেই ক্রমাগত ভাবে মজুরেরা প্রথম দিকে প্রতি একর জমি ধান ৪ হাজার টাকা ও মধ্যে ৬ হাজার টাকায় কাটত। উপজেলা এখন ৮ হাজার টাকায়েও মজুর পাওয়া যায়না। তিনি আরও বলেন আমি আমার ধানই এখনো কাটাতে পারিনি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এ বছর ২৪১৪০ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে অনাবাধি রয়েছে ১০৭০ হেক্টর।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া