ঋণগ্রস্থ শত শত কৃষক : অষ্টগ্রামে ধানের মন ৫শ টাকা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
মে ৩, ২০১৮ ৮:৫১ অপরাহ্ণ

মন্তোষ চক্রবর্তী, (অষ্টগ্রাম) কিশোরগঞ্জ ।। কিশোরঞ্জর হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে প্রতি মন ধান ৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে ধান কেটে ঘরে আনা এবং মৌসুমের আবাদ জীবন যাত্রার খরচ নির্বাহ করতে ঋণের জর্জরিত শত শত কৃষক পরিবার এভাবে ফড়িয়া বেপারীদের নিকট ধান বিক্রি করছে। সরকারি ভাবে এ উপজেলার ক্রয়কেন্দ্রে ধান সরবরাহ শুরু না হওয়ায় এ সমস্যা মারাত্নক আকার ধারন করছে। অভিজ্ঞ কৃষকদের দাবী গত বছরে ফসল বিনষ্ট হওয়ার ফলে হাওর অঞ্চলে কৃষকেরা চরম বিপন্ন। এবং এবার দেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে হাওর অঞ্চলের প্রতিটি উপজেলাতে জরুরী ভিত্তিতে ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি কৃষকদের নিকট হইতে ধান সরবরাহ শুরু করা হোক। এক ফসলী বোরো উৎপাদনী হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের ৮৫ ভাগ মানুষ একমাত্র বোরো ফসল উৎপাদনের উপর জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বর্ষায় ৬ মাস এ উপজেলা জন মানুষের কোন কর্মসংস্থান না থাকায় সংখ্যা গরিষ্ট মানুষই শ্রমজীবি খেটে খাওয়া শ্রমিক। এছাড়াও এ উপজেলা আবাদী ভূমি ৮০ ভাগের মালিক মাত্র ১৪ ভাগ মানুষ। ফলে এ উপজেলায় ছোট মাঝারি কৃষক প্রান্তিক ও বর্গাচাষী সর্বোপরি কৃষি মজুদ এর সংখ্যাই বেশি। এরা কৃষি উৎপাদনের খরচ দিয়ে সারা বছরের ভাত কাপড়ের সংস্থান হলেই খুশি। গত উৎপাদন মৌসুমে এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অকাল বন্যায় ৭০ থেকে ৯০ ভাগ ফসল বিনষ্ট করে। ফলে বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হাহা কার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় সরকারি ভাবে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে উপজেলা চাল, নগদ টাকা এবং কৃষি প্রণোদনা সার, বীজ নগদ টাকা দিলে জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কৃষকদের পূর্ববতী বছর গুলো বিভিন্ন সরকারি ব্যাংক, এনজিও ছাড়াও লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা মহাজনি ঋণের সাথে এবারেও ঋণ করতে হয় বলে জানান। আবাদের শেষ পর্যায়ে বাম্পার ফলন হলে এ ধান কেটে বাড়িতে আনতে শুরু তরে। সেই মুর্হুতে ঝড় বৃষ্টি ব্রজপাত ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুযোর্গ বৃদ্ধি পেতে থাকে। কাচা ও পাকা সড়ক ভেঙ্গে কাদা ও গর্ত সৃষ্টির ফলে ট্রাক, মিনি ট্রাক, ট্রলি, মহিষ ও গরুর গাড়ি দিয়ে হাওর থেকে কাটা ধান বাড়িতে আনতে নানা ভাবে বাধাগ্রস্থ হতে থাকে এবং ভয় ও আতংকে বহিরাগত মজুরেরা চলে যাওয়া ধান কাটা মজুর সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে উঠে ধান কাটা মারাই ও পরিবহন খরচ। কৃষকদের টাকা পয়সা ও চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এদের বুক ভরা আশা ছিল ফসল কেটে সবঋণ পরিশোধ করবে। কিন্তু ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই টাকার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫০০ টাকা মন ধরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। অষ্টগ্রামের কৃষক দুলু মিয়া , ছমেদ মিয়া, বাংগালপাড়ার মইধর, কলমার সুধাংশু দাস,আদমপুরের মতিলাল, খয়েরপুর আব্দুল্লাপুরের কৃষক আঃ গফুর সহ অসংখ্যা ছোট মাঝারি ও প্রান্তিক চাষী জানান ঋণ ও খরচের দায়ে মুখের গ্রাস ধান পানির দামে বিক্রি করে দিচ্ছি। সকল ঋণ পরিশোধ হচ্চে না সবচেয়ে মারাত্নক ঋণ এনজিও গুলির সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক কিস্তি পরিশোধ। এবার আমাদের বাচাঁ ও ঋণ পরিশোধের সামথ্য হারিয়ে গেছে। কয়জন ফরিয়া ও বেপারী জানান আশুগঞ্জ ভৈরব বাজার চাতলপাড় ইত্যাদি আড়তে আমরা ধান বিক্রয় করি। আড়তে ধান রাখার ঠাই নেই। শত শত ধান বুঝায় নৌকা আড়তে ঘাটে অপেক্ষা করছে। ধান বিক্রি করতে পারছে না। এ ব্যাপারে অষ্টগ্রাম বাংগালপাড়া এলএসডি গুডাউনের ওসি মোঃ দুলাল মিয়া জানান আমার এখনো ধান সংগ্রহের চিঠি পাইনি। পাওয়ার সাথে সাথে ধান সংগ্রহ শুরু করবো। অভিজ্ঞ শত শত কৃষকের দাবী দেশের উত্তর পূর্বা লের প্রতিটি উপজেলায় ক্রয়কেন্দ্র গুলিতে জরুরী সরাসরি কৃষকদের নিকট হইতে ধান সংগ্রহ শুরু করা হোক। অন্যথায় হাওর অ লে কৃষকদের জীবন রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

Comments are closed.

LATEST NEWS