তাকওয়া অর্জনে রোজার ভূমিকা

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
মে ২৯, ২০১৮ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

হাফেজ শিব্বীর আহমেদ ।। অবারিত রহমত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারো আগমন করেছে সিয়াম সাধনার মাস; মাহে রমজান। সময় এসেছে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করে গন্তব্যে  পৌঁছবার। মু’মিন ব্যক্তি সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে ধৈর্য, সহিষ্ণুতা,  ও বিনম্র স্বভাব গঠন করে দেহ ও মনকে  কুরিপু থেকে মুক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করে। সে উপকারিতায় প্রতি বছর এক মাস সিয়াম পালন করা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকিয় করা হয়েছে।

আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন: ” হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রমযানের রোযাকে ফরয করা হয়েছে,যেমনি ভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, এজন্য ফরয করা হয়েছে , যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার”(সূরা বাক্বারাহ:১৮৩) । এই আয়াতে “যেন তোমরা তাকওয়া  অর্জন করতে পার” অংশটুকুতে  রোযার উদ্দেশ্যকেই মূলত ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি কাজের পেছনে একটি মহৎ উদ্দেশ্য থাকে,আর সিয়াম পালনের প্রধান উদ্দেশ্য হল তাকওয়া তথা খোদাভীতি অর্জন করা।

এই ব্যাপারে ইসলামী চিন্তাবীদ আল্লামা আইনী র. বলেন, পাশবিকতার কারণে মানুষ দোযখের দিকে ধাবিত হয় বিধায় রোযার উদ্দেশ্য হলো পাশবিক শক্তির কামনা বাসনাকে দমন করে ব্যক্তিকে তাকওয়াবান করে তোলা। তাকওয়া অর্জনের এ মাসে একজন রোজাদার সব সময় আল্লাহর স্মরণে  থাকে। কোন প্রকার অশ্লীলতা,ঝগড়া বিবাদের প্রতি হাত বাড়াতে ভয় পায়, কেননা, তা তাকওয়ার পরিপন্থি।

এ প্রসঙ্গে হাদীস শরিফে রাসূল সা. এরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ” সাওম ব্যতিত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু রোযা আমার জন্য। তাই আমিই তার প্রতিদান দিব। রোজা ঢাল স্বরুপ। তোমাদের  কেউ যেন  রোযা পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া বিবাদ না করে।যদি তাকে গালি দেয়া হয় তাহলে সে যেন বলে আমি একজন সায়িম”(বুখারী:১৭৮৩)।

বরকতময় মাহে রমজানে অমাদের ওপর অর্পিত হয়েছে বিশাল দায়িত্ব। সুযোগ এসেছে পশুত্বের গুণ বর্জন এবং মানবীয় গুণ অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে তাকওয়াবান ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলার।তাকওয়া অর্জনের লক্ষে সিয়াম পালনকারী দীর্ঘ এক মাস সারাদিন ব্যাপী যাবতীয় পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকে।

সুন্দরী স্ত্রী কাছে থাকা সত্ত্বে আল্লাহর ভয়ে দিনের বেলায় সঙ্গম করা থেকে নিজেকে দূরে রেখে আল্লাহর আনুগত্যের বহি:প্রকাশ ঘটায়।এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরঅানে এসেছে “রোযার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের  স্ত্রীদের সাথে সঙ্গম করা হালাল করে দেয়া হলো।তারা তোমাদের পোশাক স্বরুপ  এবং তোমরা তাদের পোশাক স্বরুপ।আল্লাহ জেনে গেছেন যে, তোমরা নিজেদের খেয়ানত করেছিলে।অত:পর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমার মনস্থ  করলেন এবং পাপ মিটিয়ে দিলেন। অতএব, এবার তোমরা তাদের সাথে সহবাস করতে পার।আর আল্লাহ তোমাদের  জন্য যা লিপিবব্ধ করে রেখছেন তা অন্বেষণ কর এবং কালো রেখা হতে ফজরের শুভ্ররেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠা পর্যন্ত পানাহার কর।অতপর তোমাদের রোযাকে  রাত পর্যন্ত পূর্ণ কর” (সূরা বাক্বারাহ:১৮৭)।

আ’ল্লাহর কাছে মর্যাদার ভিত্তি হলো তাকওয়া। আর শয়তানী শক্তি ও কু-প্রবৃত্তি অনুসরণ তাকওয়া অর্জনের মূল অন্তরায়। তাই রহমতের এ মাসে শয়তানকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয় মুওাকী হওয়ার।রাসূল (স)এরশাদ করেন “রমযান মাসে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়”(মসলিম:২৩৬৬, বুখারী:১৭৭৮)।

রোযার মাধ্যমে মানুষের মনে খোদাভীতি সৃষ্টি হয়।দীর্ঘ একমাস সকল প্রকার হারাম বস্তু থেকে নিজেকে দূরে রেখে বাকী এগারো মাসের জন্য এবাদত গ্রহণ করার প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে।তাইতো এবাদতে মনযোগী  করার লক্ষে  রাসূল (স) বলেন “যে ব্যক্তি, লাইলাতুল ক্বদরে ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করবে তার পিছনের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আর যে বক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে,তার ও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়”(বুখারী:১৭৮০, ইবনে মাজাহ:১৬৪১)।

অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসূল (স) বলেছেন “যে ব্যক্তি, রমযান  মাসে একটি সুন্নাত বা নফল আদায় করবে সে অন্য মাসের ফরয ইবাদতের সমান সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি, এই মাসে একটি ফরয আদায় করবে সে অন্য মাসের সওরটি ফরয আদায়ের সমান সওয়াব পাবে”(বায়হাকী, সহীহ ইবনে খুযায়মা)।

তাকওয়া অর্জনের এ বরকতময় মাসে সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে কুরিপুর তাড়না হতে পরিত্রান পাওয়ার ফলে লোভ লালসা, কামনা বাসনা, ক্রোধ, নেশা, মিথ্যা ও অশ্লীলতার চর্চা থেকে  পবিত্র হয়ে তাকওয়াবান ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।মাহাত্ন্যপূর্ণ ও বরকতময় মাহে রমযানে ধৈর্য সহিষ্ণুতা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করে মুত্তাকী হওয়াই হোক সিয়াম পালনের প্রধান উদ্দেশ্য।

 লেখক: খতিব, কয়ারখালী বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, কিশোরগঞ্জ

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া