মাহে রমজানের হাদিয়া

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
মে ৩০, ২০১৮ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

জহিরুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ।। আল্লাহর কাছে সম্মানের এক মাত্র মানদন্ড হলো তাকওয়া।আর রমজান মাস এসেছে তাকওয়া শিক্ষা দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন: ” হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রমযানের রোযাকে ফরয করা হয়েছে,যেমনি ভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, এজন্য ফরয করা হয়েছে , যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার” (সূরা বাক্বারাহ:১৮৩)।

আরবী ১২ মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান মাস।  আর এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো রমজান মাস কুরআন নাযিলের মাস।  আল্লাহ তাআলা বলেন ” রমজান মাসই হলো সেই মাস যাতে নাযিল করা হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশক। আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে “( সূরা বাকারা : ১৮৫ ) ।.

 মাহে রমজানের মর্যাদা এত বেশি যে, প্রত্যেকটা ঈমানদার নারী -পুরুষ যাতে এ মাসের পূর্ণ কল্যাণ অর্জন করতে পারে, সে জন্য  মহান আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে তালাবদ্ধ করে রাখেন।  হাদীস শরীফে রাসূল (সা) বলেন,  যখন বছর ঘুরে রমজান মাস আগমন করে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং শয়তান ও অবাধ্য জিনসমূহকে বন্দি করে দেওয়া  হয় “( বুখারী : ১৭৭৮, মুসলিম : ২৩৬৬ ) ।

তাকওয়া অর্জনের এ মোবারক মাসে মুমিনদের ওপর অর্পিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, সৃষ্টি হয়েছে পুণ্য অর্জনের বিশাল সুযোগ এবং প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে মহান চরিত্র অর্জনের সুন্দর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। আর এই রোজা রাখার মাধ্যমেই গুনাহের কাফফারা আদায় হয় এবং অগণিত সাওয়াব অর্জন হয় ।

হাদীস শরীফে রাসূল  (সা.) বলেন ” যে ব্যক্তি এ মাসে কোন নফল আদায় করিল, সে যেন রমজানের বাহিরে একটি ফরজ আদায় করিল। আর যে এই মাসে একটি ফরজ আদায় করিল, সে যেন অন্য মাসে ৭০ টি ফরজ আদায় করিল ” ( বায়হাকী, সহীহ ইবনে খুযাইমা ) ।  অপর এক বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের সকল ( সগীরা) গুনাহ মাফ করে দিবেন। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে তারও পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতে কাটাবে তারও পূর্বকৃত সমুদয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে “( বুখারী: ১৭৮০,  ইবনে মাজা:১৬৪১ ) ।

যে ব্যক্তি কষ্ট করে  রমজান মাসের রোজাগুলো আদায় করবে, কঠিন হাশরের ময়দানে সেই ব্যক্তির জন্য রোজা সুপারিশ করবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল  (সা.) বলেন, ” রোজা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে, রোজা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি তাকে খাদ্য ও কাম প্রবৃত্তি হতে দিনের বেলায় বাধা প্রদান করেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। কুরআন বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম হতে বাধা প্রদান করেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। ( রাসূল  সা. বলেন) অতঃপর উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে ” (মুসনাদে আহমাদ : ৬৬২৬) । রমজানের ফজিলত এত বেশী যে, শুধু তাই নয়, রোজা রাখার মাধ্যমে জান্নাতও লাভ হয়। হযরত সাহল বিন সা’দ (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল বলেছেন -” জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়ান’। ঐ দরজা দিয়ে কেবল  রোজাদারগণই প্রবেশ করবে ” ( বুখারী: ১৭৭৫)। রোজাদার ব্যক্তি কে আল্লাহ তাআলা এত বেশি ভালবাসেন যে, রাসূল (সা.) বলেন ” নিশ্চয়ই  রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহ তাআলার নিকট মেশকে আম্বরের  সুগন্ধি হতেও অধিক পছন্দনীয় ” (বুখারী, মুসলিম) ।

রোজাদার ব্যক্তির সবচেয়ে বড় আনন্দ ও প্রাপ্তি হলো আল্লাহ তা’আলা তাকে নিজ হাতে পুরস্কৃত করবেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল  (সা) বলেন, “(রমজান মাসে) আদম সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব দশগুণ হতে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন রোজা এর ব্যতিক্রম। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান (যত ইচ্ছা) প্রদান করবো “( বুখারী:১৮০৫ , ইবনে মাজা:১৬৩৮)। সকল ইবাদত আল্লাহর জন্যই হয়ে থাকে।  তা সত্ত্বেও আল্লাহ তা’আলা রোজাকে বিশেষভাবে নিজের জন্য খাস করেছেন, এর কারণ সম্পর্কে কাজী আয়ায (র) বলেন, প্রত্যেক ইবাদতের মধ্যেই রিয়া বা লোক দেখানোর সম্ভাবনা আছে। কিন্তু রোজার মধ্যে কোনো  রিয়ার সম্ভাবনা নেই। কল্যাণের এ মোবারক মাসে আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকেই তাকওয়া অর্জন এবং রমজানের পূর্ণ হক আদায় করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

 লেখক : খতিব, চরপলাশ বায়তুল আমান জামে মসজিদ পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ।

Comments are closed.