রাত পোহালেই ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু

স্পোর্টস রিপোর্ট ।। মস্কোর আকাশের শুভ্র মেঘগুলো অবিরাম ছুটে চলবে। মস্কোভা নদীর স্রোতও থাকবে বহমান। অন্য দিনগুলোর মতো সেখানে চলবে নানা প্রমোদতরী। হাজার হাজার মানুষের স্রোত চলতে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশটির রাজধানী শহরেও; কিন্তু থেমে যাবে মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কয়ারে টিকটিক করে চলতে থাকা দর্শনীয় ঘড়িটি।


থামবে না কেন? এটাতো নির্দিষ্ট একটা সময়ে থমকে যাওয়ার জন্যই বানিয়েছিল রাশিয়া সরকার। সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছিল বিশ্বকাপকে সময়ের স্রোতে এগিয়ে নিয়ে আসা ডিজিটাল ঘড়িটিকে। বৃহস্পতিবার মস্কোয় বিকেল ৬টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) বাজলেই যে এ ঘড়ির কার্যকারিতা শেষ। ঘড়ি থামার ঘণ্টা বাজিয়ে দেবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ, ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর। রেড স্কয়ারের কাউন্ডডাউন ঘড়িটি যে সবচেয়ে বেশি ডাকছে বিশ্বকাপকে!

মস্কো এখন বিশ্বকাপের শহর। দেশটির অন্যতম প্রধান ভেন্যু লুঝনিকি স্টেডিয়াম তৈরি বিশ্বকাপের কিক অফের বাঁশি বাজাতে। আর তৈরি হয়ে আছে কোটি কোটি দর্শক। নিজেদের মতো করে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া দেশগুলো।

১১ শহরের ১২টি ভেন্যু। রাশিয়ার এই ১২টি ভেন্যুতেই ফুটবলযুদ্ধে নামবে বিশ্বের সেরা ৩২টি দেশ। সেই সেরাদের সেরা কে হবে? খেলাধুলার সবচেয়ে দামি ট্রফিটি উঠবে কোন দেশের অধিনায়কের হাতে? সেই সময়টা দ্রুতই তো চলে আসবে আগামী কালের পর থেকে। রাত পোহালেই যে শুরু হচ্ছে, গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বিশ্বকাপ ফুটবল!

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক রাশিয়া এবং ‘এ’ গ্রুপে তাদের এশিয়ান প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় রেফারির মুখে বেজে উঠবে কিক অফের বাঁশি। আর্জেন্টাইন রেফারি নেস্তর পিতানা পরিচালনা করবেন ম্যাচটি।

এই বিশ্বকাপের আয়োজন রাশিয়ার জন্য অন্য রকম চ্যালেঞ্জ। না, দল হিসেবে নয়। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তাদের নেই। সম্ভাবনাও নেই; কিন্তু তারা চ্যাম্পিয়ন হতে চায় আয়োজক হিসেবে। এর আগে ১৬টি দেশের সৌভাগ্য হয়েছে বিশ্বকাপ আয়োজনের। কোনো কোনো দেশ একাধিবার। প্রথমবার আয়োজক হয়ে অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য বাসনা রয়েছে রাশিয়া। দেশটির সরকার প্রধান ভ্লাদিমির পুতিনের।

Fifa-World-cup

আজ (বুধবার) মস্কোয় অনুষ্ঠিত ফিফার কংগ্রেসে পুতিন সারা বিশ্বকে স্বাগত জানান তার দেশে বিশ্বকাপকে উপভোগ করার জন্য। একই সঙ্গে এতবড় একটি আয়োজনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যও সারা বিশ্বের ফুটবল পরিবারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পুতিন বলেন, ‘এ ধরনের বড় একটি টুর্নামেন্টের আয়োজনের কাজ শুধু মাত্র স্বাগতিক দেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বিশাল পরিমাণে বিশেষজ্ঞছাড়া এত বড় একটি কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সারা বিশ্বের ফুটবল পরিবার যেভাবে উৎসাহ জুগিয়ে গেছে, এটা ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চান, যারা রাশিয়ায় বিশ্বকাপ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তাদের ভুল প্রমাণ করে দিতে। সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নে পুতিনকে যেন অবিরাম সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন আরেক ‘ভ্লাদিমির’- ভ্লাদিমির ইলিচ লেলিন। লুঝনিকি স্টেডিয়ামের সামনে লেলিনের সুবিশাল মূর্তি যেন হাত উঁচিয়ে জানান দিচ্ছে, তার দেশের বিশ্বকাপ হতে হবে সবার চেয়ে সেরা।

লুঝনিকি স্টেডিয়াম নিয়ে গর্ব করতে পারেন রাশিয়ানরা। গর্বের অনেক জায়গাও আছে। এখানেই লুকিয়ে রয়েছে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল। ২১তম বিশ্বকাপের ট্রফিটা তো এই স্টেডিয়ামের সাজানো-গোচানো পোডিয়ামই তুলে দেবে বিশ্ব বিজয়ী অধিনায়কের হাতে।


আরও পড়ুন

1 Comment

  1. I simply want to tell you that I am just newbie to weblog and certainly liked you’re website. More than likely I’m likely to bookmark your website . You definitely come with fantastic posts. Thank you for sharing your web site.

Comments are closed.