নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পদ্মা পাড়ের সৌন্দর্য

পাপন সরকার শুভ্র , রাজশাহী
জুলাই ৫, ২০১৮ ৫:৩১ অপরাহ্ণ

রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র পদ্মাপাড়। সারাদিন বিনোদনপিপাসু বিভিন্ন বয়সীমানুষের সমাগমে মুখরিত এ স্থানটি। কিন্তু পদ্মাপাড়ের অধিকাংশ এলাকা দখল করে এলাকাবাসী গোয়ালঘর নির্মাণ করেছেন। এছাড়া টিনের ঝুপরি ঘর তুলে সেখানে বসবাস শুরু করছেন। এর ফলে প্রশান্তির আশায় মানুষ নদীর পাড়ে এলেও পড়ছেন নানা বিড়ম্বনায়।

নগরবাসীর বিনোদনের কথা মাথায় রেখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নগরবাসীর বিনোদনের জন্য পদ্মাপাড়কে দৃষ্টিনন্দন করেছিলেন।  তিনি পদ্মারপাড়ে পঞ্চবটি, পদ্মা গার্ডেন, লালন শাহ মুক্তমঞ্চ, বড়কুঠি ও টি বাঁধের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করেছিলেন। পদ্মাপাড়কে সাজিয়ে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। টাইলস বসিয়ে তৈরি করা হয় মনোরম ওয়াকওয়ে। কিন্তু মাত্র চার- পাচঁ বছরের ব্যবধানে নদীর পাড় মনোরম সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। প্রশান্তির আশায় মানুষ নদীর পাড়ে এলেও পড়ছেন নানা বিড়ম্বনায়। এরই মধ্যে অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। কিন্তু এই নদীর তীর রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেখভালের দায়িত্ব রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের।

পদ্মাপাড় ঘুরে দেখা গেছে, লালন শাহ মুক্তমঞ্চের একটু দূরেই তৈরি করা হয়েছে গরুর খামার। বড়কুঠির পদ্মা গার্ডেনে জমি দখলে নিয়ে দোকানঘর ও টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এ টিনশেড ঘরের কারণে একদিকে পদ্মা গার্ডেনের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং অন্যদিকে দর্শনার্থীদের বসার স্থানগুলো থাকছে নোংরা আবর্জনায় ভরা। শুধু নগরবাসীই নন, রাজশাহীর বাইরে থেকে আসা লোকজনকেও টানে পদ্মার সৌন্দর্য। সবাই মনকে একটু প্রফুল্ল রাখতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে যান বড়কুঠির পদ্মা পাড়ে। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থী ও বিনোদন প্রেমী মানুষের ব্যাপক ভিড় থাকে। কিন্তু এসব স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে খুপড়ি ঘর। ঘরের কারণে পদ্মা গার্ডেনের সৌন্দর্যটাই এখন ম্লান। এখনো পদ্মা গার্ডেনে সবকিছু সাজানো-গোছানো থাকলেও গরুর খামার ও গুটিকয়েক টিনশেড ঘরের কারণে সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে খামারের মালিকরা বলেন বাড়ির সামনে পদ্নার ধার ফাকা জায়গা এখানে দিনে গরু বেধে রাখতে ভালো হয়। তাই গরু ওখানে রাখি। এরবেশি তারা কিছু বলতে চাননি এবং টিনের ঘর ব্যবহারিকারীরা কোনো কথা বলতেই রাজি হননি।

বড় কুঠি সংলগ্ন পদ্মা পাড়ে গড়ে উঠা টিনসেড ঘরে বসে বখাটেদের আড্ডা। আর স্থানীয়রা এবং দর্শনার্থীরা দাবি করছেন, সন্ধ্যার পরে ওইসব এলাকা দিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে যায়। কারণ ওই এলাকায় চুরি ছিনতাই সবকিছু হয়। পদ্মা গার্ডেনে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের দাবি টিনসেড ঘর সেখানে একেবারেই বেমানান। অন্যদিকে পদ্মা নদীর চরে অপ্রিতীকর ঘটনাগুলো যেসব বখাটেরা ঘটায় তার সাথে স্থানীয় কিছু বখাটে জড়িত। সুযোগ পেলেই তারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়।

দর্শনার্থীরা বলছেন, পদ্মা পাড় রাজশাহীর মানুষের বিনোদনের অন্যতম একটি প্রধান কেন্দ্র হলেও সেখানে কোন বাথরুম টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। যার কারণে সেখানে আসা দর্শনার্থীদের মাঝে মধ্যেই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়।
প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পদ্মা পাড়ে ঘুরতে আসা এক নারী বলেন, আমরা পরিবারসহ মাঝেমধ্যেই ঘুরতে আসি পদ্মা পাড়ে। কিন্তু ছোট বাচ্চারা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের টয়লেটের প্রয়োজন হলে সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যেতে হয় নতুবা বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। সেজন্য এখানে দর্শনার্থীদের জন্য একটি টয়লেট প্রয়োজন। এটি দর্শনার্থীদের জন্য বর্তমানে বেশি প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে।

আরেক ব্যক্তি বলে, পদ্মা পাড় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনের স্থান হলেও সেখানে কোন টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। এটা অবিশ্বাস্য! তাই অবৈধ দখল হয়ে যাওয়া টিনসেড ঘরটি তুলে দিয়ে সেখানে একটি বাথরুম-টয়লেট নির্মান প্রয়োজন।

পদ্মাপাড়ে ঘুরতে আসা নগরীর টিকাপাড়া এলাকার আমরান হোসেন বলেন, আমরা পরিবারসহ মাঝে মধ্যেই এখানে ঘুরতে আসি। বর্তমানে এ নদীর তীরে এসেই পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর অবস্থায়। শুধু পদ্মার পাড় নয়, রাজশাহীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মানুষ আর পদ্মাপাড়ে এসে বিনোদন পান না।

পদ্মা গার্ডেনে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের দাবি, পদ্মার পাড়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোর দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। দর্শনার্থীর জানান, দর্শনার্থী ও স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তার স্বার্থে পদ্মা পাড় এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো দরকার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া