ক্ষমার অযোগ্য গোনাহ ‘শিরক’

এস এম আরিফুল কাদের ।। মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর দাসদাসীদের ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হচ্ছে হালাল রিজিক ও শিরকমুক্ত ইবাদত। পৃথিবীতে পাপ নামক যত প্রকারের কার্যক্রম রয়েছে তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ও বড় পাপ হচ্ছে শিরক। শিরক সবচেয়ে বড় পাপ হওয়ার মূল কারণ হল এটা সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর অস্তিত্ব ও সত্তার প্রতি প্রভাব ফেলে। তাই ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি, বস্তু, শক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সত্তায় ও গুণাবলিতে, অধিকার ও মর্যাদায় অথবা ক্ষমতায় আল্লাহর সমান করাই হলো শিরক।

শিরক করতে যারা মানুষকে হুকুম দেয় অথবা বাধ্য করে তারা হলো তাগুত। শিরক ও তাগুত হলো হারাম ও কবিরা গুনাহ। তাগুত ও শিরিকের পরিণাম হলো আল্লাহর গজব, আজাব ও নিশ্চিত জাহান্নাম অর্থাৎ জান্নাত হারাম। কোরআনে কারিমের ভাষায়- “যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করেছে; আল্লাহ তাঁর ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। তার পরিণতি হবে জাহান্নাম। এ সব জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই”। (সুরা মায়িদা : ৭২)

শিরক মারাত্মক গোনাহ হওয়ায় আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রয়েছে অভিশাপ এবং ক্ষমা না পাওয়ার হুমকি। তাই পবিত্র কালামে ইরশাদ হচ্ছে- “অবশ্যই তাঁর সঙ্গে করা শিরকের গোনাহ ক্ষমা করবেন না। এছাড়া অন্যান্য যত গোনাই হোক না কেন, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করেছে সে তো এক বিরাট মিথ্যা রচনা করেছে এবং কঠিন গোনাহের কাজ করেছে”। (সুরা নিসা : ৪৮)

শিরকে মানবজাতির আমল ধ্বংস হয়ে যায়। যার কারণে কোনো আমলই আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হয় না। আর কবিরা গোনাহের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও ঘৃণিত পাপ হলো শিরক। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে শিরকমুক্ত ইবাদতই একান্ত প্রয়োজন। সুতরাং আমল নষ্টের ব্যাপারে সতর্ক করে মানবজাতিকে আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন- “(হে নবি সা.!) আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তী নবিদের প্রতি ওহি করা হয়েছে যে, যদি আল্লাহর সঙ্গে শরিক স্থাপন করেন, তাহলে আপনার সব আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবেন”। (সুরা যুমার : ৬৫)

আল্লাহর সাথে শরিক না করে ইবাদত করায় বান্দার জন্য রয়েছে পরম শান্তির স্থান জান্নাত। অপরদিকে শিরকযুক্ত ইবাদতে নিয়ে যায় কঠিন আজাবের স্থান জাহান্নামে। হাদিস শরীফে এসেছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে” (মুসলিম : ২৬৬৩)।

শিরকের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা) এর সতর্কতায় ইরশাদ রয়েছে। আম্মাজান আয়শা (রা) ও ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, নবি করিম (সা) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগকালীন যখন মৃত্যুর যন্ত্রণায় অস্থির ছিলেন সেই মহুর্তে বললেন, ইহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হউক, তারা তাদের পয়গম্বরগণের কবরকে মসজিদ রূপে ব্যবহার করে। এই বলে রাসুল (সা) স্বীয় উম্মতকে এই ধরণের অপকর্ম থেকে সতর্ক করেছেন। (বোখারি ও মুসলিম)

সর্বোপরি আকিদা বিশুদ্ধ করতে ক্ষমার অযোগ্য গোনাহ শিরক থেকে বিরত থাকা সকল মুসলিম নারী পুরুষের অবশ্য কর্তব্য। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মহানবি (সা) এর সুপারিশ পেতে প্রয়োজন নেক আমল কম হলেও তাতে শিরকের গন্ধ না থাকা। অন্যান্য সব ধরণের পাপ তওবার মাধ্যমে ক্ষমার দরজা খোলা আছে। কিন্তু মুসলিম হয়ে আল্লাহর সমকক্ষ করাটা মহান আল্লাহর সহ্যের বাহিরে। কিন্তু অন্যান্য বিধর্মীরা খালেসভাবে তওবা করে মুসলমান হলে বিগত জিন্দেগীর সকল পাপ ক্ষমা পেয়ে যাবে। আর এ ধারা অব্যাহত থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি স্বরুপ জান্নাত পাওয়া সহজ হবে। আল্লাহ আমাদের যাবতীয় পাপ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন!

লেখকঃ- আলেম, লেখক ও কলামিস্ট।


আরও পড়ুন

২ Comments

  1. I just want to tell you that I’m all new to blogging and honestly liked this website. Almost certainly I’m planning to bookmark your website . You certainly have terrific well written articles. With thanks for sharing your website.

Comments are closed.